মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ১০:১২ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
কুড়িগ্রামে গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজ চাষে সফল তিন তরুণ সোনাগাজীতে জাতীয় পার্টির পক্ষে ২শতাধিক ব্যক্তির মাঝে নগদ টাকা বিতরণ লক্ষ্মীপুরে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে হঠাৎ প্রতিবন্ধীর বাড়িতে হাজির ওসি জসিম উদ্দিন ময়মনসিংহের ত্রিশালে সাংবাদিক এনামুল ফাউন্ডেশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল করোনায় পরিবহন শ্রমিকদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে : আ ন ম শামসুল ইসলাম বিয়ে করার জন্য পাত্র খুজছেন তসলিমা নাসরিন ছাত্রীর স্ত”নে শিক্ষকের একাধিক বে’ত্রাঘা’ত, হা’সপা’তা’লে শিক্ষার্থী সাপাহারে ভিজিএফ’র তালিকা প্রস্তুতে অনিয়মের অভিযোগ করোনাকালীন শিক্ষা, আমাদের অর্জন ও ভবিষ্যত। ডোমারে শিশুদের মাঝে ঈদের পোষাক উপহার দিল সবার পাঠশালা গাইবান্ধায় বিশ্ব মা দিবস উদযাপন বজ্রপাত থেকে রক্ষা পেতে কৃষকের ছাউনি এক বোটায় ধরেছে ৭ লাউ! শিক্ষার্থীদের জন্ম নিবন্ধন অনলাইনে করার নির্দেশ ডিজিটাল বুথের মনিটরে ক্লিক করলেই মিলবে জমির খতিয়ান

করোনার ক্রান্তিকালে ভালো নেই আত্রাইয়ের মৃৎশিল্পীরা

নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি: বিশ্বব্যাপী
করোনার তান্ডব কোনোভাবেই থামছে না। প্রতিদিনই দীর্ঘ
হচ্ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর তালিকা। ফলে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস
(কোভিড-১৯) এর প্রভাবে ভালো নেই নওগাঁর আত্রাই উপজেলার
মৃৎশিল্পের কারিগররা।
আত্রাই উপজেলার ছোট যমুনা নদীর তীরবর্তী দাঁড়িয়ে থাকা
ভবানীপুর পালপাড়া যেন শিল্পীর তুলিতে আকাঁ একটি স্বর্ণালী
ছবি। এ উপজেলার ভবানীপুর, রাইপুর, মিরাপুর, সাহেবগঞ্জ, বহলা,
পাঁচুপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য
কুটিরের নয়নাভিরাম মৃৎ শিল্পীদের বাসস্থান। যা সহজেই যে কারোর
মনকে পুলকিত করে। আর এ করোনার প্রভাবে মৃৎশিল্প’র ঐতিহ্য
আঁকড়ে থাকা পাল বংশের লোকদের টিকে থাকা যেন কঠিন হয়ে
পড়েছে।
এক সময় এ গ্রামগুলিতে মৃৎশিল্প’র জৌলুস ছিল। এ শিল্পে
জড়িয়ে ছিল এখানের শতাধিক পরিবার। হাতে গোনা কয়েকটি
পরিবার কষ্টে-শিষ্টে তাদের পূর্ব-পুরুষদের এ পেশা ধরে রেখেছেন।
কিন্তু বর্তমানে করোনা ভাইরাসের কারনে সম্পুর্ণরুপে বন্ধ হয়ে
গেছে এ মাটির কাজ। তাই এই কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই
হতাশা হয়ে পড়েছে।
এক সময় উপজেলার এসব গ্রামসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার
পরিবারও প্রত্যক্ষভাবে এ শিল্পের সাথে জড়িত ছিল। পালরা খোলা,
হাড়ি, পাতিল, কলসি, ব্যাংক, পিঠা তৈরির ছাঁচ, পুতুলসহ
ছোট-ছোট খেলনা ইত্যাদি সব জিনিসপত্র তৈরি করত। এখানকার
তৈরি মৃৎশিল্পের অনেক সুনাম ও সুখ্যাতি থাকলেও এখন শুধুমাত্র
দধির পাত্র ও পিঠার খোলা তৈরি করে কোন রকমের জীবিকা নির্বাহ
করে আসছে। এ অঞ্চলে খোলা পাত্রের কদর বেশী রয়েছে।

একটি খোলা তৈরিতে মাটি ও পোড়ানো বাবদ প্রায় ৫ টাকা
খরচ হলেও তা বাজারে বিক্রি হয় ১০ টাকা। এর মধ্যেই রয়েছে শ্রম ও
মাল বহনের খরচ। ফলে লাভের মুখ তারা দেখে না। অথচ ঐ একটি খোলা
এক হাত ঘুরে বাজারে খুচরা ক্রেতা কিনছে ২০ থেকে ৩০ টাকা।
ফলে সহজেই অনুমেয় মূল মুনাফা চলে যাচ্ছে মধ্যস্বত্ব ভোগীদের
হাতে। ন্যায্য দাম না পাওয়ায় মৃৎশিল্পীরা এ পেশার প্রতি হতাশ। ফলে
স্বাভাবিকভাবেই বর্তমান প্রজন্ম এ ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের
প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে।
মৃৎশিল্পের নিপুণ কারিগরেরা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে এখন
অনেকটা অসহায় ও মানবেতর জীবন যাপন করছে। অনেক পুরুষ এ
পেশা ছেড়ে ভিন্ন পেশায় চলে গেছেন। মাটির তৈরি জিনিসপত্র
আগের মত দামে বিক্রি করতে পারছে না। মাটির এ সকল পাত্রের
চাহিদাও আগের মত নেই।
রাইপুর গ্রামের মৃৎশিল্পের কারিগর বিপব কুমার পাল বলেন, ‘লাভ
লসের হিসাব করি না। বাপ-দাদার কাজ ছাড়ি কি করি।
করোনাভাইরাসের ফলে আমাদের পেশায় অনেক প্রভাব পড়েছে।
‘পূর্বপুরুষের পেশা বাঁচিয়ে রাখতে গিয়ে করোনায় দ্রব্যমূল্যের
উর্ধ্বগতির বাজারে পরিবার পরিজন নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে
আমাদের।
এ ব্যাপারে উপজেলার ভবানীপুর পালপাড়া গ্রামের মৃৎশিল্পী
ধিরেন্দ্রনাথ পাল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নদী-খাল ভরাট হয়ে
যাওয়ায় এখন মাটি সংগ্রহে অনেক খরচ করতে হয় তাদের। এ ছাড়াও
জ্বালানির মূল্য বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ও বিক্রির সঙ্গে মিল না
থাকায় প্রতিনিয়ত লোকসান গুনতে হয় তাদের। তার মধ্যে আবার
করোনার প্রভাব পড়েছে এখন কাজ কর্ম সব বন্ধ আমরা এখন
অসহায় হয়ে পড়েছি।
এক কালের ঐতিহ্যের মাটির তৈরি বাসন, হাড়ি, পাতিল, কলসি,
ব্যাংক, পিঠা তৈরির ছাঁচ, পুতুল এখন প¬্যাস্টিকের দখলে। ফলে
উপজেলার শত বছরের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের জৌলুস আর নেই।
সরকারী পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এ শিল্প হারিয়ে যেতে বসেছে।

ঐতিহ্যের কারণেই মৃৎশিল্পকে টিকিয়ে রাখা দরকার বলে মনে করেন
উপজেলার সচেতন মহল।

Please Share This Post in Your Social Media


বঙ্গবন্ধু কাতরকণ্ঠে বলেন, মারাত্মক বিপর্যয়

বঙ্গবন্ধু কাতরকণ্ঠে বলেন, মারাত্মক বিপর্যয়

https://twitter.com/WDeshersangbad

© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design And Developed By Freelancer Zone