বৃহস্পতিবার, ০৬ মে ২০২১, ১২:০৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাছ কাটার প্রতিবাদে মানববন্ধন ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড় আসছে, ২ নম্বর সতর্কতা সংকেত করোনায় দেশে মৃত্যু ও শনাক্ত কমেছে কাল থেকে চলবে গণপরিবহন, মানতে হবে যেসব নির্দেশনা ৫০ হাজার টন চাল আসছে ভারত থেকে গণপরিবহনের জন্য বিআরটিএ’র ৫ নির্দেশনা পার্বতীপুরে হেরোইনসহ একাধিক মাদক মামলার এক আসামি গ্রেফতার গোদাগাড়ীতে বৃত্তি ও শিক্ষাপোকরণ বিতরণ বড়াইগ্রামে ৪ হাজার ২’শ জনকে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা ইউনাইটেড খানসামা’র উদ্যোগে দুঃস্থ ও অসহায় নারী-পুরুষের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ বাগেরহাটে মোরেলগঞ্জে সরকারিভাবে ২৭ টাকা কেজি দরে ধান ক্রয়ের উদ্বোধন ১৬ মে পর্যন্ত লকডাউন বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন চরম অর্থ সংকটে ভাড়াটিয়ারা, ভালো নেই বাড়িওয়ালারাও ৬ মে থেকে গণপরিবহন চালুর বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে যা আছে ঈদের ছুটিতে কর্মজীবীদের কর্মস্থলে থাকার নির্দেশ

‘খালেদা জিয়ার মতো নেতাকে জেলে নিয়ে পুরলে তোমার মতো নুরুকে খাইতে ১০ সেকেন্ড সময়ও লাগবে না’

রাজনীতি করতে এসে কি আমরা পাপ করলাম: নুর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি এবং বাংলাদেশ ছাত্র-যুব-শ্রমিক অধিকার পরিষদের সমন্বয়ক নুরুল হক নুরকে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

সোমবার (১২ এপ্রিল) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও নাগরিক সমাজ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

নুর বলেন, ‘আমাকে গুম করার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রতিনিয়ত হুমকি দেয়া হচ্ছে রাজনীতি ছেড়ে দেয়ার জন্য। এদেশে রাজনীতি করতে এসে কি আমরা পাপ করলাম? নাকি এদেশে জন্ম নেয়া পাপ?’

ডাকসুর সাবেক এই ভিপি বলেন, ‘মোদিবিরোধী বিক্ষোভ থেকে আটক অনেকেই এমন আছে যে তারা ছোটখাটো চাকরি করতো। কিংবা কেউ ছাত্র, সাধারণ মানুষ। তাদের অনেককেই ধরে নিয়ে গেছে। যেদিন আমাকে গুম করার অপচেষ্টা করা হয়েছিল, সেদিন আটক হয় মার্কেটিংয়ে চাকরি করে একটা ছেলে। সে আমার লাইভ দেখে সেখানে গিয়েছিল, সেই ছেলেটিও এখন কারাগারে। এরকম অসংখ্য নিরীহ নিরপরাধ মানুষকে শুধু একটা কারণে মামলা দেয়া হয়েছে। কারণ তারা মোদিবিরোধী প্রতিবাদ করেছিল এবং পরবর্তীতে আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘২৫ মার্চ গ্রেপ্তার করেছিল ৪০ জনের মতো। ২৭ তারিখে আমাদের ভাষানী অনুসারী পরিষদের শান্তিপূর্ণ প্রোগ্রাম ছিল। সেখান থেকে আমাদের আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমাকে গুম করার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রতিনিয়ত হুমকি দেয়া হচ্ছে রাজনীতি ছেড়ে দেয়ার জন্য। সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করার জন্য। রাজনীতি না করার জন্য।’

বাংলাদেশ ছাত্র-যুব-শ্রমিক অধিকার পরিষদের সমন্বয়ক নুরুল হক নুর বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনের সময়েও সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলাম, আমাকে হুমকি দেয়া হচ্ছে। ‘খালেদা জিয়ার মতো নেতাকে জেলে নিয়ে পুরলে তোমার মতো নুরুকে খাইতে ১০ সেকেন্ড সময়ও লাগবে না’- এমন কথাও শুনেছি। আমরা কি রাজনীতি করতে এসে পাপ করে ফেললাম, নাকি এদেশে জন্ম নেয়া পাপ? আমি বলছি আপনারা যদি প্রমাণ করতে পারেন, এই ছেলেগুলা সহিংসতার সঙ্গে জড়িত, আপনারা আমাকে ফাঁসি দিন, মেনে নেব।’

তিনি বলেন, ‘আমি বলতে পারি আমাদের পরিষদের কর্মীরা কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত না। সহিংসতা এড়াতে আমরা সেদিন কর্মসূচি দিয়েছিলাম পল্টনে। আমরা যখন জানতে পারলাম সেখানে ছাত্রলীগ-যুবলীগ সশস্ত্র অবস্থান নিয়েছিল, আমরা লোকেশন চেঞ্জ করে নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে মিছিল শুরু করি। আমাদের ইচ্ছা ছিল- একটা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দেখানো। আজ সরকার কারও কথা শুনছে না, কারও মতামত নিচ্ছে না। যে কারণে আজ দেশে এই অবস্থা।’

নুর বলেন, ‘আজ তারা প্রতিপক্ষকে কখনো জঙ্গি হিসেবে তুলে ধরছে, উগ্রবাদী হিসেবে তুলে ধরছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকলেও ধরে ধরে ছেলেগুলোর নামে মামলা দেয়া হয়েছে। যতবারই আমরা নমনীয় হতে চেষ্টা করেছি, সহিংসতা এড়াতে চেষ্টা করেছি, বারবারই আমরা রক্ষা পাই নাই। অনেকের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ছেলের বাবা-মাকে হুমকি দিচ্ছে, এর চেয়ে লজ্জার আর কী হতে পারে। দেশটা কি আজ তাহলে দুর্বৃত্তদের দখলে চলে গেছে? আমরা প্রধানমন্ত্রীকে বলবো- বর্তমান যে পরিস্থিতি, অতীত ভুলে যান। সবাইকে রাজনীতি করার, মিছিল মিটিং করার সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করেন। এটা আপনার প্রতি অনুরোধ।’

আটককৃতদের কারাগারে গুরুতর নির্যাতন করা হচ্ছে দাবি করে নুর আরও বলেন, ‘আমাদের গ্রেপ্তারকৃতদের সঙ্গে দেখা করে আমরা জানতে পেরেছি তাদের চোখে কাঁচামরিচ ভেঙে দেয়া হচ্ছে। অনেককে গোপনাঙ্গে ইলেকট্রিক শক দেয়া হয়েছে। কিশোর-মোশতাকের সঙ্গেও একই ঘটনা ঘটেছিল। কারাগারে নির্যাতন করার কি কোনো আইনি বিধিবিধান আছে? নখের মধ্যে পিন ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে যেন তারা রাজনীতি না করে। এইভাবে যদি মানুষকে নির্যাতন করেন, নিপীড়ন করেন, মানুষ রাজনীতি ছেড়ে দেবে। ছেড়ে দিয়ে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে বাঁচার জন্য যা প্রয়োজন সে তাই করবে। তখন কে কোন দিক থেকে আক্রান্ত হন সেটা বলা যাবে না। সুতরাং সামনে রমজান, মাস আমি অনুরোধ করবো আমাদের পরিষদের যাদের হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলখানায় আছে সবাইকে মুক্তি দিন।’

এ সময় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী, গণফোরামের সাবেক নেতা রেজা কিবরিয়া, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট রাখাল রাহাসহ গ্রেপ্তারকৃত কর্মীদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পূর্বপশ্চিমবিডি

Please Share This Post in Your Social Media


বঙ্গবন্ধু কাতরকণ্ঠে বলেন, মারাত্মক বিপর্যয়

বঙ্গবন্ধু কাতরকণ্ঠে বলেন, মারাত্মক বিপর্যয়

https://twitter.com/WDeshersangbad

© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design And Developed By Freelancer Zone