শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১, ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
আইফোন-১২ পেতে রোজা ভাঙার লোভ, অতঃপর… বাইডেনের ক্ষমা চাওয়ার ভাইরাল ছবির গল্প সত্য নয় করোনা নিয়ে এই মুহূর্তে সবচেয়ে আলোচিত ল্যানসেট রিপোর্ট এবার আরবি ভাষায় গান গাইলেন হিরো আলম পাকিস্তানে অভিজাত হোটেলে বোমা হামলা, নিহত ৪ তিনগুণ শক্তিশালী নতুন করোনা শনাক্ত ভারতে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে শনাক্ত ৩ লাখের বেশি করোনার কারণে মোদির পশ্চিমবঙ্গ সফর বাতিল ট্র্যাকে বসলো মেট্রোরেলের প্রথম কোচ নুরের বিরুদ্ধে দুই জেলায় আরও ২ মামলা তালিকা পাঠান নিজেরাই শান্তিপূর্ণভাবে জেলে যাব: বাবুনগরী করোনার টিকা পেতে চীনা উদ্যোগে রাজি বাংলাদেশ রাশিয়ার টিকা উৎপাদন হবে বাংলাদেশে জলবায়ু মোকাবিলায় বিশ্ব নেতাদের ৪ পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর সুন্দরগঞ্জে দুঃস্থদের মাঝে অটোভ্যান বিতরণ

গাইবান্ধায় ৩৮ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতদে ১১ জন শিক্ষক,মাসিক ব্যয়দুই লাখ ২২ হাজার ২৯ টাকা।

 

 

বায়েজীদ (গাইবান্ধা)  :

 

১১ জন শিক্ষক এমপিওভুক্ত মাদরাসার বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে ৩৮ শিক্ষার্থী কে  পড়াচ্ছেন,। এমন দৃশ্য দেখা গেছে গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার মথরপাড়া দাখিল মাদরাসায়। মাদরাসায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে বলে শিক্ষকরা দাবি করলেও বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে ৩৮ জন শিক্ষার্থী দেখা গেছে । প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে একজন, দুজন কিংবা তিনজন শিক্ষার্থী দিয়ে চলছে পাঠদান। কোনো কোনো শ্রেণিকক্ষে এক শিক্ষার্থীকে পড়াচ্ছেন একজন শিক্ষক। যেন দেখার কেউ নেই।

 

স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় তিন যুগ আগে এমপিওভুক্ত হয় এই মাদরাসা। মাদরাসার অবকাঠামোগত কোনো সমস্যা নেই। বর্তমানে মাদরাসায় সুপার ও সহ- সুপারসহ ১১ জন শিক্ষক রয়েছেন। পাশাপাশি তিনজন কর্মচারী রয়েছেন। প্রতি মাসে সরকারিভাবে প্রায় দুই লাখ ২২ হাজার ২৯ টাকা বেতন উত্তোলন করেন তারা। মথরপাড়া গ্রামের আব্দুল গণি বলেন, এখানের শিক্ষকরা হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিতেই মাদরাসায় আসেন, ক্লাস নিতে নয়। যে যার মতো ক্লাসে এসে বাড়ি চলে যান। একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, প্রতিদিন শিক্ষকরা মাদরাসায় আসেন হাজিরা দেয়ার জন্য। হাজিরা দিয়ে মাদরাসার মাঠে চেয়ার নিয়ে বসে গল্প করে দুপুর হলেই বাসায় চলে যান। পাঠদানের প্রতি মনোযোগ কিংবা শিক্ষার্থী ভর্তি নিয়ে কোনো মাথা ব্যথা নেই তাদের। মাদরাসায় ঠিকমতো পাঠদান না হওয়ায় ছেলে-মেয়েকে অন্য প্রতিষ্ঠানে নিয়ে ভর্তি করেন বাবা-মা। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির বিষয়ে মথরপাড়া দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা শহিদুল ইসলাম বলেন, মাদরাসায় মোট ৩৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০০ ছাত্র- ছাত্রীকে বিনামূল্যের বই দেয়া হয়েছে। বাকি বইগুলো মাদরাসার অফিস রুমে আছে। সময়মতো বিতরণ করা হবে। পাশের বাড়িতে অনুষ্ঠান চলছে, তাই আজ শিক্ষার্থী উপস্থিতি কম।

 

শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য নয়, হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিয়ে নিয়মিত বেতন-ভাতা তুলতেই শিক্ষকরা মাদরাসায় যান- এমন অভিযোগ স্থানীয়দের । বিদ্যালয়ে দেখা যায়, সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সাঘাটা উপজেলার মথরপাড়া দাখিল মাদরাসার শিক্ষকরা মাদরাসার মাঠে রোদ পোহাচ্ছেন। কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মাঠে শারীরিক কসরত করাচ্ছেন একজন শিক্ষক। সাংবাদিক দেখে মোবাইলে কল দিয়ে ছাত্রদের ডাকতে শুরু করেন শিক্ষকরা। এরপর যে যার মতো শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন শিক্ষকরা। শ্রেণিকক্ষে ঢুকেই দেখা যায়, দরজা খোলা থাকলেও বেশির ভাগ কক্ষের জানালা বন্ধ। দ্বিতীয় শ্রেণিকক্ষে দুজন ছাত্রকে পড়াচ্ছেন মাদরাসার সুপার মাওলানা শহিদুল ইসলাম ও পঞ্চম শ্রেণিকক্ষে একজন ছাত্রকে পড়াচ্ছেন আরেকজন শিক্ষক। পাশাপাশি প্রথম শ্রেণিকক্ষে পাঁচজন, তৃতীয় শ্রেণিকক্ষে পাঁচজন, চতুর্থ শ্রেণিকক্ষে  পাঁচজন, ৬ষ্ঠ শ্রেণিকক্ষে  সাতজন, সপ্তম শ্রেণিকক্ষে দুজন, অষ্টম শ্রেণিকক্ষে পাঁচজন, নবম শ্রেণিকক্ষে তিনজন ও দশম শ্রেণিকক্ষে  তিন ছাত্রকে পড়াচ্ছেন শিক্ষকরা।

 

মথরপাড়া দাখিল মাদরাসায় শিক্ষার্থী উপস্থিতির বিষয়টি জানানো হলে সাঘাটা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আহসান হাবিব বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

Please Share This Post in Your Social Media


বঙ্গবন্ধু কাতরকণ্ঠে বলেন, মারাত্মক বিপর্যয়

বঙ্গবন্ধু কাতরকণ্ঠে বলেন, মারাত্মক বিপর্যয়

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

38457215
Users Today : 457
Users Yesterday : 1310
Views Today : 2491
Who's Online : 25
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design And Developed By Freelancer Zone