শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
গৃহহীনদের ঘর দেয়ার কথা বলে অর্থ নেয়ার অভিযোগে সাঁথিয়ায় আ’লীগ নেতাকে শোক’জ করোনায় ১৫ দিনে ১২ ব্যাংকারের মৃত্যু পৃথিবীতে কোনো জালিম চিরস্থায়ী হয়নি: বাবুনগরী যারা আ.লীগ সমর্থন করে তারা প্রকৃত মুসলমান নয়: নূর চট্টগ্রামে বেপরোয়া হুইপপুত্র যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা অক্সিজেনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে ভারতে ৪ ঘণ্টা পর পাকিস্তানে খুলে দেয়া হলো সোশ্যাল মিডিয়া করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ১০১ জনের মৃত্যু ভাড়াটিয়াকে তাড়িয়ে দিলেন বাড়িওয়ালা, পুলিশের হস্তক্ষেপে রক্ষা জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে জনপ্রিয় নায়িকা মিষ্টি মেয়ে কবরী স্বামী পরিত্যক্তা নারীকে গণধর্ষণ, আটক ৩ দুই দিনের রিমান্ডে ‘শিশুবক্তা’ রফিকুল লকডাউনেও মসজিদে মসজিদে মুসল্লিদের ঢল বেনাপোলে ৮৮ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারী আটক

চট্টগ্রামের প্রাচীন মুসলিম স্থাপনা ২৮৩ বছরের পুরানো শেখ বাহার উল্লাহ মসজিদ ধ্বংস করা হচ্ছে :

চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের প্রতিবাদ :-
হাজার বছরের প্রাচীন চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক কাতালগঞ্জ শেখ বাহার উল্লাহ মসজিদটি নতুনের নামে ইতিহাস অসচেতন, বিবেক ও কাণ্ডজ্ঞানহীন মানুষের কারণে অবশেষে ধ্বংস করা হচ্ছে। ২৮৩ বছরের প্রাচীন এই মসজিদটি ইট-হাতুড়ি ও শাবলের আঘাতে জর্জরিত করে অবশেষে ভেঙে ফেলা হলো। ১৭৩৭ সালে নির্মিত এই ঐতিহাসিক মসজিদটি ছিল প্রাচীন চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক প্রতœস্থাপনা। যা দেখার জন্য দেশ-বিদেশের ইতিহাসসচেতন মানুষ ও পর্যটকের আগমন ঘটত। চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানার পূর্বদিকে ঐতিহাসিক খান বাহাদুর হামিদুল্লাহ খান’র বাড়ির পূর্বপার্শ্বে কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকার পাশেই শেখ বাহার উল্লাহ মসজিদটির অবস্থান ছিল। নান্দনিক ও প্রাচীন এই মসজিদটিতে ৪টি বড় মিনার, ৪টি ছোট মিনার, ২টি ছোট গম্বুজ ও ১টি বড় গম্বুজের মাধ্যমে মসজিদটিকে নান্দনিকভাবে উপস্থাপিত হয়েছিল। ২৮৩ বছরের এই প্রাচীন মসজিদটি চট্টগ্রামের ইতিহাসে ঐতিহাসিক হিসেবে বিবেচিত ছিল। এই মসজিদটি সংরণের জন্য ইতিপূর্বে চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের প থেকে সরকারের বরাবরে আবেদন-নিবেদন করেও কর্তৃপরে মন গলাতে পারেনি। অবশেষে ৯ জানুয়ারি এই মসজিদটির ধ্বংসের ইতিহাস দেখতে হলো দেশের জনগণকে। মসজিদটির সরকারি প্রতœসম্পদ হিসেবে সংরণ করার দাবি ও ২৮৩ বছরের প্রাচীন মসজিদটি ধ্বংসের প্রতিবাদ জানিয়েছেন চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের সভাপতি সোহেল মো. ফখরুদ-দীন, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুর রহিম, প্রাক্তন সভাপতি অধ্য ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাহ, রেজাউল করিম তালুকদার, ইঞ্জিনিয়ার নূর হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, শাহনুর আলম, এস এম ওসমান, ভাস্কর ডি কে দাশ মামুন, অমর কান্তি দত্ত, মোহাম্মদ সাফাত, নজরুল ইসলাম চৌধুরী, মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, অধ্যাপক দিদারুল আলম প্রমুখ এক যুক্ত বিবৃতিতে চট্টগ্রামের এই প্রাচীন মসজিদটি ধ্বংসের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের প্রতি নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ইতিহাস এই প্রাচীন মসজিদ ধ্বংসকারীকে শত বছর পর হলেও চিহ্নিত হবে। বিবেকের কাঠগড়ায় ইতিহাস হত্যাকারী হিসেবে বিবেচিত হবে। এই প্রাচীন মসজিদটির অবস্থান ও ইতিহাস ছিল ২৮৩ বছরের নন্দিত ইতিহাস। আজ কুচক্রী ইতিহাস অসচেতন বিবেকহীন মানুষের কারণে একটি ঐতিহাসিক প্রাচীন প্রত্নসম্পদ ধ্বংস হয়ে গেল। এই ধ্বংসের ইতিহাস লজ্জার ও দুঃখের। বিবৃতিতে আরো বলা হল, আশপাশের জায়গাতে বহুতল মসজিদ নির্মাণ করা যেত। কারণ মসজিদের সামনে প্রচুর জায়গা রয়েছে। বিষয়টা না ভেবে প্রাচীন এই মসজিদটি অহেতুক ধ্বংস করা হলো। আমাদের আগামী প্রজন্ম যারা মসজিদ ধ্বংসের সাথে জড়িত আছে তাদেরকে ইতিহাস অসচেতন মানুষ হিসেবে বিবেচিত করবে। উল্লেখ যে, মোঘল আমলে এই অঞ্চল অর্থাৎ চট্টগ্রাম যখন ইসলামাবাদ নাম নিয়ে সুবা বাংলার রাজধানী ছিল তখনই এই মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়। ইতিহাসে বলা হয়, মোঘল সুবাদার শায়েস্তা খাঁর পৌত্র শেখ বাহার উল্লাহ ১৭৩৭ খ্রিষ্টাব্দে এই মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। তার মৃত্যুর পর এই মসজিদ শেখ বাহার উল্লাহ শাহী জামে মসজিদ নামে পরিচিতি লাভ করে। মসজিদে প্রাপ্ত শিলালিপি থেকে এই ধারণা করা হয়। এই মসজিদটি বাংলাদেশের প্রতœতত্ত্বের একটি গুরত্বপূর্ণ মহামূল্যবান ও অতি সংবেদনশীল স্থাপনা। ভারতের দিল্লীর কেন্দ্রীয় মহাফেজখানা ও বৃটেনের লন্ডনস্থ ব্রিটিশ মিউজিয়াম এ শেখ বাহার উল্লাহ জামে মসজিদ সম্পর্কিত গুরত্বপূর্ণ দস্তাবেজ প্রায় ১৭০ বছর ধরে সযতেœ রতি রয়েছে। আজ এই ইতিহাসকে ধ্বংসের মাধ্যমে চট্টগ্রামে নতুন একটি মসজিদ ধ্বংসের ইতিহাস রচিত হলো।

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

38448629
Users Today : 253
Users Yesterday : 1193
Views Today : 956
Who's Online : 21
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design And Developed By Freelancer Zone