বুধবার, ১২ মে ২০২১, ০১:০৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
ঈদের ছুটি নিয়ে বিভ্রান্তি লকডাউনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চান দোকানিরা যাত্রীর চাপ এবার আকাশপথে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নিয়ে ঢাকা ছাড়ছেন কর্মহীনরা টিকা আনতে চীনে গেল বিমানবাহিনীর উড়োজাহাজ করোনায় দেশে মৃত্যু ছাড়ল ১২ হাজার বুধ নয়, এবার বৃহস্পতিবার থেকে ঈদের ছুটি পত্নীতলায় সরকারিভাবে চাউল ক্রয়ের উদ্বোধন বড়াইগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহের উদ্বোধন  শার্শায় ক্ষতিগ্রস্থদের ২৭টি পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও গৃহ নির্মাণ অর্থ বিতরণ বেনাপোল সীমান্ত থেকে ৫ টি পিস্তল ৭ রাউন্ড গুলি ও ১ টি ম্যাগজিন উদ্ধার  বাংলাদেশে ফিরতে না পেরে কলকাতায় ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুর মৃত্যু রাজধানীতে ফুটপাতে পড়ে ছিলো ভিক্ষুকের লাশ ঢাকার পথে চীনের ৫ লাখ করোনার টিকা দিনে ফেরি চলাচলের অনুমতি দিল বিআইডব্লিউটিসি

চট্টগ্রামে বেপরোয়া হুইপপুত্র

https://youtu.be/0aPJlejLf0Yপুলিশি তদন্তে পরবর্তী সময়ে সবকিছু বের হয়ে আসবে, অপরাধীরা শাস্তি পাবে। কিন্তু সেটি দূরে থাক, উপর্যুপরি চাপ প্রয়োগে মানসিক যন্ত্রণায় ভুগেছেন মোর্শেদ। শেষ পর্যন্ত তাকে আর রক্ষা করা গেল না।’

মামলা দায়েরের এক সপ্তাহ পরও আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় উদ্বেগ জানিয়ে মোরশেদের স্ত্রী বলেন, ‘অভিযুক্ত সাকিবের পক্ষ নিয়ে পাসপোর্ট কেড়ে নিয়েছিলেন তারা। পারভেজ, জাবেদ ও সাকিবদের দেওয়া চাপ, অপমান ও হুইপপুত্র শারুন ও বাচ্চুদের উপস্থিতিতে বাসায় হামলার পর নিরাপত্তার জন্য আমরা দেশের বাইরে, জাপানে চলে যেতে চেয়েছিলাম। সেই খবর পেয়ে আমাদের পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয়।’

ইশরাত জাহান চৌধুরী বলেন, ‘২০১৮ সালে এ ঘটনা ঘটে। সাকিবরা উপর্যুপরি বাড়তি পাওনা টাকা দাবি করে। সাকিবের বাবা মহসিন তাদের পাঁচলাইশের এমএম টাওয়ারে মোর্শেদকে ডেকে নিয়ে যান। যেন টর্চার সেলে পরিণত সেই বাড়ি। সেখানে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। হুমকির মুখে আমাকে ডেকে নিয়ে অতিরিক্ত টাকা দাবি করে জোরপূর্বক স্ট্যাম্প ও চেকে সই নেওয়া হয়েছিল। আমার স্বামীকে বাঁচাতে আমি, আমার ভাশুর, ননদ, ননদের হাজব্যান্ডসহ আমরা ছুটে যাই। সে সময় আসামি পারভেজ, জাবেদ, সাকিব সবাই ছিল। আমাদের মোবাইল ফোন তারা কেড়ে নিয়েছিল। আমি মোবাইল ফোন দিতে না চাইলে আমারটাও কেড়ে নেয়। শেষ পর্যন্ত স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে সবার মোবাইল ফোন ফিরিয়ে দেওয়া হলেও আমার মোবাইল ফোনটি তারা রেখে দেয় এবং আমাদের সেই পাসপোর্ট এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি।’

পুলিশ কেনো ঘটনার আড়ালে থাকা ব্যক্তিদের বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে না তাতে উদ্বেগ জানান ইশরাত। তিনি বলেন, ‘মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি ছাড়াও নেপথ্যে যারা থেকেছেন তাদের ব্যাপারেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।’ প্রসঙ্গক্রমে ইশরাত বলেন, ‘ওই ব্যবসায়ী (এস এম আবুল মহসিন) আমাদের নিকটাত্মীয়। আমার স্বামীর একটি চাকরির জন্য স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে তার সুপারিশও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কী এক রহস্যজনক কারণে হঠাৎ তিনি তার ছেলের হয়ে এমন পৈশাচিক আচরণ করেছেন, তা ভেবে পাই না।’ ব্যাংকার মোরশেদের স্ত্রী মনে করেন, ‘সাকিবকে কথিত লগ্নি টাকা আদায়ের যেভাবে অমানবিকভাবে হস্তক্ষেপ শুরু করেন তা সত্যি অবিশ্বাস্য।’

ইশরাত বলেন, ‘মিথ্যা মামলা করে ওই ব্যবসায়ীপুত্র সাকিব একটি মামলায় আসামি করেছিলেন আমাকে। তার প্রতিটিতেই আমি নির্দোষ হিসেবে আদালত কর্তৃক ছাড় পেয়েছি।’ মামলাটি ডিবিতে স্থানান্তরের পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় উদ্বেগ জানান তিনি। মুঠোফোনে পাওয়া না গেলেও সামাজিক মাধ্যমে অবশ্য হুইপপুত্র শারুন চৌধুরী এসব অস্বীকার করেই চলেছেন। মামলা দায়েরের পর থেকে আসামি সাকিব, জাবেদ, পারভেজসহ অন্যদের মুঠোফোনে সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে না।

চাঞ্চল্যকর এ মামলাটির তদন্ত ও অপরাধী গ্রেফতার প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ডিসিডিবি (নর্থ) এম সালাম কবিরকে প্রশ্ন করা হলে বলেন, ‘মামলার ডকেট বুঝে পেয়েছি। বিধিবিধান অনুযায়ী তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) নিয়োগ দিয়ে তাকে আসামি গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

অন্যদিকে আইও পরিদর্শক মঈনুর রহমানকে এ প্রসঙ্গে জানতে মুঠোফোনে দফায় দফায় চেষ্টা করা হলেও রেসপন্স মেলেনি! মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন চট্টগ্রামবাসী অপরাধী গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ায় আরো বলিষ্ঠ পদক্ষেপ আশা করছেন।

প্রধানমন্ত্রী যেখানে মাঠের কর্মীদের মূল্যায়নের পুনঃ পুনঃ তাগাদা দিয়ে চলেছেন, সেখানে আওয়ামী লীগে হিজরত করা এই হাইব্রিডদের পুত্রদের আস্ফালন সহজভাবে নিচ্ছে না মানুষ। হুইপপুত্রের ক্ষমতার প্রভাবের বিরুদ্ধেও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ আশা করছেন সাধারণ সচেতন মানুষ। হুইপপুত্রের গোপন ব্যবসার বলি তরুণ ব্যাংকার ও ব্যবসায়ী আবদুল মোর্শেদ চৌধুরীর স্ত্রী শিক্ষিকা ইশরাত জাহান চৌধুরী ও মা নুর নাহার প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার দাবি করেছেন।

শারুনসহ তার কয়েকজন বন্ধুর গোপন ব্যবসায় জড়িয়ে পুঁজি খাটিয়ে আসল ও সুদসহ বিপুল টাকা পরিশোধ করেও সরল বিশ্বাসের বলি হন ওই ব্যাংকার। সরল বিশ্বাসে জমা দেওয়া জামানতের চেক ফিরিয়ে নেননি তিনি। এতে ওই সব চেকের বিপরীতে বার বার লাভের টাকা চেয়ে বসে চক্রটি। অব্যাহত রাখে বাসায় হামলা, উপর্যুপরি মামলা, অপহরণসহ নানা হুমকি। আত্মহত্যার ঘটনায় চারজনকে আসামি করে স্ত্রী ইশরাত জাহান চৌধুরী বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন। মামলায় নির্যাতন-আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ উঠেছে যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল হক চৌধুরী রাসেল, চিটাগাং চেম্বারের সাবেক দুই পরিচালক জাবেদ ইকবাল, তার ভাই পারভেজ ইকবাল এবং নাইম উদ্দিন সাকিব নামে চার জনের বিরুদ্ধে। অফিস ও বাড়িতে দফায় দফায় হামলা, মামলা ও অপহরণের হুমকির অভিযোগ এনেছেন স্বামীহারা অসহায় এই নারী।

অভিযোগে প্রকাশ, ২০১৯ সালের ২৯ মে হুইপপুত্র শারুন চৌধুরী ও চিটাগাং চেম্বারের সাবেক দুই পরিচালক দুটি গাড়িতে করে ১০-১২ জন যুবককে সঙ্গে নিয়ে মোরশেদের বাসভবনে প্রবেশ করেন। পারভেজ ইকবাল দলের অন্যদের নিয়ে লিফট বেয়ে ওপরে উঠে বাসার দরজা ধাক্কাতে থাকেন। এ সময় দরজা খুলতে না চাইলে লাথি মারতে থাকেন তিনি। ‘লাথি মেরে দরজা ক্র্যাক করে দেওয়া হয়’ বলে জানান ব্যাংকারের স্ত্রী। এ সময় ভবনটির নিচে নেমপ্লেটবিহীন গাড়িতে হুইপপুত্র শারুন ও সাবেক ছাত্রনেতা আরসাদুল আলম বাচ্চু বসা ছিলেন বলেও জানান তিনি। আক্রমণের ভয়াবহতায় ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে ব্যাংকার মোর্শেদ তার স্ত্রী-সন্তানসহ পালিয়ে নিকটাত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নেন। সহযোগিতা চেয়ে দ্বারস্থ হন পুলিশের। থানায় জিডি করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রক্ষা পাননি মোর্শেদ। পরিবারটি এখনো চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছে। ইশরাত জানান, সিএমপির ডিসি অফিসে সমঝোতা বৈঠক ও চুক্তি হয়। সেখানে বাচ্চুও ছিলেন। এ ঘটনার প্রায় দুই বছর পর দফায় দফায় আসল ও সুদ (মতান্তরে লভ্যাংশ) পরিশোধের পরও অতিরিক্ত টাকার জন্য টেলিফোনে চাপ প্রয়োগ করেন তারা। পারভেজ ও জাবেদের হয়ে কড়া ভাষায় ফোনালাপের একদিন পরই ব্যাংক কর্মকর্তা মোর্শেদ আত্মহত্যা করেন।

মোরশেদের স্ত্রী ইশরাত এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘মোরশেদের সঙ্গে সরাসরি লেনদেন না থাকলেও শারুন চৌধুরী, বাচ্চু ও কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা রাসেল কেনো এ রকম টর্চার করলো, এর জবাব মিলছে না।’ অন্যদিকে ইশরাতের তথ্যের অভিন্নতা ও সত্যতা মেলে নিকটাত্মীয় এমপি দিদারুল আলমের বক্তব্যে। এমপি দিদারুল সমঝোতা করার চেষ্টা করেছিলেন। ‘কিন্তু শেষ পর্যন্ত জাবেদ ইকবালের ভাই পারভেজের অনাগ্রহে এমপি দিদারের সেই উদ্যোগ ভেস্তে যায়’ বলে জানান মোরশেদের স্ত্রী। ব্যাংকার মোর্শেদ চৌধুরীর সঙ্গে এই বিনিয়োগ, বাসায় হামলা, টাকা উদ্ধার প্রক্রিয়ায় সমঝোতা বৈঠকে শারুন-বাচ্চুর উপস্থিত থাকার তথ্য পাওয়া যায়। তবে নিজের সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করেন বাচ্চু। মোর্শেদ সুইসাইড নোটে উল্লেখ করে গেছেন, ‘আর পারছি না। সত্যি আর নিতে পারছি না। প্রতিদিন একবার করে মরছি। কিছু লোকের অমানুষিক প্রেসার আমি আর নিতে পারছি না। প্লিজ, সবাই আমাকে ক্ষমা করে দিয়ো। আমার জুমকে (মেয়ে) সবাই দেখে রেখো। আল্লাহ হাফেজ।’

পূর্বপশ্চিমবিডি

Please Share This Post in Your Social Media


বঙ্গবন্ধু কাতরকণ্ঠে বলেন, মারাত্মক বিপর্যয়

বঙ্গবন্ধু কাতরকণ্ঠে বলেন, মারাত্মক বিপর্যয়

https://twitter.com/WDeshersangbad

© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design And Developed By Freelancer Zone