শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০৬:৫২ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
রাবির হল খুলছে কাল, সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন দুমকিতে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের মানববন্ধন। বগুড়ায় ৮২পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ যুবক গ্রেফতার ব্রিটিশ এমপি হত্যাকাণ্ড ‘সন্ত্রাসী ঘটনা’ : ব্রিটিশ পুলিশ সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে রাবিতে মানববন্ধন দ্বিতীয় ধাপের ইউপির ভোট: মনোনয়নপত্র দাখিলের তারিখ পরিবর্তন পাবনায় নতুন বার্জার এক্সপেরিয়েন্স জোন চালু বোচাগঞ্জে রনগাঁও ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র জমা দিলেন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় যুব সংগ্রাম পরিষদ গঠন করুন : যুব জাগপা লাগামহীন নিত্য ব্যবহার্য জিনিসপত্রের দামে জনজীবন অতিষ্ঠ : দিলীপ বড়ুয়া গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দেইনি বলে দুটি বৃহৎ প্রতিবেশী দেশ ২০০১-এ ক্ষমতায় আসতে দেয়নি : প্রধানমন্ত্রী দূর্গা পুজা মন্ডপে হামলা ভাংচুর লুঠপাট ধর্ষন খুন জখমের প্রতিবাদে জাতীয হিন্দু মহাজোট জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি এবং গঠনতন্ত্র থাকলেই রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন দিতে হবে: ইউএনএ চট্টগ্রামে বাসা থেকে মা ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার বোয়ালখালীতে বিনয়বাঁশী শিল্পীগোষ্ঠী’র নেতৃত্বে পশ্চিম গোমদন্ডী মানব কল্যাণ সংঘ এর পূজা মন্ডপ পরিদর্শন

ছাদে অসাধারন আঙ্গুর গাছের বাগান ===

========================
পৃথিবীতে আঙ্গুর চাষ নিয়ে এতো বেশি গবেষনা হয়েছে যে এই ফল নিয়ে আমার কোন কিছু লেখার সাহস করা রীতিমত বোকামি, তবু ছাদ বাগানিরা ছাদে আঙ্গুর চাষ নিয়ে মাতামাতি করে, সব ছাদ বাগানির নিকটই আঙ্গুর ফল দারুন প্রিয় তাই যারা খুবই আনাড়ি তাদের জন্য সরল সোজা এই লেখা।যারা অভিজ্ঞ তাদের এই লেখা পড়ার কোন প্রয়োজন নেই।তবে তাঁরা যদি পড়েন অবশ্যই কমেন্টে আমাকে এবং ছাদ বাগানিদের পরামর্শ দিয়ে ধন্য করবেন।
পৃথিবীতে যত ভাল জাতের আঙ্গুর আছে তা টেম্পারেট অথবা মেডিটেরিয়ান অঞ্চলে হয়, আমাদের মত সাব-ট্রোপিক্যাল বা ট্রোপিক্যাল অঞ্চলে সেই জাত গুলি ভাল হয় না বা মোটেই হয় না।তবে ট্রোপিক্যাল অঞ্চল যেমন ভারতের তামিল নাডুতে বা অন্যান্য ট্রোপিক্যাল অঞ্চলে এখন সফলতার সাথে বেশকিছু জাতের আঙ্গুর চাষ হচ্ছে, যা আমাদের দেশে এই মৌসুমে বাজারজাত হয়।এই জাতের বেশি বেশি বাড়বাড়তি এবং মৌসুমি বৃষ্টিপাত আঙ্গুর ফলনে সামান্য প্রভাব রাখতে পারে।
ভালো দিক এইযে আমাদের দেশে মাঠের চাইতে ছাদে আঙ্গুর চাষ সহজ।ছাদের ভিন্ন পরিবেশ অনেকটাই আঙ্গুর চাষের অনুকূল,শুধু শীতটা আর একটু যদি বেশী আর দুই/এক সপ্তাহ দীর্ঘায়িত হতো আর যদি আঙ্গুর গাছ যথাযতভাবে সুপ্তাবস্থায় যেতো তবে কোন সমস্যা থাকতো না।আমাদের ছাদ বাগানীরা সাধারনত কাটিং থেকে আঙ্গুর গাছ করে থাকে, কিন্তু আঙ্গুর চাষের পূর্বশর্ত কাংক্ষিত রুটস্টকের সাথে কলম করে চারা তৈরী করা।গ্রাফ্টিংয়ের চারা হোক আর কাটিংয়ের চারা হোক,আঙ্গুর চারা রোপন করে তিন শীত অপেক্ষা করতে হবে, আঙ্গুরের জন্য।আমাদের দেশের আবহাওয়ায়, জাক কাউ জাত কে রুট স্টক হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।যে রুট স্টকের সাথে গ্রাফ্টিং করলে গাছের বাড়বাড়তি বেশি হয় সেই রুটস্টক এড়িয়ে যেতে হবে।একেক রুটস্টকের সাথে একেক জাতের আঙ্গুরের প্রয়োজনীয় কম্পাটিবিলিটি লাগসই হয়।আমরা রুট স্টক ব্যবহার করবো সাব ট্রোপিক্যাল কন্ডিশনে আঙ্গুর গাছের শিকড়ে যেন নেমাটোড আক্রমন না হয় এবং বাড়বাড়তি যেন খুব বেশী না হয়।
দশ/বার ইঞ্চি টবে পানি নিস্কাশন ব্যবস্থা সুসংহত করে সাধারন পটিং মিক্সারের সাথে আধা কেজি পরিমান হাড়ের গুঁড়া মিক্সার করে মার্চ/এপ্রিল মাসে চারা বসাতে হবে। আঙ্গুরের টবের জন্য মাটি নির্বাচনের তেমন বাদবিচার নেই, প্রায় সকল ধরনের মাটিতেই আঙ্গুর হয়,তবে পটিং মিক্সার তৈরীর সুবিধার্তে দোঁয়াশ মাটি নেয়া যেতে পারে, মাটি হালকা অম্লীয় হলে উত্তম। টবটি সরাসরি ছাদের সংস্পর্শে না রেখে কাঠের ব্লক বা ইটের উপর রাখতে হবে এবং টবের গাছের গোড়ায় ঘনকরে মাল্চিং দিতে হবে, যেন আঙ্গুরের শিকড় বেশী তাপের মোকাবেলা না করে।প্রথম বছর ডিসেম্বরের আগ পর্যন্ত সামান্য নাইট্রোজেন সার সহযোগে টিএসপি,পটাশ সার নিয়মিত বিরতিতে প্রয়োগ করতে হবে।গাছের গোড়ায় লম্বা খুঁটি দিয়ে গাছকে বেঁধে দিতে হবে এবং সারা বছর স্বাধীনভাবে বাড়তে দিতে হবে। জানুয়ারী মাসে গাছকে ট্রেনিং-প্রুনিং করে গাছের কাংক্ষিত আকারের কান্ড ও স্থায়ী শাঁখা বা ডাল তৈরি করে নিতে হবে। একমিটার উচ্চতার একক কান্ড বা দ্বৈত কান্ড তৈরি করা যেতে পারে।অতঃপর গাছকে রিপটিং করতে হবে, (১৮-২০ইঞ্চি গভীর এবং একই প্রস্থের টবে), এই টবেই দুই বছর আঙ্গুর নিতে হবে। এবারও হাড়ের গুঁড়ো থাকবে, নতুন টবে গাছের বৃদ্ধি শুরু হলে সদ্য বৃদ্ধিপ্রাপ্ত ডগা পিঞ্চিং করে, চার থেকে ছয়টি ডগা বানিয়ে নিতে হবে, সারা বছর এই ডগা বৃদ্ধি পাবে, কোন ফুল আসবে না বা ফুল আসলেও আসতে পারে।পরবর্তী বছর এই ডগা কেইন হিসাবে আঙগুর ফলনে ভূমিকা রাখবে। অতএব হিসাবে দেখা যাচ্ছে প্রথম বছর চারা গাছ স্বাধীনভাবে বৃদ্ধি পেলো ও কান্ড, প্রধান শাঁখা তৈরি হলো, দ্বিতীয় বছরে নির্বাচিত ডগা সমুহ কেইন(cane) হিসাবে বৃদ্ধি পেলো, এই কেইনে চলতি বছরে ফুলের বাড তৈরী হয় পরের বছরের আঙ্গুরের ফুল আসবে।
অর্থাৎ আঙ্গুরের ফুল ডিফারেন্সিয়েট হয় আগের মৌসুমের বৃদ্ধিপ্রাপ্ত ডগার বাডে(Bud)।পূর্ববর্তী এক মৌসুম বা এক বছরের বয়স্ক ডগাকে কেইন(cane) বলে।সুপ্তাবস্থায় (Dorment), জানুয়ারী মাসের শেষে কেইনের গোড়ার দিকে দুই থেকে চারটি বাড রেখে কেইনকে ছাঁটাই করে দিতে হবে, জাত ভেদে কেইনে আরো বেশি বা কম বাড রেখে ছাঁটাই করার প্রয়োজন হতে পারে। সুপ্তাবস্থায় যখন গাছের পাতা বুড়িয়ে শুকিয়ে যেতে থাকবে তখন গাছে সেচ দেয়া বন্ধ রাখতে হবে, ছাঁটাই করার পরও তাপমাত্রা বৃদ্ধি না পাওয়া পর্যন্ত সেচের দরকার নেই, অর্থাৎ কোন রকম সার প্রয়োগ করা যাবে না। তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে সামান্য সেচে বাড ফুটাতে হবে, একটি বাড থেকে একটি বা দুইটি বা তিনটি ডগা বের হতে পারে।হিসাবে এই বাড থেকে যে ডগা বের হবে তার প্রতিটি গিটে (node) একটি ফুলের থোকা আর একটি পাতা থাকবে, নয়তো শুধু পাতা আর আকর্ষী বের হবে। জাত ভেদে ফুলের থোঁকার সংখ্যা কম বেশী হবে।শীতের মাত্রা, দিনের দৈর্ঘ্য এবং সারা বছরের আলোর প্রাপ্যতা, বৃষ্টিপাত বা সেচ বা সার প্রয়োগের মৌসুম ও পরিমান সব কিছুই বাডের মধ্যে কয়টি ডগা লুকায়িত আছে এবং তাতে কয়টি করে ফুলের থোঁকা থাকবে তা পূর্ব নির্ধারিত হয়ে থাকে, এমনকি থোঁকার ওজন কতটুকু হবে তা ও নির্ধারিত হয়ে থাকে।
আমাদের ছাদ বাগানিদের নিকট এমন কিছু ট্রোপিক্যাল জাত আছে তাতে বৃষ্টিপাত, আদ্রতা কোনটাই ফ্লাওয়ার বাড তৈরি হওয়াতে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে না।এই জাত গুলিতে প্রুনিংও সার, সেচের সঠিক ব্যবস্থাপনা করতে পারলে বছরে দুইবার ফলন নেয়া যায়।

Please Share This Post in Your Social Media

https://twitter.com/WDeshersangbad

https://www.facebook.com/Dsangbad

https://www.facebook.com/Dsangbad

All rights reserved © deshersangbad.com 2011-2021
Design And Developed By Freelancer Zone