মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ১০:৩০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
মাদকবিরোধী অভিযানে তানোর থানা মডেল কুড়িগ্রামে গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজ চাষে সফল তিন তরুণ সোনাগাজীতে জাতীয় পার্টির পক্ষে ২শতাধিক ব্যক্তির মাঝে নগদ টাকা বিতরণ লক্ষ্মীপুরে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে হঠাৎ প্রতিবন্ধীর বাড়িতে হাজির ওসি জসিম উদ্দিন ময়মনসিংহের ত্রিশালে সাংবাদিক এনামুল ফাউন্ডেশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল করোনায় পরিবহন শ্রমিকদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে : আ ন ম শামসুল ইসলাম বিয়ে করার জন্য পাত্র খুজছেন তসলিমা নাসরিন ছাত্রীর স্ত”নে শিক্ষকের একাধিক বে’ত্রাঘা’ত, হা’সপা’তা’লে শিক্ষার্থী সাপাহারে ভিজিএফ’র তালিকা প্রস্তুতে অনিয়মের অভিযোগ করোনাকালীন শিক্ষা, আমাদের অর্জন ও ভবিষ্যত। ডোমারে শিশুদের মাঝে ঈদের পোষাক উপহার দিল সবার পাঠশালা গাইবান্ধায় বিশ্ব মা দিবস উদযাপন বজ্রপাত থেকে রক্ষা পেতে কৃষকের ছাউনি এক বোটায় ধরেছে ৭ লাউ! শিক্ষার্থীদের জন্ম নিবন্ধন অনলাইনে করার নির্দেশ

ঢাবি মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়ন করে শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোর্তজার নামে নামকরণের দাবি

ঢাবি মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়ন করে শিল্পপতি একে আজাদের নামে নামকরণের সিদ্ধান্ত বাতিল এবং শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোর্তজার নামে নামকরণের দাবি

 

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকী ও সাধারণ সম্পাদক প্রগতি বর্মণ তমা এক যুক্ত বিবৃতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারকে আধুনীকীকরণ (৬ তলা ফাউন্ডেশন বিশিষ্ট ৪ তলা ভবন নির্মাণ) করতে একজন ব্যবসায়য়ীর (হা—মীম গ্রুপের চেযারম্যান এবং বিশ্ববিদ্যালয় এ্যলামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে আজাদ) কাছ থেকে ‘অনুদান’ গ্রহণ এবং ভবনটির নামকরণ তার নামে করার তীব্র বিরোধীতা করেন। এবং এই রকম বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি বিশাববিদ্যালয়ের চেতনার সাথে সংঘর্ষিক বলে বলে তারা উল্লেখ করেন।

 

উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে একটি ছয় তলা ফাউন্ডেশন বিশিষ্ট চার তলার ভবন নির্মান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভবনটি নির্মাণ করবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি ও হামীম গ্রুপের চেয়ারম্যান জনাব এ কে আজাদ। তাই জনাব এ কে আজাদের সুপারিশ অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনটির নাম “একে আজাদ মেডিকেল সেন্টার” রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

এমন সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করে নেতৃবৃন্দ বলেন,  “দীর্ঘ দিন ধরেই অব্যবস্থাপনা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, ডাক্তারদের বাজে ব্যবহার, পর্যাপ্ত ওষুধের অভাব, আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব, বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের অভাবে, ও প্রশাসনের উদাসীনতার শিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার। তাই শিক্ষার্থীরা অনেক আগে থেকেই মেডিকেল সেন্টারের উন্নয়নের দাবি জানিয়ে আসছিল। এই প্রেক্ষিতে প্রশাসনের মেডিকেল সেন্টার আধুনীকিকরণ করার সিদ্ধান্ত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেটা কার টাকায় হবে? আমরা মনে করি বিশ্ববিদ্যালয়ের যে উন্নয়ন বাজেট ( টএঈ কতৃক বরাদ্দকৃত) যা জনগণ যোগান দেয়, সেখান থেকেই এই খরচ নির্বহ করতে হবে। তাহলে সর্বজনের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সর্বজনের প্রতি দায়বদ্ধতা তৈরী হবে। কর্পোরেট কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি এক্ষেত্রে বরাদ্দ দেয় তাহলে সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের যেমন স্বার্থ থাকে তেমনি সর্বজনের বিশ্ববিদ্যলয়ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক চরিত্র রক্ষার জন্য এই রকম সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করছি।”

 

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, “আমরা আরো অবগত হয়েছি যে ভবনটির নামকরণের ‘এ কে আজাদ মেডিকেল সেন্টার’ রাখার সিদ্ধন্ত নেয়া হয়েছে। প্রশাসনের এই রকম সিদ্ধান্ত আরো বেশি লজ্জাজনক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বহিভূত। অমরা প্রশাসনের এইরকম সিদ্ধান্তেরও তীব্র বিরোধীতা করছি। এবং নামকরণের বিষয়ে আমাদের প্রস্তাবনা হলো— ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা’র নামে নির্মিতব্য ভবনটির নামকরণ করা। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ও স্বাধীনতা সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা—কর্মচারীগণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তাদের আত্মত্যাগের ফলেই আমরা স্বাধীনতা অর্জন করতে পেরেছিলাম। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন স্থাপনা নামকরণের ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামে অবদান রাখা শহীদ শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের নাম অগ্রাধিকার পাওয়া উচিৎ। উল্লেখ্য যে, অতীতের সকল স্থাপনার নাম শহীদ বুদ্ধিজীবী, মুক্তিযোদ্ধা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নামে হয়েছে। তাই ভবনটির যাবতীয় খরচ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ড থেকে করা এবং নামকরণ  শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা’র নামে করা বিশ^বিদ্যালয়ের চরিত্রের পরিপূরক। আমরা জানি, ঢাকা মেডিকেল থেকে পাশ করার পর আন্তর্জাতিক স্কলারশিপ পাওয়া সত্ত্বেও সমাজ পরিবর্তনের লক্ষ্যে তিনি (ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চাকরী নেন। জীবনে কখনো রোগী দেখে পয়সা নেননি। বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি হলেই চলে যেতেন গ্রামের গরীব মানুষদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দিতে। এছাড়া তিনি লেখক এবং প্রগতিশীল বামপন্থী বুদ্ধিজীবী হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সকল গনতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগী আল বদর সদস্যরা অন্য অনেক বুদ্ধিজীবীর মতো ডা. মোর্তজাকে ফুলার রোডের বাসভবন থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনিই একমাত্র শহীদ চিকিৎসক।”

 

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, “মেডিকেল সেন্টারটি শহীদ ড. মোর্তজার নামাঙ্কিত করলে স্বাধীনতা সংগ্রামে তার অমূল্য অবদানকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা হবে এবং তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য গৌরবের বিষয় হবে।”

 

Please Share This Post in Your Social Media


বঙ্গবন্ধু কাতরকণ্ঠে বলেন, মারাত্মক বিপর্যয়

বঙ্গবন্ধু কাতরকণ্ঠে বলেন, মারাত্মক বিপর্যয়

https://twitter.com/WDeshersangbad

© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design And Developed By Freelancer Zone