মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ০৭:৪৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
৭টি বৈশাখী ছড়া জঙ্গিনেতা মামুনুল হককে  গ্রেফতার – হেফাজতে ইসলামকে নিষিদ্ধ ও জঙ্গি সংগঠন ঘোষণা করুন: কমিউনিস্ট পার্টি(মার্কসবাদী) বিশেষ প্রয়োজনে ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশ সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ব্যাংক খোলা চাঁদ দেখা গেছে, বুধবার থেকে রোজা ঢাবি মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়ন করে শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোর্তজার নামে নামকরণের দাবি পণ্য বিপণনে সমস্যা হলে ফোন করুন জরুরি সেবায় ধর্মীয় নেতাকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় উত্তাল পাকিস্তান, গুলিতে নিহত ২ সাংবাদিকদের ‘মুভমেন্ট পাস’ লাগবে না খাদ্যপণ্যের বিজ্ঞাপনে একগুচ্ছ নিষেধাজ্ঞা আসছে, থাকছে জেল-জরিমানা হাতে বড় একটি ট্যাবলেট ফোন নিয়ে ডিজিটাল জুয়ার আসরে ব্যস্ত তরুণ-তরুণী রমজানের নতুন চাঁদ দেখে বিশ্বনবী যে দোয়া পড়তেন ফরিদপুরে চাের সন্দেহে গণপিটুনীতে একজন নিহত এটিএম বুথ থেকে তোলা যাবে এক লাখ টাকা যৌবন দীর্ঘস্থায়ী করে যোগ ব্যায়াম ‘শশাঙ্গাসন’

তানোরে ইউএনও-জনপ্রতিনিধি মতবিরোধ উন্নয়ন স্থবির

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি
রাজশাহীর তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছাঃ নাসরিন বানুর বিরুদ্ধে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয়হীনতা, তাদের এড়িয়ে ও একলা চলার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার সরকারী শীর্ষ কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে মতবিরোধ সৃস্টি হওয়ায় উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন কর্মকান্ড স্থবির হয়ে পড়েছে, কেউ কেউ আবার তাকে উন্নয়নের প্রতিবন্ধকতা বলে মনে করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র জানায়, স্থানীয় সাংসদ, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও সরকারী দপ্তরের অনেক কর্মকর্তার সঙ্গে ইউএনওর মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। এমনকি খাস পুকুর ইজারা, খাস সম্পত্তি উদ্ধার ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে ইউএনও সাহেব কৌশলে সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের কোন্দল সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে ইউএনওর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ এসেছে জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধিদের কাছে থেকে। এদিকে অভিযোগের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যর সৃষ্টি হয়েছে, উঠেছে সমালোচনার ঝড়, বইছে মূখরুচোক নানা গুঞ্জন, জনমনে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া বলে আলোজনা রয়েছে। সূত্র জানায়, চলতি বছরের ১৫ আগস্ট উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলে ধরে স্থানীয় সাংসদ ও রাজশাহী জেলা প্রশাসককে (ডিসি) অবগত করেছেন। এদিকে সাধারণের প্রশ্ন কে বড় রাস্ট্রের বেতনভুক্ত কর্মচারী না জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণ।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে উপজেলা প্রশাসনের র‌্যালী এবং আলোচনা সভায় স্থানীয় সাংসদ এবং তার প্রতিনিধি উপজেলা চেয়ারম্যানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। আবার চলতি বছরের ১৮ ডিসেম্বর বুধবার আর্ন্তজাতিক অভিবাসী দিবস ও একজন মৎস্য কর্মকর্তার বিদায় অনুষ্ঠানে উপজেলা চেয়ারম্যানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে বিভিন্ন দিবস ও অনুষ্ঠানে উপজেলা চেয়ারম্যানকে আমন্ত্রণ না জানানোর খবর ছড়িয়ে পড়লে জনমনে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে, উঠেছে সমালোচনার ঝড়। এছাড়াও পদাধিকার বলে স্থানীয় সাংসদের প্রতিনিধি হিসেবে উপজেলা চেয়ারম্যান উপজেলার সভাপতি। কিšত্ত অধিকাংশক্ষেত্রে রহস্যজনক কারণে উপজেলা চেয়ারম্যানকে উপেক্ষা করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা কমিটি, আইনশৃঋলা কমিটি ইত্যাদি সভা আহবান করে আসছে বলেও উপজেলা চত্ত্বরে আলোচনা রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের দেয়া আমন্ত্রণ পত্রে স্থানীয় সাংসদকে প্রধান অতিথি করে আমন্ত্রণ পত্র বিতরণ করা হয়। অথচ চলতি বছরের ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের দেয়া আমন্ত্রণ পত্রে স্থানীয় সাংসদের নাম দেয়া হয়নি। ফলে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে আসলে এটা কি নিছক অনিচ্ছাকৃত ভূল না কি ইউএনও সাহেব ইচ্ছে করেই স্থানীয় সাংসদকে উপেক্ষা করেছেন। এদিকে বিজয় দিবসে উপজেলা প্রশাসনের বিতরণ করা আমন্ত্রণ পত্রে স্থানীয় সাংসদের নাম না থাকায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতাকর্মী আমন্ত্রণ পত্র গ্রহণ না করে ফিরিয়ে দিয়েছে অংশগ্রহণ করেননি বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানেও। ফলে এবার দায়সারা ভাবে বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
অন্যদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের ভাষ্য, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ, এখানে জনগণ রাস্ট্রের মালিক বা সকল ক্ষমতার উৎস্য। ফলে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণ সংশ্লিষ্ট এলাকার মালিক বা রাজা, আর সরকারের বেতনভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ রাস্ট্রের বেতনভুক্ত কর্মচারী বা (চাকর) এসব বিবেচনায় জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণের অবস্থান কার্যত রাস্ট্রের বেতনভুক্ত কর্মচারীগণের থেকে উপরে। অথচ তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাহেব কি বিবেচনায় জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের এভাবে অবজ্ঞা করে চলেছেন নৈতিকভাবে তিনি কি এটা করতে পারেন এই প্রশ্ন উঠেছে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ দলমত নির্বিশেষে সব শ্রেণী-পেশার মানুষের মনে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা আওয়ামী লীগের এক জৈষ্ঠ নেতা বলেন, বিজয় দিবসে উপজেলা প্রশাসন অনুদানের নামে গণচাঁদাবাজী করেছে, তবে দিবস উদযাপন হয়েছে দায়সারাভাবে। তিনি বলেন, বিজয় দিবসে স্থানীয় সাংসদকে আমন্ত্রণ না জনিয়ে ইউএনও সাহেব শুধু তাকেই অবজ্ঞা করেননি, তিনি নির্বাচনী এলাকার সকল মানুষকে অবজ্ঞা করেছেন। এতে নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। এবাপারে তানোর উপজেলা চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাকে না জানিয়ে উপজেলা কমিটির সভা আহবানসহ বিভিন্ন কাজ করছে। তিনি বলেন, ইউএনও সাহেবের কাছে থেকে তারা কোনো সহযোগীতা পান না ইতমধ্যে তারা জনপ্রতিনিধিগণ সম্মেলিতভাবে স্থানীয় সাংসদ ও রাজশাহী জেলা প্রশাসককে (ডিসি) বিষয়টি অবগত করেছেন। এব্যাপারে একাধিকবার যোগাযোগের চেস্টা করা হলেও মুঠোফোনে কল গ্রহণ না করায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসাঃ নাসরিন বানুর কোনো বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। #
তানোর প্রতিনিধি

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

38444157
Users Today : 1112
Users Yesterday : 1256
Views Today : 14646
Who's Online : 44
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design And Developed By Freelancer Zone