শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ১১:১০ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
মিনা পাল থেকে সিনেমার ‘মিষ্টি মেয়ে’ কবরী সপরিবারে ভ্যাকসিনের ২য় ডোজ নিলেন আলমগীর সৌদি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট চলবে রোববার থেকে নতুন করে দেড় কোটি মানুষকে দরিদ্র করেছে করোনা রমজানে যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন ইলিয়াস আলী নিখোঁজের বিষয়ে নতুন তথ্য দিলেন আব্বাস বাতাসেও ছড়ায় করোনাভাইরাস নববর্ষে গণস্বাস্থ্যের উপহার ৬ ক্যাটাগরিতে ফি কমালো গণস্বাস্থ্য ডায়ালাইসিস সেন্টার বাংলাদেশকে ৬০ লাখ ডোজ টিকা দিতে চায় চীনা কোম্পানি চীনকে ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলার প্রতিশ্রুতি সুগা ও বাইডেনের দুমকিতে ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি, স্লাইন ও বেড সংকট চরম ভোগান্তিতে রোগীরা।। আওয়ামী লীগে আদর্শিক নেতৃত্বের কবর   !  কবরী দেশকে ভালোবেসে ঋণী করেছেন : নতুনধারা রত্নগর্ভা মুনজুরা চৌধুরীর দাফন সম্পন্ন বড়াইগ্রামে কৃষি জমিতে পুকুর খনন, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

দেলোয়ারের ‘সোনার’ হাঁস

এক সময় নদীতে মাছ ধরা ও কৃষি কাজ ছিল যুবক মো. দেলোয়ার মিজির জীবিকা নির্বাহের ভরসা। তবে বেশ কয়েকবার নদী ভাঙনে বাড়িঘর বিলীনের ফলে জীবনের চরম দুঃখে জর্জরিত হন তিনি। পরে ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডর প্রাথমিক শিক্ষাহীন যুবক দেলোয়ারকে ঘরছাড়া করে দুঃখের চূড়ান্ত পর্যায়ে ফেলে দেয়। তবে হাঁস পালনের মতো স্বাবলম্বী হওয়ার ‘সোনার খনি’ মেলে তার। হাঁস পালনে দুঃখময় জীবনের গল্প বদলে গেছে দেলোয়ারের। তিনি এখন স্থানীয় বেকার যুবকদের আদর্শ।

মো. দেলোয়ার চাঁদপুরের হাইমচরের চরভৈরবী ইউপির মধ্যচর এলাকার ছানাউল্যাহ মিজির ছেলে। তিনি দুই ভাই ও চার বোনের মধ্যে দ্বিতীয়। সংসারে তার স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। হাঁসের খামার করে বেশ সাড়া ফেলেছেন আত্মপ্রত্যয়ী এক যুবক। তার ঈর্ষণীয় সাফল্য স্থানীয় যুবকের উদ্যোক্তা হতে ভরসা পাচ্ছেন। অনেকে প্রত্যয় নিচ্ছে নতুন খামার গড়ার। তিনি এখন স্থানীয়ভাবে হাঁস দেলোয়ার নামেই বেশ পরিচিত।

মো. দেলোয়ার মিজি বলেন, স্ত্রী ও সন্তানসহ সুখে জীবনযাপন করতে কঠোর পরিশ্রম করেছিলাম। নদীতে মাছ ধরা ও কৃষি কাজ করতাম। কিন্তু নদী ভাঙনের শিকার হয়ে দুঃখ বাড়তে থাকে। বেশ কয়েকবার নদীর ভাঙনের শিকার হয়েছি। ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডর আমাকে বসতঘর ছাড়া করে। আমি দুঃখের সাগরে ভেসে যাই।

কিন্তু মনোবল হারাইনি। নিজের এলাকা ছেড়ে বরিশালের হিজলার গৌরবদী ইউপির চরজাংপুর এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করি। সেখানে চার বছর থাকার পর নাড়ির টানে নিজ এলাকা চরভৈরবীতে ফিরে আসি। আবারো নদীতে মাছ ধরার পাশাপাশি কৃষি কাজ করে কষ্টে পরিবার-পরিজন নিয়ে দিন কাটাতে শুরু করি।

তিনি আরো বলেন, আড়াই বছর আগে মোবাইলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে হাঁস পালনের কথা জানতে পেরে আগ্রহী হই। চরভৈরবী ইউপির মেঘনা নদীতে জেগে উঠা ‘মধ্য চর’ এ শুরু করি হাঁসের খামার।

দেলোয়ার বলেন, আত্মীয় ও বন্ধু-বান্ধবের কাছ থেকে ঋণ নেই। এতে সাত লাখের অধিক টাকা পুঁজি খাটাই। দুই বছরেই আত্মীয়সহ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে নেয়া ঋণ পরিশোধ করি। আমি এখন স্বাবলম্বী। হাঁসের খামার আমার দুঃখের জীবন বদলে দিয়েছে।

সফলতার গল্প বলতে গিয়ে দেলোয়ার জানান, ২০০ হাঁসের বাচ্চা নিয়ে স্বপ্ন যাত্রা শুরু করেন। এখন তার খামারে চার হাজারের বেশি হাঁস রয়েছে। এসব হাঁস নদীর শামুক, মাছসহ প্রাকৃতিক খাবার খায়। তিনি শুধু প্রতিদিন এক বেলা খাবারের ব্যবস্থা করেন। হাঁসের খাবারের ৭৫ ভাগই প্রাকৃতিকভাবে যোগান দেয়া হয়। এতে আর্থিকভাবে অনেক লাভবান হচ্ছেন তিনি। হাঁস থেকে প্রতিদিন দুই হাজার ডিম পান তিনি। হাঁস ও ডিম বিক্রি করে প্রতি মাসে তিনি আয় করছেন লাখের অধিক টাকা।

দেলোয়ার বলেন, যখন হাঁসের খামার শুরু করি তখন বেশকিছু হাঁস মারা যায়। কিন্তু মনোবল হারাইনি। ধৈর্য ধরে সবকিছু মোকাবিলা করেছি। আল্লাহর রহমতে এখন ভালো আছি। সরকারি সহায়তা পেলে হাঁসের খামারের পরিধি বাড়ানোর ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, খামারে পাঁচ থেকে ছয় শ্রমিক কাজ করছেন। প্রতি মাসে তাদের পেছনে ব্যয় হয় ৬০ হাজার টাকার বেশি।

হাঁসের খামারে কর্মরত শ্রমিক নাদিম আহমদ ও মনির মোল্লা বলেন, প্রায় আড়াই বছর যাবত দেলোয়ার ভাইয়ের খামারে কর্মরত আছি। এ খামারের মাধ্যমে আমাদের কর্মসংস্থান হয়েছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে বেশ সুখেই আছি।

স্থানীয় যুবক সবুজ হোসেন ও ছানাউল্যাহ দেওয়ান বলেন, দেলোয়ার ভাইয়ের হাঁসের খামারের খবর শুনে দেখতে যাই। এতে আমরাসহ বাবুরচর, চোকদার কান্দি, হাওলাদার কান্দি, বেপারী কান্দি ও আখনকান্দি এলাকার যুবকরা তার খামার দেখে উদ্বুদ্ধ হচ্ছি। খামার দেখে মনে হয় সোনার খনি। দেলোয়ার ভাইয়ের কাছ থেকে বিভিন্ন বিষয় জিজ্ঞেস করে জেনে নিচ্ছি। আমাদের মতো দেশে অনেক বেকার যুবক রয়েছে। বেকারত্ব দূরীকরণে হাঁসের খামার দেয়ার চিন্তা-ভাবনা করছি।

চরভৈরবী ইউপির চেয়ারম্যান আহম্মদ আলী মাস্টার বলেন, দেলোয়ারকে এগিয়ে নিতে পরিষদ সবধরনের সহযোগিতা করবে। আমরা চাই, এলাকার বেকার যুবকরা খামার গড়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করুক।

হাইমচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুর হোসেন পাটওয়ারী ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, চরভৈরবী ইউপির মেঘনা নদীর বুকে আট কিলোমিটার এলাকা জুড়ে জেগে উঠা ‘মধ্যচর’ এলাকায় হাঁসের খামার গড়ে তুলেছেন দেলোয়ার মিজি। তার আরো সাফল্য অর্জনে উপজেলা পরিষদ ও যুব উন্নয়নের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আর্থিক বা যেকোনো ধরনের সহায়তা দেয়া হবে।

হাইমচরের ইউএনও ফেরদৌসী বেগম ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। এ ক্ষেত্রে কেউ সহযোগিতা চাইলে তাকে তা করা হবে।

হাইমচর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. আবু হাসান লাভলু ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, যারা হাঁস, মুরগী, মাছসহ বিভিন্ন খামার গড়ে তুলেছেন, তাদের সবধরনের সহযোগিতা করা হয়। দেলোয়ার মিজি নিজের চেষ্টায় চরে হাঁসের খামার গড়ে তুলেছেন। কোনো ধরনের সহযোগিতার প্রয়োজন হলে তাকে তা করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ

Please Share This Post in Your Social Media

১৯

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

38449521
Users Today : 1145
Users Yesterday : 1193
Views Today : 9537
Who's Online : 20
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design And Developed By Freelancer Zone