বুধবার, ১৯ মে ২০২১, ০৩:০০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
সাংবাদিক রোজিনার মুক্তির দাবিতে লক্ষ্মীপুরে মানববন্ধন চাটখিলে টিসিবির ১৯৬ লিটার তেল জব্দ, ২০হাজার টাকা জরিমানা করোনায় আরো ৩০ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১২৭২ ‘সাংবাদিক নির্যাতনে বিশ্ব মিডিয়ায় বাংলাদেশের ইমেজ প্রশ্নবিদ্ধ’ কবিতা…অভিমান -বিচিত্র কুমার রোজিনার বিষয়ে দুই মন্ত্রীর সঙ্গে প্রেসক্লাব নেতাদের বৈঠক ‘সরকারকে বাঁশ দেওয়ার জন্য গুটিকয়েক মন্ত্রী–সচিবই যথেষ্ট’ সম্পাদক পরিষদের বিবৃতি সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধের মানসিকতা থেকে রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা বৃহস্পতিবার থেকে ৬৫ দিন সমুদ্রে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা সাংবাদিককে হেনস্তা: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি সাংবাদিক রোজিনাকে নি:শর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছে বিএমএসএফ নওগাঁর মহাদেবপুরে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের উপর হামলার প্রতিবাদে ডিজিটাল প্রেসক্লাবের নিন্দা ধুপাজান চলতি নদীতে সদর থানা পুলিশের অভিযানে ৭টি নৌকা আটক প্রায় ৩লাখ টাকা জরিমানা নোয়াখালীতে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে নির্যাতন ও আটকের প্রতিবাদে মানববন্ধন বরিশালে গরমে তৃপ্তি মেটাতে পানি তালের চাহিদা বেড়েছে

নড়াইলে অসহায় সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের ৪টি গরু লুট প্রতিপক্ষ উল্টো মারধর করে পুলিশে দিল

উজ্জ্বল রায় নড়াইল জেলা প্রতিনিধি■: রবিবার (২০,অক্টোবর) ২৭৪: \ নড়াইলে সংখ্যালঘু হিন্দু স¤প্রদায়ের সুমঙ্গল মন্ডল ওরফে বাবু (৭৮) নামের এক দম্পতিকে মারধর করে বাঁশ ও গরু লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে প্রতিপক্ষের ভয়ে এখনো পর্যন্ত মামলা করতে পারেননি তিনি। উল্টো সুমঙ্গল দম্পতির নামে মামলা করেছেন প্রতিপক্ষরা। নড়াইলের নড়াগাতির বাঐসোনা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কানাইপুর গ্রামের বালা উদ্দিন মোল্যাসহ তার ছেলে ও ভাতিজারা সুমঙ্গল ও তার স্ত্রী দিপালী মন্ডলের (৫৮) ওপর হামলা চালায়। তবে অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় উল্টো সুমঙ্গল মন্ডল ও তার স্ত্রীর নামে মামলা দায়ের করেন। আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায় জানান, উল্টো পুলিশ তাদের গ্রেফতার করেছে। ভুক্তভোগী সুমঙ্গল মন্ডল জানান, স্থানীয় খলিশাখালী গ্রামে ৪২ শতক মাতুল জমির ওপর তিনি দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু, ১৯৯১ সালের ৯ মে বালা উদ্দিন মোল্যারা সুমঙ্গল মন্ডলের (৪২) শতক জমি জাল দলিল করে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জাল দলিলের বিষয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিশ বৈঠক হয়েছে। পরে সুমঙ্গলের স্ত্রী বাদী হয়ে আদালতে মামলাও করেন। বিচারাধীন থাকা অবস্থায় প্রভাব খাটিয়ে বালা উদ্দিন মোল্যাসহ তার লোকজন ওই জমি থেকে বাঁশ কাটতে যায়। সুমঙ্গল মন্ডল ও তার স্ত্রী বাঁধা দিলে বালা উদ্দিন মোল্যাসহ তার লোকজন সুমঙ্গল দম্পতিকে বেড়ধক মারধরসহ তাদের বসত ঘর ভাঙচুর করে। এছাড়া চারটি গরু নিয়ে যায়। আর সাড়ে তিন হাজার টাকার বাঁশ কেটে বিক্রি করে দেয়। এরপর সুমঙ্গল দম্পতিকে পুলিশে ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে, বালা উদ্দিন মোল্যার ছেলে শাহ আলম মোল্যা বাদী হয়ে উল্টো সুমঙ্গল মন্ডল ও তার স্ত্রী দিপালীকে আসামি করে ওইদিন (১৭ সেপ্টেম্বর) নড়াগাতি থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় সুমঙ্গল চারদিন কারাগারে ছিলেন। জামিনে এসে গত ২৩ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর নড়াইলের কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে-জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এজাহারকারীর বাবার (বালা উদ্দিন মোল্যা) নাম ধরে সুমঙ্গল মন্ডল গালিগালাজ করে। এজাহারকারীর ছোট ভাই শাহিন গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে সুমঙ্গল মন্ডল ভেলা (সড়কি) দিয়ে শাহিন মোল্যার বুকের ডান পাশে জখম করে। আর সুমঙ্গলের স্ত্রী দিপালী বাঁশের লাঠি দিয়ে শাহিনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারপিট করে। কিন্তু এজাহারের বিষয়টি এলাকার লোকজন হাস্যকর বলে মনে করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন জানান, ৭৮ বছরের বয়োবৃদ্ধ সুমঙ্গল মন্ডলের পক্ষে ভেলা দিয়ে কোপানো সম্ভব নয়। সুমঙ্গলের স্ত্রীও মারধর করেনি। তবে অভিযুক্ত বালা উদ্দিন মোল্যাদের ভয়ে আশেপাশের কেউ মুখ খুলতে চায়নি। বালা উদ্দিন মোল্যার ভাজিতা শাহ মোহাম্মদ ফোরকান মোল্যা বাঐসোনা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান। এ ব্যাপারে মামলার বাদী শাহ আলম মোল্যার সঙ্গে মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া মেলেনি। তবে বাঐসোনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ ফোরকান মোল্যা বলেন, সুমঙ্গল মন্ডল ভেলা (সড়কি) দিয়ে চাচাতো ভাই শাহিন মোল্যাকে কুপিয়ে জখম করে। স্থানীয় ইউপি মেম্বার আইনুল বলেন, বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের মধ্যে কথাকাটি এবং সুমঙ্গলের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে বলে লোকমুখে শুনেছি। আর গরু লুটের বিষয়টি আমার জানা নেই তবে অভিযুক্তরা ক্ষমতাশালী হওয়ায় উল্টো সুমঙ্গল মন্ডল ও তার স্ত্রীর নামে মামলা দায়েরের পর পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। এই হচ্ছে সংখ্যালঘুদের হিন্দু স¤প্রদায়ের সুখে থাকার নমুনা। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নড়াইলের নড়াগাতি থানার এসআই এ কে এম তসরিফুজ্জামান বলেন, মামলার বাদী শাহ আলম মোল্যা বাঁশ কাটতে গেলে সুমঙ্গল বাঁধা দেন। কাটাকাটির এক পর্যায়ে সুমঙ্গল মন্ডল প্রতিপক্ষের শাহিন মোল্যাকে মারধর করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে জানা যায়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। নড়াইলে সংখ্যালঘু হিন্দু স¤প্রদায়ের বয়োবৃদ্ধ দম্পতিকে মারধর করে বাঁশ ও গরু লুট বালাউদ্দিন মোল্যাসহ তার ছেলে ও ভাতিজারা, উল্টো ভুক্তভোগী সুমঙ্গল মন্ডল দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে অভিরুক্তরা ক্ষমতাশালী হওয়ায় উল্টো সুমঙ্গল মন্ডল ও তার স্ত্রীর নামে মামলা দায়েরের পর পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। এরআগে জেলার লামা উপজেলা সদর ইউনিয়নের মেরাখোলা হিন্দু পাড়া এলাকায় আগুনে গুন্না নাথ (৫৫) নামে স্বামী সন্তান হীন ও অসহায় মহিলার ঘর পুড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার মোজাম্মেল হক বলেন, রাত ১টা ৩০মিনিটে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। বসত ঘর ও রান্নাঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বলে ধারণা করা হয়। সরজমিনে গেলে কথা হয় ক্ষতিগ্রস্থ মহিলা গুন্না নাথের সাথে। তিনি জানান, বাড়িতে আমি একা থাকতাম। আমার স্বামী সন্তান কেউ নাই। মাঝে মধ্যে দিনে কাজকর্ম শেষে রাত হলে পাশে ভাইয়ের ঘরে থাকতাম। এই রাতে আমি পার্শ্ববর্তী ছোট ভাই পূর্ণ চন্দ্র নাথের বাড়িতে ঘুমাই। আমার ঘরে বিদ্যুৎ নেই ও রাতে কোন রান্নাবান্না করিনি। কিভাবে আগুন লাগল বুঝতে পারছিনা। আমার মনে হয় কেউ বা কারা শত্রুতা করে আমার অনুপুস্থিতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। বসতঘরের পশ্চিম-দক্ষিণ কোণা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। বসতঘর ও রান্নাঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে বলে জানান। মেরাখোলা সদর ইউপি চেয়ারম্যান মিন্টু কুমার সেন ঘটনার বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন। এবং এই ঘটনা তদন্ত করবেন এবং সহায়তার আশ্বাস দেন। অপরদিকে, প্রাইড জুট মিলের এক নারী শ্রমিকের লাশ আড়পাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম আড়পাড়া গ্রামের একটি কলা বাগান থেকে উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। ওই শ্রমিকের নাম রেখা রানী বিশ্বাস (৩৫)। স্বামীর নাম রাম গোপাল বিশ্বাস। বাড়ী মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার বড়ালদাহ গ্রামে। সে ওই বাগানের পাশে একটি ভাড়া বাড়ীতে থাকত। সে এক ছেলে এক মেয়ের জননী। রেখা বিশ্বাসের স্বামী গোপাল বিশ্বাস বলেন, আমার এক ছেলে ও এক মেয়ে। যে দেশে আমার স্ত্রীর সাথে এমন করা হয় সেখানে আমার মেয়েকে নিয়ে তো চরম সংশয়। আমরা কি দোষ করেছিলাম যে এভাবে তার খেসারত দিতে হল। এখন আমার মেয়ের কি হবে, আমি বা আমার ছেলে সারাদিন বাড়ি থাকবো না এটাই স্বাভাবিক। কোনোদিন ফিরে এসে দেখবো আমার মেয়েও ঘরে এভাবে লাশ হয়ে পড়ে আছে আর সারা ঘরে ভেসে যাওয়া রক্ত তার উপর হওয়া অত্যাচারের জানান দিচ্ছে। সংখ্যালঘুদের জন্য এখন যে ভয়-ভীতি-আতঙ্কের মৃত্যু পুরীতে পরিণত হয়েছে। রেখা বিশ্বাসের স্বামী গোপাল বিশ্বাস আরো বলেন, এই মৃত্যু পুরীর অবসান কে ঘটাবে, আজ সকালে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালী প্রাইড জুট মিলের এক নারী শ্রমিকের লাশ আড়পাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম আড়পাড়া গ্রামের একটি কলা বাগান থেকে উদ্ধার করেছে মধুখালী থানা পুলিশ।

Please Share This Post in Your Social Media

https://twitter.com/WDeshersangbad


বঙ্গবন্ধু কাতরকণ্ঠে বলেন, মারাত্মক বিপর্যয়

বঙ্গবন্ধু কাতরকণ্ঠে বলেন, মারাত্মক বিপর্যয়

© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design And Developed By Freelancer Zone