শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ১১:২১ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
গৃহহীনদের ঘর দেয়ার কথা বলে অর্থ নেয়ার অভিযোগে সাঁথিয়ায় আ’লীগ নেতাকে শোক’জ করোনায় ১৫ দিনে ১২ ব্যাংকারের মৃত্যু পৃথিবীতে কোনো জালিম চিরস্থায়ী হয়নি: বাবুনগরী যারা আ.লীগ সমর্থন করে তারা প্রকৃত মুসলমান নয়: নূর চট্টগ্রামে বেপরোয়া হুইপপুত্র যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা অক্সিজেনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে ভারতে ৪ ঘণ্টা পর পাকিস্তানে খুলে দেয়া হলো সোশ্যাল মিডিয়া করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ১০১ জনের মৃত্যু ভাড়াটিয়াকে তাড়িয়ে দিলেন বাড়িওয়ালা, পুলিশের হস্তক্ষেপে রক্ষা জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে জনপ্রিয় নায়িকা মিষ্টি মেয়ে কবরী স্বামী পরিত্যক্তা নারীকে গণধর্ষণ, আটক ৩ দুই দিনের রিমান্ডে ‘শিশুবক্তা’ রফিকুল লকডাউনেও মসজিদে মসজিদে মুসল্লিদের ঢল বেনাপোলে ৮৮ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারী আটক

পাঁচ পয়সার ডাক্তার

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: পাঁচ পয়সা। বই-পুস্তুকে পড়লেও বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই হয়তো চোখে দেখেনি। কেননা পয়সা অনেকেই কাছে মূল্যহীন। তবে অবাক করার মতো বিষয়, পাঁচ পয়সাতেই মেলে হোমিও চিকিৎসা। গাইবান্ধা শহরের পুরাতন বাজারে নিজ চিকিৎসালয়ে রোগীদের এ সেবা দেন নুরুল ইসলাম সরকার। সেবা নিতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন বিভিন্ন ধরনের রোগী। ১৯২৯ সালে গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটী ইউনিয়নের পশ্চিম কোমরনই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন পাঁচ পয়সার এ চিকিৎসক নুরুল ইসলাম সরকার। ১৯৫০ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন তিনি। এরপর চাকরি করেন একটি কাপড়ের দোকানে। ১৯৬৭ সালে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। ১৯৬৮ সালে এক পুরিয়া ঔষুধের দাম পাঁচ পয়সা নিয়ে চিকিৎসা শুরু করেন তিনি। নুরুল ইসলাম সরকারের চিকিৎসায় মানুষ দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠলে চারদিকে সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। আর তখন থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে মানুষ ছুটে আসেন তার কাছে। এখন তার আসার আগেই রোগীদের ভিড় জমে চিকিৎসালয়ের সামনে। নারী-পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধদের উপচে পড়া ভিড় তার চিকিৎসালয়ের। কেউ দাঁড়িয়ে আবার কেউ বসে আছেন। রোগীর কাছ থেকে বর্ণণা শুনে রোগ নির্ণয় করে একটি কাগজে ঔষুধের নাম লিখছেন হোমিও চিকিৎসক নুরুল ইসলাম। পরে সেই কাগজ দেখে তার সহকারীরা ঔষুধ রোগীর হাতে দিচ্ছেন। শহরের দক্ষিণ ধানঘড়া এলাকার খলিলুর রহমান বলেন, আমার মা গলায় ভাত আটকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নেই। তারা রংপুর মেডিকেলে নেয়ার পরামর্শ দেন। পরে মাকে পাঁচ পয়সার ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাই। তার দেয়া দুই পুরিয়া ঔষুধ খেয়েই সুস্থ হন তিনি। শহরের সুখনগর এলাকার সুমন মিয়া বলেন, কোনো রোগে আক্রান্ত হলেই বাবা পাঁচ পয়সার ডাক্তারের কাছে নিতেন। ছোটবেলা থেকেই আমি ও আমার ভাই-বোনেরা তার চিকিৎসা নিয়েছি। আমার সন্তানকেও তার কাছে নিয়ে যাই। তার চিকিৎসায় আমরা সন্তুষ্ট। চিকিৎসালয়ের সহকারী রনি মিয়া বলেন, চেম্বার খোলার আগেই জেলা সদর, সুন্দরগঞ্জ, সাদুল্লাপুর,পলাশবাড়ী.সাঘাটা, গোবিন্দগঞ্জ ও ফুলছড়ি থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীরা আসেন। তার চিকিৎসার সুনাম এখন পুরো জেলাজুড়ে। এভাবে প্রতিদিনই প্রায় চার-পাঁচশ রোগীর চিকিৎসা দেন পাঁচ পয়সার ডাক্তার। এতে ঔষুধের দাম ছাড়া কোনো ফি নেন না তিনি। তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে দুপুর সোয়া একটা ও বিকেল সাড়ে চারটা থেকে রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত রোগী দেখা হয়। নুরুল ইসলাম সরকার বলেন, ১৯৬৮ সাল থেকে চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত রয়েছি। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও নিজের চেষ্টা ও বই পড়ে চিকিৎসক হয়েছি। দীর্ঘ ১৫ বছর রোগীদের কাছ থেকে পাঁচ পয়সা করে নিয়েছি। পরে এক-দুই টাকা করে নিতাম। বর্তমানে রোগ ভেদে ঔষুধের দাম নেয়া হয় পাঁচ টাকা পর্যন্ত।

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

38449010
Users Today : 634
Users Yesterday : 1193
Views Today : 3485
Who's Online : 19
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design And Developed By Freelancer Zone