শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ১০:৩৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
মিনা পাল থেকে সিনেমার ‘মিষ্টি মেয়ে’ কবরী সপরিবারে ভ্যাকসিনের ২য় ডোজ নিলেন আলমগীর সৌদি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট চলবে রোববার থেকে নতুন করে দেড় কোটি মানুষকে দরিদ্র করেছে করোনা রমজানে যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন ইলিয়াস আলী নিখোঁজের বিষয়ে নতুন তথ্য দিলেন আব্বাস বাতাসেও ছড়ায় করোনাভাইরাস নববর্ষে গণস্বাস্থ্যের উপহার ৬ ক্যাটাগরিতে ফি কমালো গণস্বাস্থ্য ডায়ালাইসিস সেন্টার বাংলাদেশকে ৬০ লাখ ডোজ টিকা দিতে চায় চীনা কোম্পানি চীনকে ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলার প্রতিশ্রুতি সুগা ও বাইডেনের দুমকিতে ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি, স্লাইন ও বেড সংকট চরম ভোগান্তিতে রোগীরা।। আওয়ামী লীগে আদর্শিক নেতৃত্বের কবর   !  কবরী দেশকে ভালোবেসে ঋণী করেছেন : নতুনধারা রত্নগর্ভা মুনজুরা চৌধুরীর দাফন সম্পন্ন বড়াইগ্রামে কৃষি জমিতে পুকুর খনন, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

পা দিয়ে লিখে জিপিএ-৫ পেয়েছে মুক্তামনি

বরিশাল ব্যুরো ॥ দুটি হাত না থাকার পরেও অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর চেষ্টায় পা দিয়ে লিখেই প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে ১২ বছরের মুক্তামনি। শুধু পরিবার নয়; জেলার হিজলা উপজেলার পূর্ব পত্তণীভাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও মুক্তামনিকে নিয়ে এ বিজয়ের স্বপ্ন দেখেছিলেন।মুক্তামনির বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক নাছিমা খানম বুধবার সকালে বলেন, অবশেষে আমাদের সকল শিক্ষকের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। মুক্তামনি পিএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। আমরা আশাকরি সামনের দিনগুলো তার আরও ভালোভাবে কাটবে এবং ভবিষ্যত তার উজ্জল হবে। তিনি বলেন, ফলাফল পাওয়ার পর মুক্তামনি ও তার পরিবারের সাথে কথা হয়েছে। রেজাল্ট ভালো করায় তারা যেমন খুশি হয়েছেন তেমনি এখন বৃত্তি পাওয়ার আশা করছেন। মুক্তামনির পরীক্ষা শেষ হওয়ার দুইদিন পর তার গ্রামের একমাত্র আশ্রয়স্থল দাদী মারা যাওয়ায় এখন সে (মুক্তা) তার মায়ের সাথে ঢাকার রয়েছে। সেখানে সাভারের একটি স্কুলেও ভর্তি হয়েছে মুক্তামনি। প্রধানশিক্ষক জানান, তার বিদ্যালয় থেকে এবার ১৪ জন শিক্ষার্থী পিইসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলো। তাদের মধ্যে মুক্তামনির দুটি হাত না থাকায় সে পা দিয়েই লিখেছে। অন্যান্যদের চেয়ে মুক্তার লেখা অনেক সুন্দর। আর ১৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মুক্তা একাই জিপিএ-৫ পেয়েছে।
তিনি (প্রধানশিক্ষক) আরও জানান, মুক্তামনি এতোটাই ভালো ছাত্রী যে, সে কখনো বিনাকারণে স্কুলে অনুপস্থিত থাকেনি। সে নিজের যেকোনো সমস্যা খাদিজা বেগম নামের এক শিক্ষিকার সাথে আলোচনা করে নিতো।
সূত্রমতে, শুরুতে মুক্তামনি গ্রামেই থাকতো। তার মা ঝুমুর বেগম জীবিকার তাগিদে সাভারে বসবাস করে গার্মেন্টসে চাকরি করেন। দুই বছর আগে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়াকালীন সময় মুক্তামনি ঢাকার সাভারে যায়। সেখানেই বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে মুক্তামনি তার দুই হাত হারিয়েছে। চিকিৎসার প্রয়োজনে প্রথমে কনুই থেকে দুটি হাত কেটে ফেলা হলেও ক্ষত ঠিক না হওয়ার একপর্যায়ে পুরোপুরি দুটো হাতই শরীর থেকে কেটে ফেলা হয়েছে। পরবর্তীতে পত্তনীভাঙ্গা গ্রামে দাদী জাহানারা বেগমের কাছে থেকে ধীরে ধীরে সুস্থ্য হয়ে উঠলে পুনরায় পড়াশোনা করতে চায় মুক্তামনি। তার ইচ্ছেতেই ২০১৮ সালে বাবা সেন্টু মিয়া ও মা ঝুমুর বেগম পূর্ব পত্তণীভাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি করে মুক্তামনিকে।
সূত্রে আরও জানা গেছে, দুই হাত হারিয়ে নতুন স্কুল জীবনের শুরু থেকেই ডান পায়ের আঙ্গুলের ফাঁকে কলম দিয়ে লেখার অভ্যাস করতে থাকে মুক্তামনি। আর এখন হাতে লেখা যে কারো মতো স্বাভাবিক গতিতেই পা দিয়ে অনায়াসে সে লিখে যেতে পারে। মুক্তার চিকিৎসাসহ আরও এক বোনের পড়াশোনার খরচ চালিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছে তার হতদরিদ্র পরিবার। তবুও মেয়েদের উচ্চশিক্ষিত করতে চান তার মা। মুক্তামনির স্বপ্ন একদিন সে শিক্ষক হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

১৯

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

38449500
Users Today : 1124
Users Yesterday : 1193
Views Today : 9230
Who's Online : 26
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design And Developed By Freelancer Zone