মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ০৯:২৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
কুড়িগ্রামে গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজ চাষে সফল তিন তরুণ সোনাগাজীতে জাতীয় পার্টির পক্ষে ২শতাধিক ব্যক্তির মাঝে নগদ টাকা বিতরণ লক্ষ্মীপুরে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে হঠাৎ প্রতিবন্ধীর বাড়িতে হাজির ওসি জসিম উদ্দিন ময়মনসিংহের ত্রিশালে সাংবাদিক এনামুল ফাউন্ডেশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল করোনায় পরিবহন শ্রমিকদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে : আ ন ম শামসুল ইসলাম বিয়ে করার জন্য পাত্র খুজছেন তসলিমা নাসরিন ছাত্রীর স্ত”নে শিক্ষকের একাধিক বে’ত্রাঘা’ত, হা’সপা’তা’লে শিক্ষার্থী সাপাহারে ভিজিএফ’র তালিকা প্রস্তুতে অনিয়মের অভিযোগ করোনাকালীন শিক্ষা, আমাদের অর্জন ও ভবিষ্যত। ডোমারে শিশুদের মাঝে ঈদের পোষাক উপহার দিল সবার পাঠশালা গাইবান্ধায় বিশ্ব মা দিবস উদযাপন বজ্রপাত থেকে রক্ষা পেতে কৃষকের ছাউনি এক বোটায় ধরেছে ৭ লাউ! শিক্ষার্থীদের জন্ম নিবন্ধন অনলাইনে করার নির্দেশ ডিজিটাল বুথের মনিটরে ক্লিক করলেই মিলবে জমির খতিয়ান

রাস্তা ফাঁকা জমজমাট বাজার

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে চলমান লকডাউনের তৃতীয় দিনে রাজধানীর সড়কগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে যথারীতি কঠোর অবস্থানে দেখা গেছে। কিন্তু বিভিন্ন মহল্লা এবং বাজারগুলোতে অনেকটাই শিথিল বিধিনিষেধ।

এদিকে রমজান মাসের প্রথম জুমার নামাজে রাজধানীর মসজিদগুলোতে শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) মুসল্লিদের ঢল নামে। গতকাল শুক্রবার যাত্রাবাড়ী এলাকার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং আশপাশের বিভিন্ন মহল্লা ও বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে যাত্রাবাড়ীর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গিয়ে দেখা গেছে, শুধু পণ্যবাহী ট্রাক, পিকআপ ভ্যান এবং প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাস চলাচল করছে। তাও সংখ্যায় খুব বেশি নয়। মাঝে মাঝে দু-একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও দেখা যাচ্ছিল।

এই মহাসড়কের রায়েরবাগে ‘পুনম’ সিনেমা হলের দিকে মহাসড়কে বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে পুলিশের চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। সেখান থেকে যাতায়াতকারী প্রতিটি প্রাইভেটকার এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে পুলিশের চেকের মুখে পড়তে হচ্ছে।

চেকপোস্টে দায়িত্বরত পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ব্যক্তিগত কোনো গাড়ি আমরা চেক না করে ছাড়ছি না। উপযুক্ত অনুমতিপত্র না দেখাতে পারলে ফিরিয়ে দিচ্ছি। প্রয়োজনে শাস্তিও দেওয়া হচ্ছে।’

এই বাসস্ট্যান্ডে রাস্তার উভয়পাশেই বিভিন্ন গন্তব্যে রওনা দেওয়া যাত্রীদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া, ভ্যানগাড়িতে চড়ে লোকজনকে এই মহাসড়ক দিয়ে সাইনবোর্ড এলাকার দিকে যেতে দেখা গেছে।

মহাসড়কে চোখে পড়ছে ব্যাটারিচালিত ও পায়ে চলা রিকশা। পায়ে চলা রিকশার প্রতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিছুটা শিথিল হলেও ব্যাটারিচালিত রিকশা পেলেই আটকে দেওয়া হচ্ছিল। রায়েরবাগ বাসস্ট্যান্ডের দক্ষিণ পাশে একসঙ্গে চারটি ব্যাটারিচালিত রিকশা উল্টো করে রাখতে দেখা গেছে। এই মহাসড়কে পাশেই যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগ, উত্তর রায়েরবাগ, শনিরআখড়া, জনতাবাগ, গোবিন্দপুর, কাজলা, দনিয়া এলাকা। এসব এলাকার ভেতরে চলাচল কিংবা স্বাস্থ্যবিধি পালনের ক্ষেত্রে তেমন কড়াকড়ি চোখে পড়েনি।

মহল্লার ভেতরের বেশিরভাগ দোকানপাটই খোলা দেখা গেছে। এলাকার রাস্তার পাশে অস্থায়ী এবং স্থায়ী কাঁচাবাজারগুলোতে ছিল লোকজনের ভিড়। উত্তর রায়েরবাগে দোতলা মসজিদ এলাকায় বাজার করতে ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে।

সেখানকার মুদি দোকানি বাবুল মিয়া বলেন, ‘বেচা-বিক্রি অনেক কম। বেশিরভাগ মানুষই দেশে চলে গেছে।’

গত দুইদিনে দেখা গেছে, বিকেল হলেই মহল্লার ইফতারির খাদ্যপণ্যের দোকানগুলোতে ভিড় চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। তখন স্বাস্থ্যবিধির বালাই থাকে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গত বুধবার ভোর ৬টা থেকে আটদিনের কঠোর লকডাউন (বিধিনিষেধ) শুরু হয়েছে। আগামী ২১ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ বহাল থাকবে।

লকডাউন ঘোষণা করে গত ১২ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এ সময়ের মধ্যে পালনের জন্য ১৩টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।

লকডাউনের আটদিন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। বন্ধ থাকবে গণপরিবহন। তবে জরুরি সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠান-সংস্থা খোলা রয়েছে। খোলা রয়েছে শিল্প-কারখানা। সীমিত পরিসরে দেওয়া হচ্ছে ব্যাংকিং সেবা।

এই সময়ে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়া যাবে না। খোলা স্থানে কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য কেনা-বেচা করা যাবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত।

এদিকে রমজান মাসের প্রথম জুমার নামাজে রাজধানীর মসজিদগুলোতে শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) মুসল্লিদের ঢল নামে। জুমার নামাজ পড়তে আসা বেশিরভাগ মুসল্লি মাস্ক পরে এলেও জায়গার অভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে দেখা যায়নি।

শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার পর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে উপস্থিত হন মুসল্লিরা। দেখতে দেখতে বেশিরভাগ মসজিদই কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। মসজিদ প্রাঙ্গণে জায়গা না হওয়ায় শত শত মুসল্লি রাস্তায় দাঁড়িয়ে জুমার নামাজ আদায় করেন।

দুপুর ১টার দিকে রামপুরার সালাম বাগ মসজিদে গিয়ে দেখা যায়, হাজারের অধিক মুসল্লির উপস্থিতিতে মসজিদ প্রাঙ্গণ পুরোটাই ভরে গেছে। মসজিদ প্রাঙ্গণে জায়গা না হওয়ায় কয়েকশ মুসল্লি রাস্তায় জায়নামাজ পেতে জুমার নামাজে অংশ নেন।

মসজিদটিতে জুমার নামাজ আদায় করা মো. আল মামুন বলেন, প্রতি জুমার নামাজেই এই মসজিদে মুসল্লিদের চাপ থাকে। তবে আজ রোজার প্রথম জুমা হওয়ায় মুসল্লিদের উপস্থিতি অন্যদিনের তুলনায় বেশি।

তিনি বলেন, ‘মানুষ এখন করোনাভাইরাসকে ভয় পায় না। গত বছর যখন করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হয়, মানুষ তখন বেশ ভয়ে ছিল। ঘর থেকে বের হওয়ার সাহস হতো না। কিন্তু এখন করোনাভাইরাসের ভয় আগের মতো নেই।’

মসজিদটিতে জুমার নামাজ আদায় করা আরেক মুসল্লি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, আজ রোজার প্রথম জুমার নামাজ হওয়ায় মসজিদে ভিড় হবে ধারণা করেছিলাম। এজন্য ১টার আগেই মসজিদে চলে আসি। তারপরও মসজিদের ভেতরে জায়গা পাইনি। এজন্য মসজিদের বাইরে নামাজ আদায় করতে হয়েছে।

রামপুরার মতো খিলগাঁও, যাত্রাবাড়ী ও মিরপুরের বিভিন্ন মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে বিপুল সংখ্যক মুসল্লিদের আগমনের তথ্য পাওয়া গেছে। মিরপুরের মধ্য পাইকপাড়া জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করা মো. মনির হোসেন বলেন, আমাদের মসজিদে প্রতি জুমার নামাজে মুসল্লিদের ভিড় হয়। তবে আজ অন্যান্য দিনের তুলনায় ভিড় বেশি ছিল।

তিনি বলেন, মুসল্লিরা শান্তিপূর্ণভাবে মসজিদে ও রাস্তায় অবস্থান নিয়ে জুমার নামাজ আদায় করেছেন। জুমার দুই রাকাত ফরজ নামাজ শেষে করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি পাওয়ার দোয়া করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media


বঙ্গবন্ধু কাতরকণ্ঠে বলেন, মারাত্মক বিপর্যয়

বঙ্গবন্ধু কাতরকণ্ঠে বলেন, মারাত্মক বিপর্যয়

https://twitter.com/WDeshersangbad

© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design And Developed By Freelancer Zone