রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ১২:০৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
নুসরাতের বিরুদ্ধেই বহু অভিযোগ এবার হামাস প্রধানের বাড়িতে ইসরায়েলের হামলা সিরাজগঞ্জে মহাসড়কে চলছে দূরপাল্লার বাস কচুয়ার সাচার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ঈদ পূর্নমিলনী অনুষ্ঠিত কচুয়ায় পঞ্চগ্রাম মানব কল্যান সংস্থার কার্যনির্বাহী কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত অফিস, ব্যাংক-বিমা ও শেয়ারবাজার খুলছে আদালতের রায় অমান্য করে সোনাগাজীর বগাদানায় সংখ্যালঘু পরিবারের ভূমি দখলের অভিযোগ বাশঁখালীতে যুবতীর ভাসমান লাশ উদ্ধার ‘ফিরতিযাত্রা’ নির্বিঘ্ন করার উপায় খুঁজছে সরকার গাজায় হত্যাযজ্ঞ নেতানিয়াহুকে ফোন করে সমর্থনের কথা জানালেন বাইডেন ঈদের দিন বায়তুল মোকাররমে ফিলিস্তিনি যুবকের বক্তব্য ভাইরাল (ভিডিও) অতিরিক্ত মদপানে রুমার মৃত্যু, ধারণা পুলিশের হেফাজতের নতুন আহ্বায়ক কমিটি জিডি ও এজহারের মধ্যে পার্থক্য জানেন কি? জুনের আগে মিলছে না নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্স

সজ্জিত শপিংমল আমাকে টানে না

আমরা ফ্রি টেলিমেডিসিন সেবা দিচ্ছি। সারাদিন ফোন আসে যখন তখন। মানুষের মাঝে ভয় আর আতঙ্ক। প্যানিক এট্যাক নিয়েও ফোন করছে অসহায় মানুষ। মানুষ খাবারের জন্য, সাহায্যের জন্য হাত পাতছে। কতজন নিজ উদ্যোগে, প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে সাহায্য করছেন।কিন্তু যদি দলে দলে মানুষ কেনাকাটার জন্য বাইরে যায়, তখন কি আমাদের সেবার আর কোনো প্রয়োজন থাকে? বিবেক বিবেচনা দিয়েই তো তারা ঘরের বাইরে!

যারা সাহায্য করছেন, তাদেরও কিন্তু সীমাবদ্ধ রোজগার। এখন কোথাও কাজ নেই, উপার্জন নেই। বেশীরভাগই মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। তাঁরা নিজেরাও সাশ্রয়ী জীবন কাটাচ্ছেন।

উচ্চবিত্ত পরিবারের কথা আমি জানি না। তাঁদের নাগাল কখনো পাইনি, চাইওনি। উচ্চবিত্ত সমাজের সাথে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। আমরা কামলা মানুষ। কাজ করলে উপার্জন আছে, না করলে নেই। আমরা সরকারি চাকরি করি। প্রাইভেট চেম্বার করি। প্রায় দুই মাস ঘরবন্দী হয়ে আছি। খরচ কিন্তু খরচের মত চলে।

বৈশ্বিক এই মহামারীতে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ মারা গেছেন। সারা পৃথিবী কম্পমান। আমাদের দেশে আক্রান্ত সংখ্যা বাড়ছে। মৃতের সংখ্যাও বাড়ছে। প্রতিটা ক্ষণে মৃত্যুর ছায়া। আমাদের কোনো আনন্দ নেই। আমাদের কোনো শান্তি নেই। আমাদের কোনো স্বস্তি নেই। প্রতিপদে মনে হয় এই বুঝি এলো! বারবার হাত ধুয়েও নিজেকে নিরাপদ লাগে না। শুচিবায়ুগ্রস্ত হতে থাকি আমরা। জানি প্রতিরোধ করতে ঘরে থাকতে হবে। জানি সামাজিক দূরত্বে থাকতে হবে। আর বারবার সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।

আমরা ভয় পাই। আমরা নিয়মের মধ্যে থাকতে থাকি। অফিস থেকে ফিরে নিজেকে আপাদমস্তক ধৌত করি। আমার সন্দেহ যায় না। যারা কোভিড হাসপাতালে ডিউটি করেন, তাঁরা বাড়ীতে যেতে পারেন না। আর গেলেও কোয়ারেন্টিনে থাকতে হয়। পারিবারিক বন্ধনের মাঝেও নিজেকে আলাদা রাখার প্রয়াসে সময় কেটে যায়।হাসপাতালে রোগীর আহাজারি। টেস্ট করতে গিয়ে বিড়ম্বনা।রিপোর্ট পেতে বিড়ম্বনা। স্বজনের শোক, নিজের অসুস্থতা… কাটে না। এই মাসটা আমাদের জন্য ভীষণ সাবধানতার মাস। এই মে মাসটা আমাদের কোথায় নিয়ে যায়, সেটা দেখার সময়।কতজনের প্রিয়জন হারিয়ে গেছে, কতজনের প্রিয়জন হাসপাতালে ভর্তি। কতজনের প্রিয়জন বাড়ীতে আইসোলেশনে!

আমরা হতাশাগ্রস্ত হতে চাই না। তবে আশার আলোও আমাদের ঘরে আসে না। লক ডাউন না মানা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। জীবনের তাগিদে মানুষকে বাইরে যেতে হয়। জীবিকার তাগিদে বাইরে যেতে হয়।

আগামী ১০ মে থেকে শপিংমল সীমিত পরিসরে খুলছে। ইতিমধ্যে গার্মেন্টস খুলে গেছে।অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে হবে। ব্যবসা বানিজ্য নেই। অর্থনৈতিক ক্ষতি বাড়ছে।

কিন্তু কাদের জন্য কি করা?

কাদের জন্য এবারের ঈদ? ঈদ মানে তো আনন্দ…

ঈদ মানে তো আত্মীয়, বন্ধু… সবার সাথে দেখা হওয়া। ঈদ মানেই তো সকালে ঈদের নামাজ। কোলাকুলি!

জীবন আজ বড় বিপন্ন। অসুখকে আর ক্ষুধা-তৃষ্ণায় জীবন আজ চিকিৎসা চায়। কখনো ওষুধ, হাসপাতাল। আবার কখনো ত্রাণ, খাবার। কারা যাবেন শপিং মলে? কারা ঘোরাবেন অর্থনীতির চাকা? দোকান খুলে বসে থাকলে তো আর সচল হবে না অর্থনীতি!

সবকিছুর জন্যই প্রয়োজন মানুষ, প্রয়োজন জীবন, প্রয়োজন বেঁচে থাকা। মানুষ না থাকলে কোনো লাভ নেই।

হয়তো উচ্চবিত্ত সমাজের জন্য ঈদ! আমাদের জন্য নয়।আমরা এমন বিষাদময় ঈদ চাই না।

আমরা এমন আতংকিত জনপদের পথ মাড়িয়ে পৌঁছাতে পারবো না শপিংমল পর্যন্ত।আমাদের বিষন্নতা, দীর্ঘশ্বাস…. কখনোই ছোঁবে না কাউকে। তবুও আমরা ব্যথার ভারে নুহ্য, তবুও আমরা ব্যথাতুর ভীষণ।

সজ্জিত শপিংমল আমাকে টানে না। সারি সারি চোখ ধাঁধানো রঙ আমাকে টানে না।আমি জীবনকে বলেছি…. রোখো!ওখানে সামাজিক দূরত্ব নেই, ওখানে গাদাগাদি মানুষের সাথে মানুষের বিষাক্ত মেলামেশা। ওখানে ঘর নেই, নেই গৃহবন্দী জীবন।

আজ আমি ঘরের বাইরে যাবো না। আজ আমি ঘরের কাছে আবদ্ধ। আজ আমি গুটিয়ে আছি শামুক খোলে। যদি কখনো সময় আসে, যদি আলোর রেখা দেখা যায়…আমিও বাইরে যাবো। ততদিন আমাকে ডেকো না রংবাহারি মরিচীকা। ততদিন আমাকে ভুলিও না মন!

বিপণন আর বিপনি-বিতানে…. আমি হবো না পণ্য অথবা ক্রেতা! বিপনণে আমায় ডেকো না…. আমি ঘরের বাইরে যাবো না এখন।

#করোনা_ফ্যাক্ট

০৫/০৫/২০২০

ফারহানা নীলা

সহযোগী অধ্যাপক

জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল।

(লেখকের ফেসবুক থেকে নেওয়া)

Please Share This Post in Your Social Media

https://twitter.com/WDeshersangbad


বঙ্গবন্ধু কাতরকণ্ঠে বলেন, মারাত্মক বিপর্যয়

বঙ্গবন্ধু কাতরকণ্ঠে বলেন, মারাত্মক বিপর্যয়

© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design And Developed By Freelancer Zone