সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
বাংলাদেশি শিক্ষকদের আমেরিকান ফেলোশিপের আবেদন চলছে ঘরের কোন জিনিস কতদিন পরপর পরিষ্কার করা জরুরি কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্মম নির্যাতন, পায়ুপথে মাছ ঢুকানোর চেষ্টা পদ্মায় ভেসে উঠল শিশুর মরদেহ ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল বোনের ৭ দিনের সাধারণ ছুটির ঘোষণা আসতে পারে টার্গেট রমজান মাস তৎপর হয়ে উঠেছে ‘ভিক্ষুক চক্র’ মামুনুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে মিলেছে ৩ ডায়েরি এই ফলগুলো খেয়েই দেখুন! বাস নেই-লঞ্চ নেই, বাড়িতে যাওয়াও থেমে নেই কঠোর লকডাউনেও খোলা থাকবে শিল্প-কারখানা গৃহকর্মীসহ ৯জন করোনায় আক্রান্ত, খালেদার জন্য কেবিন বুকিং বাংলাদেশে করোনা মৃত্যুতে আজও রেকর্ড, বেড়েছে শনাক্ত ২০ এপ্রিল পর্যন্ত ফ্লাইট বন্ধ সাধারণ ছুটির ঘোষণা আসছে

১১০ টাকার পাঙ্গাস শেবাচিমের ভাউচারে ৩৮০ টাকা!

বালিশ, পর্দা কাণ্ডসহ নানা দুর্নীতির পর এবার সামনে এলো শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) খাবার কেনার ভাউচার দুর্নীতি। ভাউচারে থাকা প্রতিকেজি পাঙ্গাসের দর ৩৮০ টাকা থাকলেও বাজারদর মাত্র ১১০ টাকা। শুধু এ মাছ নয়, ইলিশ, রুই, কাতলা, গ্রাস কার্প, ডিম, ব্রয়লার মুরগির মাংস, খাসির মাংস কেনায় দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

২০১৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বর শেবাচিমের পরিচালক ডা. বাকির হোসেনের অনুমোদিত ভাউচারে দেখা গেছে, রোগীদের জন্য কেনা প্রতিকেজি পাঙ্গাস ৩৮০ টাকা, বড় ইলিশ এক হাজার ৫০০ টাকা, গ্রাস কার্প বা মিনার কার্প মাছ ৩৯৫ টাকা, রুই-কাতলা মাছ ৪৬০ টাকা, প্রতিটি লেয়ার মুরগির ডিমের দর নয় টাকা ৯০ পয়সা, ব্রয়লার মুরগির মাংস প্রতিকেজি ৩৫০ টাকা, খাসির মাংস ৭৯০ টাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিনছে।

তবে বরিশাল নগরীর পোর্ট রোড, বাংলাবাজার, রূপাতলী ও সাগরদী এলাকার বাজারে দেখা যায়, প্রতিকেজি পাঙ্গাসের বাজারদর ১১০ টাকা, বড় ইলিশ এক হাজার ১০০টাকা, গ্রাস কার্প বা মিনার কার্প ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, রুই-কাতলা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, লেয়ার মুরগির ডিমের হালি ৩০ টাকা, প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগির মাংস ১২০ টাকা ও খাসির মাংস ৭৫০ টাকা।

বাংলা বাজারের ব্যবসায়ী সোহেল আহমেদ বলেন, প্রতিকেজি পাঙ্গাস ৩৮০ টাকা দেশের কোথাও নেই বলে আমার বিশ্বাস। আর এ মাছ দেশের সব অঞ্চলেই চাষ করা সম্ভব। ফলে পাঙ্গাসের এমন অভাব পড়েনি যে প্রতিকেজি ৩৮০ টাকা হবে।

ব্রয়লার মুরগি বিক্রেতা কবির মিয়া বলেন, আমার জীবনে দেখা সর্বোচ্চ ব্রয়লার মুরগির দাম প্রতিকেজি ১৬০ টাকা। এর বেশি কখনোই হয়নি। এখন খুচরা বাজারে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগির দর ১১০ টাকা।

শেবাচিম হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, রোগীদের তিন বেলা খাবারে কলা-রুটি, সেদ্ধ ডিম, ব্রয়লার মুরগির মাংস ও আলুর তরকারি, পাতলা ডাল ও ভাত ছাড়া আর কিছু খাওয়ানো হয় না। সেই খাবারও রোগীদের বিনামূল্যে দেয়ার নাম করে ১০ থেকে ২০ টাকা নেয়া হয়। রোগীরা অভিযোগ করেন, হাসপাতালের স্টাফরা প্রতিদিন কমপক্ষে ২০ হাজার টাকার ভাত বিক্রি করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শেবাচিমের একাধিক চিকিৎসক দাবি করেন, বিল-ভাউচার ছাড়া আর কোনো দক্ষতা দেখাতে পারেননি হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন। তার অদক্ষতার কারণে শেবাচিমের স্বাস্থ্যসেবা অনুপযোগী। চিকিৎসক ছাড়া এ প্রতিষ্ঠানে এমন কোনো ইকুয়েপমেন্ট নেই যা জরুরি মুহূর্তে রোগীর উপকারে আসবে। অপরদিকে পুরো হাসপাতালে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের চিত্র অনেক আগে থেকেই রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শেবাচিমের মেডিসিন, সার্জারি, অর্থোপেডিক্স বিভাগের একাধিক স্টাফ জানান, ছয় মাসে শেবাচিমের রোগীদের জন্য কোনো মাছ দেয়া হয়নি। শুধু ব্রয়লার মুরগির মাংস, ডাল ও ভাত দিয়েই রোগীর খাদ্য শেষ করা হচ্ছে।

তারা আরো বলেন, পাঙ্গাস, রুই-কাতলা, কার্প জাতীয় মাছ, ইলিশ বছরে দুই-একদিন খাওয়ানো হয়। আর খাসির মাংস পাঁচ বছরেও খাওয়ানো হয়নি।

একাধিক রোগী বলেন, হাসপাতালে খাবারের মান যেমন খারাপ, তেমনি এখানের আয়া-বুয়াদের ব্যবহারও খারাপ। এর জন্য জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে জোর দাবি জানাই।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সূত্র জানায়, উচ্চমূল্যে দরপত্রের ভাউচার করলেও শেবাচিমের কাঁচাবাজার নগরীর সিটি মার্কেট এলাকা থেকে কেনা হয়। এছাড়া তিন-চারদিনের কাঁচাবাজার একদিনে করা হয়। তাও বস্তামূলে অর্ডার দিয়ে আনা হয়। কেউ কাঁচাবাজারের মানদণ্ড দেখে না। আর মাছ-মাংস-ডিম কোথায় থেকে কেনা হয়, কেউ জানে না বা কেউ দেখেনি।

এ ব্যাপারে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেনের সঙ্গে শনিবার সন্ধ্যায় মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি। টেন্ডারের ব্যাপারে কমিটি রয়েছে, তারা যাচাই-বাছাই করে দেয়ার পর আমি তাতে অনুমোদন দিয়েছি।

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

38442164
Users Today : 375
Users Yesterday : 1265
Views Today : 4448
Who's Online : 28
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design And Developed By Freelancer Zone