শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৪:৪৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
আজ অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে দিয়ে শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপের মূল লড়াই যুক্তরাষ্ট্রে ৩৭টি অঙ্গরাজ্যে পেঁয়াজ ফেলে দেওয়ার নির্দেশ   তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী যারা রাজধানীতে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত ৩ ঢাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের গণঅবস্থান ও অনশন অবশেষে বৃদ্ধাশ্রমেই আশ্রয় হলো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ অধ্যাপক আব্দুল আউয়ালের লক্ষ্মীপুর পৌর নির্বাচনে নৌকা পেলেন মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভুঁইয়া? অবৈধ মোবাইল ফোন সেটও বন্ধ হবে না : মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পূজামণ্ডপে কোরআন : ইকবালের দায় স্বীকার আফ্রিদিকে ছুঁয়ে টি-২০ বিশ্বকাপে বোলারদের সিংহাসনে সাকিব টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল পর্বে যাদের বিপক্ষে খেলবে টাইগাররা সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে শেখ হাসিনা নেতৃত্বে দেশ আজ উন্নয়নের মহা সড়কে- ধর্ম প্রতিমন্ত্রী কলমা ইউপিতে ইমেজ সঙ্কটে চেয়ারম্যান স্বপন বিরামপুর সীমান্তে স্বর্ণের বারসহ গ্রেফতার-১ নড়াইলে কৃষককে কুপিয়ে খুন

১৩০ টাকার কম্পিউটার অপারেটর ৪৬০ কোটির মালিক!

২০০১ সালে দৈনিক ১৩০ টাকা বেতনে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে টেকনাফ স্থলবন্দরে চুক্তিভিত্তিক চাকরি শুরু করেন নুরুল ইসলাম (৪১)। বন্দরে কর্মরত অবস্থায় চোরাকারবারি, শুল্ক ফাঁকি, অবৈধ পণ্য খালাস এবং দালালির কৌশল রপ্ত করতে থাকেন তিনি। বিভিন্ন দালালি সিন্ডিকেটে যুক্ত হয়ে যান।

এক পর্যায়ে নুরুল ইসলাম নিজেই একটি বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। দালালি, পণ্য খালাস, পণ্যের আড়ালে অবৈধ মালামাল এনে অল্প সময়েই কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যান এ কম্পিউটার অপারেটর। দালালিসহ অবৈধ পন্থায় অর্জিত অর্থের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ঢাকায় তার ছয়টি বাড়ি ও ১৩টি প্লটের মালিক তিনি।

এছাড়া তার সাভার, টেকনাফ, সেন্টমার্টিন, ভোলাসহ বিভিন্ন জায়গায় নামে-বেনামে সর্বমোট ৩৭টি প্লট-বাগানবাড়ি-বাড়ি রয়েছে। অবৈধভাবে তার অর্জিত সম্পদের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪৬০ কোটি টাকা।

যেভাবে গ্রেফতার হন নুরুল:
গত সোমবার দিবাগত রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে নুরুলকে গ্রেফতার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ সময় তার কাছ থেকে ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৫০০ জাল টাকা, ৩ লাখ ৮০ হাজার মিয়ানমার মুদ্রা, ৪ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা ও নগদ ২ লাখ ১ হাজার ১৬০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজার র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে বাহিনীটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি গোয়েন্দা সংস্থা ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানে নুরুলকে গ্রেফতার করা হয়।

নুরুল সিন্ডিকেটের নানা অবৈধ কার্যকলাপ:
র‌্যাব কর্মকর্তা খন্দকার আল মঈন বলেন, ২০০১ সালে টেকনাফ স্থলবন্দরে চুক্তিভিত্তিক দৈনিক ১৩০ টাকা হারে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরি নেন নুরুল ইসলাম। বন্দরে কর্মরত অবস্থায় তার অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে চোরাকারবারি, শুল্ক ফাঁকি, অবৈধ পণ্য খালাস, দালালির কৌশল রপ্ত করেন। এরপর নিজের অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে বন্দরে বিভিন্ন রকম দালালি সিন্ডিকেটে যুক্ত হন তিনি। এক পর্যায়ে ২০০৯ সালে তিনি চাকরি ছেড়ে দিয়ে তার আস্থাভাজন একজনকে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে নিয়োগ দেন এবং নিজেই একটি সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করেন।

নুরুল টেকনাফ বন্দর কেন্দ্রীক দালাল সিন্ডিকেটের অন্যতম মূলহোতা জানিয়ে তিনি বলেন, নুরুলের সিন্ডিকেটের ১০ থেকে ১৫ জন সদস্য রয়েছে। এ সিন্ডিকেটটি পণ্য খালাস, পরিবহন সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অবৈধ মালামাল খালাসে সক্রিয় ছিল। এছাড়া কাঠ, শুঁটকি মাছ, বরই আচার, মাছের আড়ালে ইয়াবাসহ অবৈধ পণ্য নিয়ে আসতো। চক্রটি টেকনাফ বন্দর, ট্রাক স্ট্যান্ড, বন্দর লেবার ও জাহাজের আগমন-বর্হিগমন নিয়ন্ত্রণ করত।

এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আল মঈন বলেন, চাকরির পর থেকে নুরুল বন্দরে গাড়ি ও জাহাজের সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণ করতেন। জাহাজ থেকে বিভিন্ন পণ্য খালাসের সময় কর্তৃত্ব করাসহ ভেতরে-বাইরে বিভিন্নভাবে দালালি করতেন। কম্পিউটার অপারেটর থাকাকালীন বন্দরের বেশিরভাগ লোক তাকে চিনতেন এবং সবার সঙ্গেই তার সুসম্পর্ক ছিল। এ কারণে তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কাজ করতে সুবিধা হত। তার সঙ্গে এক-দুজন ব্যক্তি নয় অনেকেই তার কাজে সহযোগিতা করেছেন। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কারও নাম বলেননি, পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে নাম জানা যাবে।

জাল টাকার বিষয়ে কমান্ডার মঈন বলেন, আটক নুরুলের বাসায় জাল টাকা পাওয়া গেছে। এ জাল টাকা দিয়ে তিনি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন।

অবৈধ আয়ের উৎস ঢাকতে নানা প্রতিষ্ঠানের মালিক নুরুল:
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, অবৈধ আয়ের উৎসকে ধামাচাপা দিতে নুরুল ইসলাম বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করেন। এরমধ্যে এম এস আল নাহিয়ান এন্টারপ্রাইজ, এম এস মিফতাউল এন্টারপ্রাইজ, এমএস আলকা এন্টারপ্রাইজ, আলকা রিয়েল স্টেট লিমিটেড এবং এম এস কানিজ এন্টারপ্রাইজ অন্যতম।

৩৭টি প্লট-বাড়ি ও বাগানবাড়ির মালিক নুরুল:
র‌্যাব আরও জানায়, নুরুলের নামে বেনামে বিভিন্ন ব্যাংকে মোট ১৯টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। বর্তমানে তিনি জাহাজ শিল্প ও ঢাকার কাছাকাছি বিনোদন পার্কেও বিনিয়োগ করছেন। অবৈধ পন্থায় অর্জিত অর্থের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ঢাকায় তার ছয়টি বাড়ি ও ১৩টি প্লটের মালিক তিনি।

এছাড়া তার সাভার, টেকনাফ, সেন্টমার্টিন, ভোলাসহ বিভিন্ন জায়গায় নামে-বেনামে সর্বমোট ৩৭টি প্লট-বাগানবাড়ি-বাড়ি রয়েছে। অবৈধভাবে তার অর্জিত সম্পদের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪৬০ কোটি টাকা। সম্প্রতি সাভারে একটি পার্ক ও বন্দরে জাহাজ কেনার পরিকল্পনাও করেছিলেন নুরুল।

Please Share This Post in Your Social Media

https://twitter.com/WDeshersangbad

https://www.facebook.com/Dsangbad

https://www.facebook.com/Dsangbad

All rights reserved © deshersangbad.com 2011-2021
Design And Developed By Freelancer Zone