শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ১০:২৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
বিচারের বাঁণী নিভৃতে কাঁদে তানোরে সাজানো মামলা নিয়ে তোলপাড়  ! দেশের প্রথম খানসামা থানায় করোনা যোদ্ধা কনস্টেবল নাজমুল হোসেন স্মৃতি লাইব্রেরীর ভিত্তি স্থাপন মসজিদ নির্মাণে অনুদান প্রদান নারীর স্বাবলম্বী ও স্বাধীনতার নামে পণ্য হিসেবে ব্যবহার! দায়ী কে? গাইবান্ধায় ধান মাড়াই মেশিনের চাপায় চালকের মৃত্যু এস এ চয়েস মিউজিকের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরী  বরিশালে ভ্রাম্যমাণ আদাতের পৃথক অভিযানে জরিমানা বরিশালে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতার উদ্যোগে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ এলজিইডির প্রকৌশলীকে মারধর করলো ঠিকাদার যশোরের বেনাপোলে ভারতীয় গাঁজাসহ আটক ১ দেশে করোনায় আরও ৩৭ জনের মৃত্যু রোজার মহিমায় মুগ্ধ হয়ে ভারতীয় হিন্দু তরুণীর ইসলাম গ্রহণ আজ জুমাতুল বিদা,তাই বিচ্ছেদের রক্তক্ষরণ চলছে মুমিন হৃদয়ে ! পুলিশকে চাঁদা দিয়ে না খেয়ে রোজা রাখলেন রিকশাওয়ালা ১৩৫ বছর বয়সেও খালি চোখে কোরআন তেলাওয়াত করেন সিলেটের তৈয়ব আলী

রেলের ৭৩ ভাগ ইঞ্জিন মেয়াদোত্তীর্ণ

চলতি অর্থবছরসহ গত ৫ অর্থবছরে রেল খাতে ৬৪ হাজার ৬২৮ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। অথচ রেল ইঞ্জিনের ৭৩ শতাংশ মেয়াদোত্তীর্ণ। ৫ বছরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ ২০ হাজার ৬৩৯ কোটি টাকা বাদ দিলে বাকি ৪৩ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকার পুরোটাই বিনিয়োগ করা হয়েছে রেলের উন্নয়নে। তবুও মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিন, জরাজীর্ণ লাইন, ঝুঁকিপূর্ণ রেল সেতু দিয়ে চলাচল করছে রেল। কমছে গতি, বাড়ছে দুর্ঘটনা।

সূত্রমতে, সম্প্রতি রেলের উন্নয়ন নিয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠক হয় রেল মন্ত্রণালয়ে। সেখানে রেলের উন্নয়ন নিয়ে নানামুখী আলোচনা ওঠে আসে। ওই বৈঠকে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, রেললাইন সঙ্কুচিত হচ্ছিলো। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে তা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে নতুন কয়েকটি লাইন চালুর পাশাপাশি প্রায় ৩৩১ কিলোমিটার নতুন রেলপথ সংযোজন করা হয়েছে। নতুন রেলস্টেশন নির্মাণ ও পুরনো লাইন মেরামত করা হচ্ছে। এ সময় তিনি রেলের সেবা বৃদ্ধির কথাও উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, রেলের ৭৩ শতাংশ রেল ইঞ্জিনের মেয়াদ পার হয়ে গেছে। ওয়াগন নেই, রেলপথের মেরামত নেই। ইতোমধ্যে এর আধুনিকায়নের জন্য ব্রডগেজ লাইনের ৪০টি ইঞ্জিন আনার চুক্তি হয়েছে। এ ছাড়া আরও ৩০টি ইঞ্জিন কেনার চুক্তি প্রক্রিয়াধীন। এর মধ্যে ১০টি ব্রডগেজ এবং ১০টি মিটারগেজ ইঞ্জিন ভারত উপহার হিসেবে আমাদের দিচ্ছে। এগুলো জানুয়ারির মধ্যে পৌঁছাবে। তবে ইঞ্জিন বাড়ানোর আগে লাইন বাড়াতে হবে নয়তো ট্রেনের গতি বাড়ানো সম্ভব হবে না।

বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্র জানা যায়, ইঞ্জিনের আয়ুষ্কাল ২০ বছর হলেও ৬৬ বছরের পুরনো ইঞ্জিন রয়েছে রেলের বহরে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের জাদুঘরে ঠাঁই পাওয়া কানাডার জিএম বি-১২ মডেল এখনো ভরসা রেল বিভাগের। স্বাধীনতার সময় রেলওয়েতে লোকোমোটিভ বা ইঞ্জিন ছিল ৪৮৬টি। বর্তমানে তা এসে দাঁড়িয়েছে ২৭৩টিতে। তবে এসব ইঞ্জিনের মধ্যে ১৯৫টির মেয়াদ নেই। মিটারগেজ ও ব্রডগেজের ৩৯টি মিলিয়ে বর্তমানে ৭৮টি ইঞ্জিনের কার্যদক্ষতা রয়েছে। অর্থাৎ ৭৩ শতাংশ মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিন দিয়ে চলছে রেলওয়ের সেবা। রেলে ২০০৭-০৮ সালে সচল ইঞ্জিন ছিলো ২৮৫টি। ২০১০-১১ সালে কমে হয় ২৫৯টি, ২০১১-১২ সালে ইঞ্জিন ছিলো ২৯৫টি, ২০১২-১৩ সালে ২৫৮টি, ২০১৩-১৪ সালে ২৯৩টি, ২০১৫-১৬ সালে ২৭৮টি, ২০১৬-১৭ সালে ২৭৩টি ইঞ্জিন ছিলো। বর্তমানে এই ২৭৩টি ইঞ্জিন রয়েছে রেলওয়েতে। এর মধ্যে ব্রডগেজ ইঞ্জিন রয়েছে ৯৪টি। বাকি ১৭৯টি রয়েছে মিটারগেজ ইঞ্জিন। মিটার গেজের ১৪০টি ইঞ্জিনই মেয়াদোত্তীর্ণ। এসব ইঞ্জিনের মধ্যে ৪৫টি ইঞ্জিনের বয়স ২১-৩০ বছর, ৩১টি ইঞ্জিনের বয়স ৩১-৪০ বছর এবং ৬৪টি ইঞ্জিনের বয়স ৪১-৬০ বছরের বেশি। আর ৯৪টি ব্রডগেজ ইঞ্জিনের মধ্যে ২৪টির বয়স ৩১-৪০ বছরের মধ্যে। ৩১টি ব্রডগেজ ইঞ্জিন ৪১ বা তারও বেশি বছর ধরে চলছে।

সূত্র জানায়, ১৯৬১ সালে আমেরিকা থেকে ২২শ’ সিরিজের (এমইজি-৯) ১১টি, ১৯৬৯ সালে কানাডা থেকে ২৩শ’ সিরিজের (এমইএম-১৪) ৮টি, কানাডা থেকে ১৯৭৮ সালে ২৪শ’ সিরিজের (এমইএম-১৪) আরও ৯টি এবং ১৯৮১ সালে হাঙ্গেরি থেকে ৩৩শ’ সিরিজের (এমএইচজেড-৮) তিনটি ইঞ্জিন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের জন্য আনা হয়েছিলো। ২০১৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ২৯শ’ সিরিজের (এমইআই-১৫) একটি ইঞ্জিন আনা হয়। এসব ইঞ্জিনের ইকোনমিক আয়ুষ্কাল ২০ বছর নির্ধারিত। আমেরিকা থেকে আনা ১১টির আয়ুষ্কাল শেষ হয়ে গেছে ৩৮ বছর আগেই। কানাডা থেকে প্রথম ধাপে আনা ৮টি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে ৩০ বছর আগেই। দ্বিতীয় ধাপে কানাডা থেকে আনা ৯টির আয়ুষ্কাল উত্তীর্ণ হয়ে ৪১ বছর হয়েছে। হাঙ্গেরি থেকে আনা তিনটির আয়ুষ্কাল উত্তীর্ণ হয়ে ৩৮ বছর হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ের একজন ইঞ্জিনিয়ার বলেন, বর্তমানে দেশের বেশ কিছু ইঞ্জিনের অনেকগুলোর পায়ের ডিজিটাল ব্রেক কাজ করে না। ‘ডেডম্যান ফুট প্যাডেল’ কাজ করছে না। হাতের ব্রেক কাজ করলেও জরুরি পায়ের ব্রেক কাজ করছে না। সামনে বিপদ চোখে পড়লেও ট্রেন থামাতে পারেন না চালক। এরকম ভয়াবহ ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে হাজার হাজার যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে সুবর্ণ এক্সপ্রেস।
তিনি বলেন, এক সময় বি-১২ মডেলের ইঞ্জিনের গতি ছিলো ৬৫-৭৫ কিলোমিটার। এখন এর গতি ৩০-৩৫ কিলোমিটারের বেশি ওঠে না। এসব ইঞ্জিনের জ্বালানি খরচও বেশি। বি-১২ মডেলের ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ এখন কোথাও পাওয়া যায় না। জিআই তার দিয়ে জোড়া লাগানো হয়েছে ব্রেকসহ নাট-বল্টু।

রেলওয়ের কমলাপুর বগি ওয়ার্কশপের কর্মী ফজলু মিয়া বলেন, প্রতিদিন প্রায় ১০-১২টি ইঞ্জিন মেরামতের জন্য ওয়ার্কশপে আসে। অধিকাংশ ইঞ্জিন জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করা হয়। জাপানি ইঞ্জিনগুলোর যন্ত্রপাতি বাজারে পাওয়া যায় না। কর্মী সংকট থাকায় দ্রুত মেরামত করাও সম্ভব হয় না। এতে দিন দিন বেড়েই চলছে ভয়াবহ দুর্ঘটনা।

সর্বশেষ, ২৩ নভেম্বর গাজীপুরে চট্টলা এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়। ১৪ নভেম্বর সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিন ও ৭টি বগি লাইনচ্যুত হলে তাতে আগুন ধরে আহত হন ২৫ জন। এর দু’দিন আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় তূর্ণা নিশীথা ও উদয়ন এক্সপ্রেসের সংঘর্ষে ১৬ জন প্রাণ হারান। আহত হন শতাধিক।

গত ২৩ জুন রাতে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনের ৬টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে প্রাণ হারান ৫ জন। আহত হন শতাধিক যাত্রী। এছাড়া ছোটখাটো লাইনচ্যুতির ঘটনা তো আছেই।

রেলপথে ছোট-বড় ৩ হাজার ১৪৩টি কালভার্ট-ব্রিজের অধিকাংশই ব্রিটিশ আমলের। সংস্কার না করায় এর ৪০২টি সেতুই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

রেল দুর্ঘটনা রোধে বিশ্বব্যাপী নানা প্রযুক্তির প্রয়োগ হলেও দেশে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগেনি। পার্শ্ববর্তী ভারতে ট্রেনের মুখোমুখি দুর্ঘটনা রোধে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে। সেখানে কোনো রেললাইনে দুটি ট্রেন মুখোমুখি চলে এলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রেন বন্ধ হয়ে যায়।
এছাড়াও রেলে অভিজ্ঞ চালকের অভাব আছে। অভিযোগ, নতুনদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ না দিয়েই চালকের আসনে বসিয়ে দেয়া হচ্ছে। চালক সংকটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে অভিজ্ঞদের অতিরিক্ত ডিউটি করতে হচ্ছে।

রেল দুর্ঘটনার আরেকটি উল্লেখযোগ্য কারণ অরক্ষিত রেলক্রসিং। এক হিসাবে দেখা গেছে, সারা দেশে ২ হাজার ৯৫৫ কিলোমিটার রেলপথে লেভেল ক্রসিং রয়েছে ২ হাজার ৫৪১টি। এর মধ্যে অনেক লেভেল ক্রসিং অবৈধ, অর্ধেকের বেশি লেভেল ক্রসিং অরক্ষিত। এগুলোতে কোনো প্রহরী নেই।
এসব লেভেল ক্রসিংয়ে শুধু ‘সামনে রেলক্রসিং, সাবধানে চলাচল করুন’ সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড ঝুলিয়েই দায়িত্ব শেষ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, রেল মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স্থানীয় জনগণ দিন দিন লেভেল ক্রসিং বৃদ্ধি করেই চলেছে, তাই সব লেভেল ক্রসিংয়ে গেটম্যান দেয়াও সম্ভব হচ্ছে না।

Please Share This Post in Your Social Media


বঙ্গবন্ধু কাতরকণ্ঠে বলেন, মারাত্মক বিপর্যয়

বঙ্গবন্ধু কাতরকণ্ঠে বলেন, মারাত্মক বিপর্যয়

https://twitter.com/WDeshersangbad

© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design And Developed By Freelancer Zone