সাকিব হোসেইন, তিতাস (কুমিল্লা) সংবাদদাতা: কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় সরকারি অনুমোদনহীন সংগঠন পরিচালনা, রাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পে যুক্ত থেকে প্রত্যক্ষ ‘স্বার্থের দ্বন্দ্ব’ (Conflict of Interest), শৃঙ্খলা বাহিনীর বিধিমালা লঙ্ঘন এবং রাজনৈতিক ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিকে যুক্ত করে গঠন করা বিতর্কিত কমিটির তথ্য মিলেছে সরকারি অফিশিয়াল দলিলে।
তথ্য অধিকার আইন (RTI), ২০০৯-এর আওতায় (ট্র্যাকিং আইডি: ১৮০৭২৬) জমাকৃত আবেদনের বিপরীতে প্রশাসনিক নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, তিতাস উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা কার্যালয়ে ‘তিতাস উপজেলা প্রেস ক্লাব’ নামক কোনো সংগঠনের আইনি নিবন্ধন বা অনুমোদিত গঠনতন্ত্রের তথ্য নেই। ‘দ্য সোসাইটিস রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট, ১৮৬০’ অনুযায়ী সরকারি রেজিস্ট্রেশন ব্যতিরেকে কোনো অননুমোদিত ব্যানার ‘প্রেস ক্লাব’ নাম ব্যবহার করা বা প্রশাসনিক স্বীকৃতি দাবি করার আইনি সুযোগ নেই।
উপজেলা প্রশাসনের চূড়ান্ত নিয়োগ নথির তথ্যানুযায়ী, উক্ত প্ল্যাটফর্মের সাধারণ সম্পাদক দাবিদার তাসীন তিহামী একই সাথে তিতাস উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নে সরকারি প্রকল্পের ভাতাভুক্ত ‘তথ্য সংগ্রহকারী’ (Data Collector) হিসেবে মনোনীত (ক্রমিক নং-৭)। চুক্তিভিত্তিক সরকারি দায়িত্ব পালনকালে স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের নির্বাহী পদ দাবি করা পেশাগত নীতিশাস্ত্রের মারাত্মক অসংগতি।
অফিশিয়াল রেকর্ড অনুযায়ী, সাধারণ সম্পাদক তাসীন তিহামী ও দপ্তর সম্পাদক আহনাফ তিহামী—দুই ভাই-ই রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা বাহিনীর (অঙ্গীভূত আনসার ও ভিডিপি) সরকারি দায়িত্বের সাথে সম্পৃক্ত। একই সাথে প্রশাসনিক নথিতে দেখা যায়, কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক পদ দেওয়া হয়েছে জিয়ারকান্দি ইউনিয়নের বর্তমান ইউপি সদস্য (মেম্বার) বিল্লাল মোল্লাকে। এছাড়া গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে পদ স্থগিত হওয়া ভিটিকান্দি ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বাবুল আহমেদকে সদস্য হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। একই সাথে সাধারণ সম্পাদক তাসীন তিহামী ২০২১ সালের তিতাস উপজেলা শ্রমিক লীগের কমিটিতে প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।
সংগঠনটির সমাজসেবা নিবন্ধনের আইনি নম্বর বা ট্র্যাকিং ডাটার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিতাস উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোঃ নাজমুল করিম ফারুক কোনো সরকারি নম্বর প্রদর্শন করতে পারেননি। তিনি বলেন, “কুমিল্লার কয়টা উপজেলাতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের নাম্বার আছে? সেইটা হলো বিভাগীয় পর্যায়ের রেজিস্ট্রেশন, অনেক আগের।” তবে সরকারি প্রজেক্টের কর্মী, শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও জনপ্রতিনিধিদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে কোনো আইনি ব্যাখ্যা তিনি দেননি।
আইনি ভিত্তিহীন ব্যানার ব্যবহার এবং সরকারি প্রজেক্টে যুক্ত থেকে পদে আসীন হওয়ার প্রশাসনিক অসংগতি নিরসনে স্থানীয় সচেতন সমাজ কুমিল্লা-২ (তিতাস-হোমনা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। একই সাথে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে উপজেলা প্রশাসন ও জেলা আনসার কমান্ড্যান্টের বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।








