গোপাল চন্দ্র রায়, ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ নীলফামারীর ডোমার উপজেলার মির্জাগঞ্জ রেলস্টেশনে তিতুমীর এক্সপ্রেস ও বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ট্রেনের আপ-ডাউন যাত্রাবিরতি এবং ১নম্বর প্ল্যাটফর্ম চালুর দাবিতে রেলপথ অবরোধ ও মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের আশ্বাসের পর আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি স্থগিত করলে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শনিবার সকাল সাড়ে ৬টা থেকে জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের মির্জাগঞ্জ রেলস্টেশন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় দুই হাজার মানুষ রেলপথ অবরোধে অংশ নেন।
আন্দোলনকারীরা জানান, মির্জাগঞ্জ রেলস্টেশনটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও তিতুমীর এক্সপ্রেস ও বরেন্দ্র এক্সপ্রেসসহ বেশ কয়েকটি ট্রেনের যাত্রাবিরতি না থাকায় তাদের দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাদেরকে চিলাহাটি রেলস্টেশন নয়তো ডোমার রেলস্টেশন থেকে ট্রেনে উঠতে হয়। এছাড়া স্টেশনের ১নম্বর প্ল্যাটফর্ম চালু না থাকায় যাত্রীসেবায় নানা সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তারা রেলপথ অবরোধে নামেন।
অবরোধের ফলে চিলাহাটি থেকে খুলনাগামী রকেট মেইল ট্রেন চিলাহাটি রেলস্টেশনে আটকে পড়ে। একইভাবে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেন ডোমার রেলস্টেশনে থামিয়ে রাখা হয়। কয়েকটি ট্রেনের চলাচল ব্যাহত হওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়।
খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শায়লা সাঈদ তন্বী, বাংলাদেশ রেলওয়ের পার্বতীপুর বিভাগের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। পরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে রেলপথ অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।
ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী জানান, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হবে।বাংলাদেশ রেলওয়ের পার্বতীপুরের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব হাসান বলেন, ট্রেনের যাত্রাবিরতি ও প্ল্যাটফর্ম চালুর বিষয়টি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
পরে দুপুর ১২টার দিকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয় এবং আটকে থাকা ট্রেনগুলো নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।







