বাংলাদেশে কারাবন্দি ‘বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চ’-এর মুখপাত্র ও হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভুর মুক্তির দাবিতে কলকাতার রাস্তায় বিক্ষোভ মিছিল ও উপ-হাইকমিশন ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছেন সাধু-সন্ত ও গেরুয়াধারীরা। শিয়ালদহ স্টেশন চত্বর থেকে শুরু হওয়া এই মিছিল বেকবাগানে বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
শনিবার ‘বিবেকানন্দ মিশন সেবা প্রতিষ্ঠান’ ও ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই)-এর ব্যানারে আয়োজিত এই মিছিলে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা প্রায় ২০০ জন সাধু-সন্ত ও সন্ন্যাসিনী অংশ নেন। মিছিলটি বেকবাগানের কাছাকাছি পৌঁছালে পুলিশ উপ-হাইকমিশন থেকে ৩০০ মিটার দূরে ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেয়। এ সময় ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টার একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ বাধে এবং পরে তারা রাস্তায় বসে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
২০২৪ সালের নভেম্বর মাস থেকে দেশদ্রোহিতার মামলায় বন্দি থাকা চিন্ময় প্রভুর জামিন না হওয়া এবং সম্প্রতি তার মায়ের মৃত্যুর পর মাত্র ৫ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির সুযোগ দেওয়ায় বিচারব্যবস্থার সমালোচনা করেন বিক্ষোভকারীরা। আন্দোলনকারীদের দাবি, বর্তমান সরকারের আমলেও এই বিচারপ্রক্রিয়ায় কোনো গতি আসেনি।
পরিস্থিতির মুখে শেষ পর্যন্ত পুলিশি নিরাপত্তায় পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল উপ-হাইকমিশনে গিয়ে স্মারকলিপি জমা দেয়। প্রতিনিধিদলে ছিলেন উত্তীয় কুণ্ডু, দিব্যেন্দু দাস, প্রসাদ মহারাজ, প্রভাস চৌধুরী এবং জয়দেবানন্দজী।
স্মারকলিপিতে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের জীবন, সম্পত্তি ও বসতবাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সাম্প্রদায়িক সহিংসতার দ্রুত বিচার, মন্দির ও পূজামণ্ডপের সুরক্ষা এবং নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার পালনের পরিবেশ বজায় রাখার দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর প্রসাদ মহারাজ দাবি করেন, এই পদক্ষেপ কোনো দেশ বা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়, বরং মানবতা ও মৌলিক অধিকারের পক্ষে একটি আবেদন। বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন পক্ষ থেকেও প্রতিনিধিদলের স্মারকলিপি গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।







