এডভোকেট সিরাজ প্রামাণিকঃ
চেকের মামলা করতে দীর্ঘদিন তিনটি বিষয় দেখানোই যথেষ্ট মনে করা হতো: চেকটি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, নির্ধারিত সময়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং টাকা পরিশোধ করা হয়নি। চেকটি কী কারণে, কোন লেনদেনের বিপরীতে দেওয়া হয়েছিল, সে প্রশ্ন প্রায়ই আড়ালে থেকে যেত।
এই সুযোগে অপব্যবহারও বেড়েছে। জামানত হিসেবে রাখা ফাঁকা চেক, ঋণের বিপরীতে নেওয়া স্বাক্ষরিত চেক, কিংবা হারানো বা জোর করে নেওয়া চেকে ইচ্ছেমতো অঙ্ক বসিয়ে মামলা করার অভিযোগ আদালতে নিয়মিত আসে।
আইনের ৪৩ ধারা অনুযায়ী, বিনিময় (কনসিডারেশন) ছাড়া প্রদত্ত চেক পক্ষগুলোর মধ্যে কোনো পরিশোধের দায় সৃষ্টি করে না। অন্যদিকে ১১৮ ধারায় অনুমান করা হয় যে প্রতিটি চেক বিনিময়ের বিপরীতেই দেওয়া হয়েছে, তবে এই অনুমান খণ্ডনযোগ্য। অর্থাৎ চেকের পেছনে একটি বৈধ লেনদেন থাকা মামলার ভিত্তি।
মোহাম্মদ আলী তালুকদার বনাম রাষ্ট্র মামলায় [২১ এএলআর (এইচসিডি) (ভলি-১) ২০২১, পৃষ্ঠা ২৬৯] হাইকোর্ট বিভাগ সিদ্ধান্ত দেন যে, নালিশী দরখাস্তে বিনিময় সম্পর্কে সুস্পষ্ট বর্ণনা না থাকলে সেই মামলা চালিয়ে যাওয়া আদালতের কার্যক্রমের অপব্যবহার হিসেবে গণ্য হবে এবং মামলাটি বাতিলযোগ্য।
সহজ কথায়, বাদীকে নালিশেই বলতে হবে চেকটি কোন পাওনা বা লেনদেনের বিপরীতে দেওয়া হয়েছিল। শুধু “চেক দিয়েছে, ডিসঅনার হয়েছে” বললে চলবে না।
নালিশ লেখার সময়ই লেনদেনের প্রকৃতি, তারিখ, পরিমাণ ও চেক দেওয়ার কারণ স্পষ্ট করে লিখতে হবে। প্রকৃত পাওনাদারের জন্য এটি বাড়তি বোঝা নয়, বরং মামলাকে মজবুত করে।
নালিশে বিনিময়ের বর্ণনা না থাকলে তিনি বিচার শেষ হওয়ার অপেক্ষা না করে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ক ধারায় মামলা বাতিলের আবেদন করতে পারেন। ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক মামলা শুরুতেই ছেঁটে ফেলার একটি মানদণ্ড তৈরি হয়েছে।
চেকের মামলা পাওনা আদায়ের বৈধ হাতিয়ার, হয়রানির অস্ত্র নয়। এই সিদ্ধান্ত মনে করিয়ে দেয় যে চেকের কাগজটি নয়, তার পেছনের লেনদেনই মামলার প্রাণ। তাই চেক দেওয়া-নেওয়ার সময় লেনদেনের লিখিত প্রমাণ রাখা এবং মামলা করার আগে একজন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উভয় পক্ষের জন্যই বুদ্ধিমানের কাজ।
লেখকঃ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, আইনগ্রন্থ প্রণেতা ও আইন গবেষক।
ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ বন্দি নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে কারাগারগুলো
দেশের ৭৪টি কারাগারে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি বন্দি অবস্থান করছেন। এর মধ্যে কোনো কোনো জেলখানায় একজন কয়েদির নির্ধারিত জায়গায় গাদাগাদি করে...








