আমি একটি ছেলেকে ভালোবাসতাম। ছেলেটিও আমাকে তার জী’বনের চেয়েও বেশি ভালোবাসতো। আমরা জানতাম আমাদের ভালোবাসা পূর্ণতা পাবে না, তবুও একজন অন্যজনকে ছাড়া থাকতে পারতাম না। সে আমাকে নিয়ে নির্জন রাস্তায় হাঁটতো, একদিন ফোনে কথা না বলে থাকতে পারতো না। কথা বলতে অসুবিধা হলে আমার নিঃ-শ্বাসের শব্দ হলেও শুনতে চাইতো। রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তার সাথে কথা বলতাম, সুখ-দুঃখ শেয়ার করতাম। সে আমার চেয়ে পড়াশোনায় কম ছিল, মাত্র অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়েছে। আর আমি ডিগ্রী প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়েছিলাম। সে তার ভাই-ভাবির সাথে থাকতো এবং তাদের একটি দোকানে কাজ করতো। আর আমি আমার বোনের বাসায় থেকে পড়াশোনা করতাম। তার বাসা আর আমাদের বাসা কাছাকাছিই ছিল। আর্থিক দিক থেকেও তারা দুর্বল ছিল। তবুও সব কিছুর পর আমি তার মায়ায় পড়ে গিয়েছিলাম। তার সরলতা আর উদারতা আমার মন কেড়েছিল।
একসময় সে আমাকে প্রস্তাব দিয়ে বলল, তোমাকে ছাড়া আমি বাঁ-চবো না। চলো আমরা কোর্টে বিয়ে করি, তা না হলে তোমার বাবা-মা কখনোই আমাদের মেনে নেবে না। সে আমাকে জেলা শহরে যেতে বলল এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য একদিন সময় দিল।
এত বড় একটি সিদ্ধান্ত একা নেওয়া আমার জন্য কঠিন ছিল। গভীর ভাবনার পর সিদ্ধান্ত নিলাম যে তাকে বিয়ে করবো, যাতে পরিবার মেনে নিতে বাধ্য হয়। অবশেষে আমাদের বিয়ে হলো। একাতীত নিজেকে ভাগ্যবতী মনে হচ্ছিল, অন্যদিকে আবার কাজ করছিল অপরাধবোধ। কিন্তু তাকে যে আমার পেতেই হতো! বিয়ের পর বাসে ফেরার পুরোটা পথ তার হাত ধরে, কাঁদে মাথা রেখে এসেছিলাম। গন্তব্যে পৌঁছে আমরা নিজ নিজ জায়গায় ফিরে গেলাম। এরপর তার সাথে নিয়মিত কথা হতো। প্রায় এক মাস পর আমার একটি বিয়ের প্রস্তাব আসে। পাত্রপক্ষ দেখে যাওয়ার পরের দিন আমি সম্পর্কের কথা জানিয়ে দিই, তবে বিয়ের কথা গোপন রাখি। কিন্তু সম্পর্কের কথা শুনেই সমস্যা শুরু হয়। মা, বোন ও দুলাভাই মিলে আমাকে ঘরের দরজা বন্ধ করে বে;দম মা-রধর করে। বড় বোন চু’লের মু-ঠি ধরে দে’য়ালে মা’থা ঠু-কে বলে, কেন এটা করলি? এই ছেলেকে আমাদের পছন্দ না। রাতে কোরআন শরীফে হা-ত রেখে প্রতিজ্ঞা করায় যেন তার সাথে আর কোনো যোগাযোগ না রাখি। পরিস্থিতির সামাল দিতে মনে মনে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে মুখে প্রতিজ্ঞা করলাম। পরের দিন আপু-দুলাভাই চলে যাওয়ার সময় আমার ফোন ও সিম নিয়ে যায়।
ছোট বোনের ফোন দিয়ে গোপনে স্বামীকে সব জানালাম। পরদিন সে তার বন্ধুদের নিয়ে এসে আমাকে একটি বাটন ফোন দিয়ে গেল, যা আমি লুকিয়ে ব্যবহার করতাম। এর কিছুদিন পর সে আমাকে পালিয়ে যাওয়ার কথা বলে। কিন্তু আমি সবসময় পালিয়ে যাওয়াকে ঘৃণার চোখে দেখতাম। সে আমাকে অনেক বোঝালো যে পরিবার কখনোই আমাদের বিয়ে দেবে না, তাই এছাড়া আর কোনো পথ নেই। অবশেষে এলো সেই অনাকাঙ্ক্ষিত দিনটি, যা আমার জীবন এলোমেলো করে দিল। বিশ বছরের ভালোবাসার মানুষগুলোকে পেছনে ফেলে তার হাত ধরে ঘর ছাড়লাম। প্রথমে ঢাকায় তার ফুফুর বাসায় গেলাম। ওদিকে পুরো গ্রামে আমাদের পালিয়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লো। ল-জ্জায় আমার পরিবার হয়তো কারো সামনে মুখ দেখাতে পারছিল না। তাদের জন্য খুব খারাপ লাগছিল, কিন্তু ভালোবাসার মানুষকে পাশে পেয়ে কষ্টগুলো ভুলে থাকার চেষ্টা করতাম। দশ দিন পর তাদের বাড়িতে গেলাম। সেখানে গিয়ে বড় ধা-ক্কা খেলাম—ওরা ভীষণ গরীব, ভালো একটি ঘরও নেই। তবুও ভালোবাসার টানে সব মেনে নিলাম। ১৫ দিন পর সে চাকরির খোঁজে ঢাকায় চলে যায়। এভাবে সংসার চলে আর পরবর্তীতে আমি দুই সন্তানের মা হই।
এতদিন জানতাম সে আমাকে আগের মতোই ভালোবাসে। কিন্তু সম্প্রতি তার অবহেলার জানতে পারলাম, সে চার বছর ধরে অন্য একটি মেয়ের সাথে প-রকীয়ায় লি;প্ত। এটা জানার পর থেকে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। মেয়েটির সাথে কথা বলে জানলাম, আমার স্বামী তাকে মিথ্যা বলেছিল যে সে অবিবাহিত। ধরা পড়ার পর স্বামী আমার কাছে ক্ষমা চেয়েছে। মেয়েটিও জানিয়েছে তাদের কখনো দেখা হয়নি, শুধু ফোনেই কথা হতো। এখন বুঝতে পারছি না—তাকে কি শুধরে যাওয়ার জন্য আরেকটি সুযোগ দেওয়া উচিত? আপনারাই বলুন, আমার এখন কী করা উচিত?
পাঠিয়েছেন
~নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক আপু









