প্রি-প্রেস রিলিজ
বাংলাদেশে ২০১১ সাল থেকে প্রতিবছর জাতীয় তামাকমুক্ত দিবস পালন করা হয়। এবছরও দিবসটি পালনে গ্রহণ করা হয়েছে নানা ধরনের কর্মসূচি। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে-“ই-সিগারেট/ভ্যাপ ও নিকোটিন পণ্য নিষিদ্ধ করুন, শিশু-তরুণদের রক্ষা করুন।” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে এবছর রেখে সারাদেশে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় তামাকমুক্ত দিবস উদযাপিত হতে যাচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে আগামী ০৮ অক্টোবর ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) সকাল ৯টায় বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা)-এর উদ্যোগে তামাক নিয়ন্ত্রণে কার্যরত ৩৫টি সংগঠনের প্রতিনিধিদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে ধানমন্ডি সাত মসজিদ সড়কস্থ আবাহনী খেলার মাঠের সামনে একটি অবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়াও তামাক বিরোধী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে দেশ জুড়ে বিভিন্ন স্থানে সভা, সেমিনার, মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচিসহ নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
দেশে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের চিকিৎসায় হাসপাতালগুলোতে ক্রমবর্ধমান চাপ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ক্যান্সারের মতো গুরুতর রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে; এমনকি প্রায় ৭ হাজার ক্যান্সার রোগীর কেমোথেরাথির সিরিয়াল ২০২৮ সাল পর্যন্ত ঠেকেছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন প্রজন্মকে নিকোটিনের আসক্তি থেকে সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত জরুরি। উল্লেখ্য, ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এ ই-সিগারেট/ভ্যাপ ও নিকোটিন পণ্য নিষিদ্ধ করা হলেও পরবর্তীতে আইন সংশোধনের সময় সুকৌশলে এই বিধানটি বাতিল করা হয়।
ই-সিগারেট/ভ্যাপ, নিকোটিন পাউচ এবং হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (HTP) এর আগ্রাসী বিস্তার জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে । ২০১৭ সালে দেশে ই-সিগারেট ব্যবহারকীর সংখ্যা ছিলো মাত্র ০.২ শতাংশ। ২০২৬ সালে তরুণ ধূমপায়ীদের মধ্যে ই-সিগারেট ব্যবহারের হার বৃদ্ধি পেয়ে দাড়িয়েছে ৭.৪২% শতাংশ। নিকোটিন নির্ভর আসক্তিকর এসব পণ্য ক্যান্সারসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। বিদ্যমান তামাকজাত পণ্যই যেখানে মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে, সেখানে নতুন নিকোটিন পণ্যের ক্ষেত্রে আইনি নিষেধাজ্ঞা না থাকায় এসব পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও তরুণদের মধ্যে এসব পণ্যের আকর্ষণ ও ব্যবহার বৃদ্ধি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
বিশ্বের অন্যান্য দেশে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হচ্ছে। ইংল্যান্ডে ২০২৬ সালে একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন আইন হয়েছে, যার মাধ্যমে ধাপে ধাপে তামাকমুক্ত প্রজন্ম (smoke-free generation) তৈরি করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেখানে ১ জানুয়ারি ২০০৯ বা তার পরে জন্মগ্রহণকারী কোনো ব্যক্তির কাছে তামাকজাত পণ্য বিক্রি করা যাবে না। ২০২৭ সাল থেকে ইংল্যান্ডে এ বিধান কার্যকর করা হবে। অপরদিকে আমাদের দেশে মাত্র তিনটি বহুজাতিক তামাক কোম্পানিকে সুযোগ দেবার জন্য দেশে ই-সিগারেটে এর মতো ক্ষতিকর পণ্যের সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। বর্তমান অবস্থায় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, রোগ প্রতিরোধ এবং শিশু-তরুণদের নিকোটিন আসক্তি থেকে রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। সিগারেট/ভ্যাপ, নিকোটিন পাউচ ও অন্যান্য নতুন নিকোটিন পণ্যের নিষিদ্ধ করে শক্তিশালী আইন প্রণয়ন করা জরুরি।







