স্টাফ রিপোর্টারঃ
দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলি সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে ৪০ কেজি ওজনের ৭০ বস্তা সরকারি ধান বের করে গোপনে বিক্রি চেস্টার অভিযোগ উঠেছে গুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। জনতার হাতে আটক ৭০ বস্তা ধান বোঝাই ট্রলি তদন্ত ছাড়াই ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয়রা জানান,ধানগুলো পথিমধ্যে আটক করা হলেও পরে কোনো তদন্ত ছাড়াই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।এদিকে ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করতে গুদাম কর্মকর্তা বড় অঙ্কের অর্থ নিয়ে বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে বলেও গুঞ্জন বইছে। সম্প্রতি
স্থানীয়রা এ ঘটনার অধিকতর তদন্তের দাবিতে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক (আরসিফুড) ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদুক) বরাবর ডাকযোগে লিখিত অভিযোগ প্রেরণ করেছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, হিলি সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে ধানগুলো জেলার পার্শ্ববর্তী নবাবগঞ্জ উপজেলার ভাদুরিয়া এলাকার একটি মিলে গোপনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পথের মধ্যে বোয়ালদাড় বাজারের পূর্ব পাশে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে স্থানীয় জনতা ধান বোঝাই ট্রলিটি আটক করে। এ সময় ট্রলির চালক ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তি সরকারি ধানের কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। পরে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়। এরপর বোয়ালদাড় ইউনিয়ন (ইউপি) পরিষদের চেয়ারম্যানের নির্দেশে গ্রাম পুলিশ ধান বোঝাই ট্রলিটি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় চত্বরে নিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (টিসিএফ) আতিকুর রহমান সেখানে উপস্থিত হন। তিনি প্রায় ঘণ্টাব্যাপী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং সংশ্লিষ্ট অটো রাইস মিল মালিকের দুই প্রতিনিধির সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা গুদাম কর্মকর্তার শাস্তি ও আটককৃত ধান বোঝাই ট্রলি উপজেলা প্রশাসনের কাছে জমা দেবার দাবি করেন।কিন্ত্ত কৌশলে বিক্ষুব্ধ জনতাকে সরিয়ে দিয়ে, বৈঠকের পর রহস্যজনক কারণে ধান বোঝাই ট্রলিটি ছেড়ে দেওয়া হয়।এদিকে ধান বোঝাই ট্রলি ছেড়ে দেয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা আবারো বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে।তারা এবিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদুক) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয়রা ট্রলির চালক ও সহকারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জানান, ধানগুলোর কোনো কাগজপত্র তাদের কাছে নেই। হিলি সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে ধানগুলো নেওয়া হয়েছে এবং নবাবগঞ্জের ভাদুড়িয়ার আমতলী এলাকার ফটিকের মিলে নেওয়া হচ্ছে।গুদাম থেকে ধান বের করার সময় কোনো স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল কি না, জানতে চাইলে মিল মালিকের দুই ম্যানেজার জানান, তারা দুজনই স্বাক্ষর করেছেন। তবে কখন স্বাক্ষর করেছেন, জানতে চাইলে তারা সময় বলতে পারেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মিল মালিক বলেন, টিসিএফ এবং ওসিএলএসডির যোগসাজশে ধানগুলো পাচার করা হচ্ছিলো।তিনি আরো বলেন,রাতের আঁধারে ভালো মানের চাল বের করে সমপরিমাণ নিম্নমানের চাল গুদামজাত,বোঙা মেরে বস্তা থেকে চাল বের করা, ভালো ধান ছাঁটাইয়ের জন্য দিয়ে পরিবর্তে নিম্নমানের চাল নেয়া, ডেস পাস এর ট্রাক এলে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে টাকা আদায়, টিআর-কাবিখাসহ বিভিন্ন প্রকল্পের ডিও আটকিয়ে টাকা আদায় ও বন্ধ চাল কলের নামে বরাদ্দ দেয়াসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।তিনি বলেন, গোপণে তদন্ত করা হলে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে।
এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (টিসিএফ) আতিকুর রহমানের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তার কাছেও ধান পরিবহনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চাওয়া হলেও তা দেখাতে পারেননি বলেও গুঞ্জন রয়েছে।
সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে ধান বের করে বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে হিলি খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) সাজেদুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে বলেন, ‘গুদাম থেকে যে ধান বের হয়েছে, সেগুলো ছাটাইয়ের জন্য মিলে যাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ওই মিল মালিক ছাটাইয়ের জন্য আরও ধান পাবেন।
তবে অসমর্থিত সূত্রের দাবি, ছাঁটাইয়ের জন্য যেসব গুদাম থেকে ধান দেওয়ার কথা ছিল, সেগুলো ইতোমধ্যে দেওয়া শেষ হয়েছে। এরপরও যে ধানগুলো গুদাম থেকে বের করা হয়েছে, সেগুলো গোপনে বিক্রির জন্য নেওয়া হচ্ছিল। তবে এ দাবির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে দিনাজপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ডিসিফুড) মোঃ মনিরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি এক ঘণ্টা পর বিষয়টি জানাবেন বলে জানান। পরে এ বিষয়ে তিনি আর কোনো বক্তব্য দেননি।
এদিকে জব্দ করা ধান কীভাবে ছেড়ে দেওয়া হলো, সে বিষয়ে জানতে হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জর্জ মিত্র চাকমার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।#
Post Views: 56
Related