চাঁদপুর জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার নাছির উদ্দিনের রমরমা ঘুষ বাণিজ্য
চাঁদপুর জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার মোঃ নাছির উদ্দীনের বিরুদ্ধে রমরমা ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। ঘুষের টাকায় নিজ নামে, স্ত্রীর নামে, বোনের নামে ও শশুরবাড়ীর আত্মীয়দের নামে প্রায় অর্ধ শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ রয়েছে। নিজ জেলায় ১২ বছর কর্মরত থাকার সুবাধে তৈরী করেছেন ঘুষ বাণিজ্যের বিশাল সিন্ডিকেট।
অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, জেলা পরিষদের সরকারের মূল্যবান সম্পত্তি দখলবাজদের হাতে দিয়ে কয়েক বছরেই হয়ে যান অঢেল সম্পদের মালিক। ঢাকা ও চাঁদপুরে রয়েছে একাধিক ফ্ল্যাট, ৮৭ শতাংশের বেশি জমির মালিকানা ও গ্রামে আলিশান বাড়ি। অধিকাংশ সম্পদ স্ত্রী, বোন ও শশুরবাড়ির আত্মীয়দের নামে। দুর্নীতির কারনে একাধিকবার বদলী হওয়ার পরেও ১২ বছর ধরে নিজ জেলায় কর্মরত রয়েছেন এই সার্ভেয়ার নাসির উদ্দিন।
চাঁদপুর জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার মোঃ নাছির উদ্দিন জাতীয় বেতন স্কেলের ১৬তম গ্রেডের কর্মচারী। বেতন ২২৪৯০ টাকা। এই বেতনের একজন ব্যক্তি যদি ২০ বছর চাকরি করেন, তারপরও বেতন-বোনাস মিলিয়ে আয় ৭০ লাখ টাকাও হবে না। দৈনন্দিনের পারিবারিক ব্যয়ের হিসাবটা না হয় বাদই দেওয়া হলো। অথচ ১৬তম গ্রেডের সরকারি এ কর্মচারীর সম্পদের পরিমাণ শুনলে যে কারও মাথা ঘুরে যাবে। কয়েক বছর আগেও যাদের সংসার চলত মানুষের দান অনুদানে অথচ জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার পদে চাকুরী হওয়ার পরেই বনে যান ঢাকা ও চাঁদপুরে ফ্ল্যাটের মালিক, হয়ে যান ৮৭ শতাংশের অধিক জমির মালিক, ২টি পুকুর, চাঁদপুর শহর, ফরিদগঞ্জ, হাজীগঞ্জ, কচুয়াতে ১০ টি দোকান, গ্রামের বাড়িতে রয়েছে বাউন্ডারি করা আলিশান বাড়ি, স্ত্রী, বোন সাহিদা, মা-বাবা জেঠশ, শশুর-শাশুড়ির নামেও রয়েছে সম্পত্তি, নগদ অর্থ ও স্বর্নালংকার। যার মাসিক বেতন এতকম টাকা হওয়া স্বত্তেও কীভাবে এই অল্প সময়ে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তোলে? হয়তো আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপের ছোঁয়ায় তিনি এত সম্পদের মালিক বনে গেছেন।
তার গ্রামের বাড়ি ফরিদগঞ্জ উপজেলার ২নং বালিথুবার মূলপাড়া সরখাল গ্রামে। তার এলাকা ঘুরে, এলাকার লোকজন ও তার নিকট আত্নীয়দের থেকে জানা যায়, সার্ভেয়ার নাছির উদ্দিন’র পিতা মোঃ মজিবুর রহমান কে দত্তক আনা হয়, ছোট বেলায় তিনি অসুস্থ হয়ে একটি চোখ হারান। কুমিল্লা একটি লাইব্রেরিতে ৩/৪ হাজার টাকা বেতনের কাজ করতেন। ৫ মেয়ে ৩ ছেলের এত বড় সংসার চালাতে পাড়তেনা তার বাবা। অভাবের তাড়নায় ২০০৫ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তাদের চলতে হত মানুষের দান অনুদানে। সার্ভেয়ার নাছির উদ্দিনের বাবা কুমিল্লা থাকাকালীন এক ব্যক্তির মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সাবেক রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) এর চার বারের সংসদ সদস্য মুজিবুল হক মুজিব এর সুপারিশে ছাত্রলীগ পরিচয়ে জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার পদে তার চাকরি হয়। প্রথমে ভোলা জেলায় কিছু দিন থাকার পরে ১৮ মার্চ ২০১২ সালে চাঁদপুর জেলা পরিষদে যোগদান করেন। চাঁদপুরে যোগদানের পর থেকে আর তাকে পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি, হয়ে যান আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ।
চাকরি হয়ে যায় তার সম্পদ গড়ার পরশ পাথর। ভাঙ্গা টিনের ঘর থেকে গ্রামের বাড়িতে হয়ে যায় বাউন্ডারি করা বহুতল ভবনের আলিশান বাড়ি। চাকরী করে দুর্নীর্তি ও নানান অনিয়মের মাধ্যমে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত নিজ এলাকায় ৮৭ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। তার নিজ এলাকার দালাল বাড়িতে ১৫ শতাংশ, কামরুল হাসান চৌধুরী থেকে ১৫ শতাংশ, আইয়ুব আলী তালুকদার থেকে ২১ শতাংশ, অহিদা বেগম থেকে ১৫ শতাংশ, মোস্তফা শিং থেকে ৭ শতাংশ, ওসমান ভদ্র থেকে ৫ শতাংশ, হাবিব ভদ্র থেকে ৩ শতাংশ, কালাম ভদ্র গং থেকে ৫ শতাংশ, এমরান ভদ্র থেকে ১ শতাংশ সম্পত্তি ক্রয় করেন। নিজ বাড়িতে ১.৪ একরের ২ টা পুকুর ৬ লক্ষ টাকা দিয়ে ৫ বছরের জন্য ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করছেন। চান্দ্রা বাজারে ৫০ লক্ষ টাকা দিয়ে ২ টা দোকান ক্রয় সহ চাঁদপুর শহরে, হাজীগঞ্জ, কচুয়াতে ১০ টি দোকান রয়েছে। নাছির উদ্দিন তার চাকরি পাওয়ার ২ বছর পরে ফরিদগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শহিদুল্লাহকে ৭ লক্ষ টাকা দিয়ে জাল জালিয়াতি করে পিতা মজিবুর রহমানকে মুক্তিযোদ্ধা বানান। দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত এসব সম্পদ নিজের নামে ছাড়াও স্ত্রী, মেজু বোন সাহিদা, মা-বাবা, জেঠশ শ্বশুর-শাশড়ি নামেও গড়েছেন। বর্তমানে নাছির উদ্দিন কমপক্ষে প্রায় ৫০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক। এলাকার মানুষের দান অনুদানে চলা নাছির উদ্দিনের পরিবারের সংসার এখন চলে রাজার হালে। এলাকার মানুষকে তারা মানুষই মনে করে না। স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের আমলে সে নিজেকে ক্ষমতাধর আওয়ামী লীগ নেতা মনে করত। জেলা আওয়ামী লীগ, ফরিদগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের যে কোন আন্দোলনে সংগ্রামে অর্থ ডোনার ছিল সে। তার অর্থের মূল উৎস ছিল জেলা পরিষদের মূল্যবান সম্পত্তি গুলো দখলবাজদের হাতে তুলে দেওয়া।
সার্ভেয়ার নাছির উদ্দিন এর রিপোর্ট ছাড়া জেলা পরিষদে কোন লীজ, নাবয়ন ও পরিবর্তন, মাটি ভরাটসহ কিছুই হয় না। তিনি নবায়নের রিপোর্টের নামে লিজগনকারীদেরকে চরমভাবে হয়রানি করে। আওয়ামী লীগের ক্ষমতাকালীন সময় সে সবাইকে পরিচয় দিত জেলা পরিষদের ভূমির মা-বাপ। জেলাবাসী তার রিপোর্টের কাছে জিম্মি।
জেলার বিভিন্ন ভুক্তভোগীরা জানান, লীজারের কাছ থেকে খাজনার পাশাপাশি ঘুষ ছাড়া কোন নবায়ন করে না। নবায়ন করতে অতিরিক্ত দশ থেকে বিশ হাজার টাকা করে নেন। এ ছাড়া লীজ ও লীজ নাম পরিবর্তন বাবদ ৫০ হাজার থেকে ১, ২, ৩ ও ৪ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেন সার্ভেয়ার নাছির। বিভিন্ন জায়গার দোকানঘর থাকা সত্ত্বেও ডোবা হারে খাজনা রিসিট কেটে লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব ক্ষতি করে নিজে সেই অর্থ হাতিয়ে নেন। সার্ভেয়ার রিপোটের নাম করে হাজার হাজার টাকা লীজারদের কাছ থেকে আদায় করে নেন। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সরকারি সম্পত্তিতে পাকা দালান ও ভরাট করার মৌখিক অনুমোদন দিতেন সার্ভেয়ার নাছির। তার কারনে কচুয়া রহিমানগর বাজারে জেলা পরিষদের সরকারি জায়গায় ছাদ দিয়ে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। নাছিরের নির্দেশে কালিয়াপাড়া থেকে কচুয়া পর্যন্ত রাস্তার দুপাশে অনেক ছাদসহ লীজের জায়গায় ভবন করা হয়। কাগজে কলমে লীজের জমির পরিমান কম দেখিয়ে বাস্তবে তার তিন চার গুন দখল দিতেন। ফলে সরকার কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব হারায়, আর সার্ভেয়ার নাছির হয়ে যায় আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ। বড় স্যারদের টাকা দেওয়ার নাম করে প্রতি শনিবার দোকানে দোকানে হোন্ডা নিয়ে গিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা কালেকশন করতেন নাছির ও উচ্চমান সহকারী মজিব।
রহিমানগর বাজারে উচ্ছেদ করে একই লোকদের আবার কয়েক লক্ষ টাকার বিনিময়ে জেলা পরিষদের মূল্যবান সম্পত্তি লীজ দেন। রহিমানগর বাজারের রাজ হোটেল, ইসলামিয়া হোটেল, জেকে এন্টারপ্রাইজ, আঃ ছালাম ও শাহআলম এর দোকান নামমাত্র উচ্ছেদ করে ৩৫ লক্ষ টাকা করে নিয়ে আবার তাদেরকেই এবং ওই লীজদারদের আত্মীয় স্বজনদের নামে লীজ দিয়েছেন সার্ভেয়ার নাছির। উচ্ছেদকারীদের জিম্মি করে তাদের রাস্তায় নামিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় নাছির। অথচ উচ্ছেদের নামে এই নাটক করে সরকারি রাজস্ব ক্ষতি করে নিজের স্বার্থ উদ্ধারে ব্যস্ত ছিলেন। বাবুরহাট বাজারে জেলা পরিষদের সম্পত্তিতে ৪ তলা বিশিষ্ট বাণিজ্যিক ভবন নির্মান করার লক্ষ্যে ৮৭ টি দোকানের লীজ ২০১৭ সালে বাতিল করে ২০২৪ সালের ২৯ জুন ৮৭ টি দোকান উচ্ছেদ করা হয়। গত বছর ৫ আগস্টের পর জেলা পরিষদের চলমান কাজ বন্ধ রেখে সাবেক প্রধান নির্বাহী মোঃ মনোয়ার হোসেন এর নির্দেশে সার্ভেয়ার মোঃ নাছির সহ কয়েক জন কর্মচারী দোকান প্রতি ৫০ হাজার টাকা করে নিয়ে শতাধিক দোকানদারকে পুনরায় বসার মৌখিক অনুমতি দেন। জেলা পরিষদের কর্মকর্তা ও কর্মচারী মৌখিক অনুমতিতে উচ্ছেদ এর মাত্র দেড় মাস পরেই লীজ ছাড়া ১০০ দোকানদার তারা আরসিসি পিলার ও ফ্লোর ঢালাই করে দোকান নির্মান করেন। ইজারার পরিবর্তে প্রতি মাস শেষে শতাধিক দোকান থেকে দোকান প্রতি দেড় থেকে দুই হাজার টাকা করে নিয়ে যাচ্ছে এই সার্ভেয়ার নাছির সহ কয়েকজন।
সার্ভেয়ার নাছিরের মৌখিক অনুমতি পেয়ে জেলার লীজাররা সরকারি সম্পত্তিতে আরসিসি পিলার ও ছাদ দিয়ে মার্কেট নির্মাণ করেছে এবং এখনো ছাদ দিয়ে বহুতল মার্কেটের কাজ চলমান রয়েছে। একজনের জায়গা আরেকজনের নামে লীজ দিয়ে ঝামেলা সৃষ্টি করে দুপক্ষ থেকে ঘুষ আদায় করেন। জেলা পরিষদের জায়গার খালের উপর চলাচলে স্থায়ী ব্রীজ নির্মাণ করার অনুমতি দিয়েও অর্থ আদায় করে, এমনকি ব্রীজেও দোকান বসায়। কচুয়া রহিমানগর উত্তর বাজারে জেলা পরিষদের জায়গায় পূর্বের সামাদ সুপার মার্কেটকে জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট করবে বলে পরিমাপের কাজ শুরু করে। জেলা পরিষদ মার্কেট করবে না, এ শর্তে শতাধিক লীজারের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা উঠিয়ে মার্কেট নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখে সার্ভেয়ার নাছির। আওয়ামী লীগের নেতাদের যোগসাজশে সরকারের মূল্যবান সম্পত্তি লিজের নামে হাতিয়ে নেন কোটি কোটি টাকা, গড়ে তোলেন সম্পদের পাহাড়। সরকারের সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করেও, নানান অনিয়ম সীমাহীন দুর্নীতি ছিল তার প্রধান লক্ষ্য।
জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার নাছির উদ্দীনের বিরুদ্ধে জেলার সকল উপজেলার মানুষের যেমন রয়েছে অভিযোগের পাহাড় তেমনি তার অন্যায়, অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ তথ্য গোপন সহ নানা অভিযোগও ছিল জেলা পরিষদের সাবেক সদস্যদের। ১০ অক্টোবর ২০২৩ সালে ৪৭৭ নং স্মারকে জেলা পরিষদের সাবেক ১১ জন সদস্যের স্বাক্ষরিত সার্ভেয়ার নাছির উদ্দিন এর দুর্নীতি, অনিয়ম, তথ্য গোপনের বিরুদ্ধের অনাস্থা জ্ঞাপন এবং বদলীসহ প্রয়োজনীয় ববস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর এর অনুলিপি সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়, বাংলাদেশে সচিবালয় এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা পরিষদ চাঁদপুর নিকটও দেন।
অভিযোগে তারা উল্লেখ করেন বাংলাদেশ গেজেট ২০১৭ অনুযায়ী জেলা পরিষদের সম্পত্তি ইজারা বা ভাড়া প্রদান ও নবায়নের ক্ষেত্রে পরিষদ কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট জমি সরেজমিনে পরিদর্শন করে পরিষদে প্রতিবেদন দাখিল করবে এবং উক্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরিষদ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। গেজেট প্রকাশিত হওয়ার ৬ বৎসর পর সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারে। গেজেটের কোথাও সার্ভেয়ার প্রতিবেদন দিবে একথা উল্লেখ নাই। পরিষদ তথা সদস্যগণ এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা থাকলেও সার্ভেয়ার নাছির বিষয়টি গোপন রেখে অবৈধভাবে প্রতিবেদন দাখিল করত। সরেজমিনে যে পরিমান মাপ আছে, প্রতিবেদনে কম উল্লেখ করে জেলা পরিষদের রাজস্ব ফাঁকি দিত এবং অবৈধ আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করত। বাণিজ্যিককে নাল, আবাসিককে ডোবা দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করত নাছির উদ্দিন। সে জেলা পরিষদের বেশীরভাগ মূল্যবান সম্পত্তি অবৈধ দখলদারদের হাতে তুলে দিয়েছে। প্রায় জায়গা অস্থায়ী কাঠামো নির্মাণের পরিবর্তে অর্থের বিনিময়ে পাকা স্থায়ী কাঠামো নির্মানে ব্যবস্থা করে দিয়েছে সার্ভেয়ার নাছির উদ্দীন। তথ্য গোপন করে অবৈধ সুবিধা নেয়াই ছিল তার উদ্দেশ্য। তাকে অপসারনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেন জেলা পরিষদের তৎকালীন সদস্যরা।
এই বিষয়ে মোঃ নাছির উদ্দিনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমার এই ধরনের কোন সম্পদ নেই। একটা গ্রুপ আমার পেছনে লেগে আছে। তারাই আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবী, মানুষকে জিম্মি করে নাছিরের রমরমা ঘুষ বাণিজ্য ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের জন্য তাকে চাকুরী থেকে বরখাস্ত করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা সহ দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে তদন্ত করে তার সকল সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হোক।