রংপুর ব্যুরো: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের সমস জামেয়া মোহাম্মদীয়া কওমী মাদ্রাসা ও হেফজখানা, বাইতুল মামুর জামে মসজিদের স¤পত্তি নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসা ও মসজিদ কমিটির সভাপতি ও মোতওয়ালি মাওলানা ওমর ফারুক জেহাদি (বাবর) এর বিরুদ্ধে। তিনি মসজিদ ও মাদ্রাসার জমি স্ত্রী-সন্তানের নামে দলিল করে দিয়ে খারিজ খতিয়ানের জন্য আবেদন করেছে। এছাড়াও মসজিদ ও মাদ্রাসার মাঠের মাটি সরিয়ে ধান চাষ করা ও মাদ্রাসার ঘর বিক্রির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, মসজিদ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে রেকর্ডভুক্ত জমি কৌশলে সন্তানদের নামে দলিল করে দেওয়ার পর জমির একটি অংশ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। সমস জামেয়া মোহাম্মদীয়া কওমী মাদ্রাসা, হেফজখানা ও বাইতুল মামুর জামে মসজিদের নামে বি আর এস খতিয়ান নং-৬১১ জমি ৪৫ শতক ও সমস আহমদিয়া কওমী মাদ্রাসা ও মসজিদের নামে ১৭৬১ নং বি আর এস খতিয়ানে ৩৩ শতক জমি রেকর্ডভ‚ক্ত হয়। উভয় প্রতিষ্ঠানের মোতওয়ালি ও সভাপতি একই ব্যক্তি ও কমিটির সদস্য নিজ পরিবার ভুক্ত হওয়ায় সুকৌশলে প্রতিষ্ঠানের স¤পত্তি নিজের স্ত্রী ও সন্তানদের নামে দলিল করে দেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, স্ত্রী ও সন্তানদের নামে দলিল করা ওই জমির মধ্য থেকে মোজাম্মেল হকের ছেলে মোহাম্মদ আলীর কাছে ১০ শতক, আব্দুল মজিদের মেয়ে মুক্তা বেগমের নিকট ৫ শতক, মৃত মেজ্জাত আলীর ছেলে নুরুন্নবীর নিকট ১ শতক ও মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে ফুল মিয়ার কাছে ১ শতকসহ মোট ১৭ শতক জমি বিক্রির উদ্যোগ গ্রহণ করে মাওলানা ওমর ফারুক জেহাদি।
এসব জমির দলিল স¤পাদন করার জন্য স্ত্রী ও সন্তানদের নামে দলিল খারিজের জন্য জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। প্রতিষ্ঠানের জমি নিয়ে জালিয়াতির ঘটনা ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে মসজিদ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এক সময় যেখানে নিয়মিত নামাজ ও ধর্মীয় কার্যক্রম চলত, সেই মসজিদটি বর্তমানে মুসল্লি শূন্য হয়ে পড়েছে। একই ভাবে শিক্ষার্থী না থাকায় মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের স¤পত্তি নিয়ে এমন জালিয়াতির ফলে এলাকার মানুষের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ধ্বংসের মুখে পড়েছে মসজিদ ও মাদ্রাসাটি। মাদ্রাসা ও মসজিদের মাঠের মাটি সরিয়ে নিয়ে সমতল করা জায়গায় ধান চাষ করা হচ্ছে। মসজিদ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ ব্যক্তিগত কৃষিকাজে ব্যবহারের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়াও মাদ্রাসার প্রায় ১০০ হাত দীর্ঘ একটি ঘর বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে সভাপতি মাওলানা ওমর ফারুক জেহাদি (বাবর) এর বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে মাদ্রাসা ও মসজিদের আয়-ব্যয়ের হিসাব, জমির দলিল, খতিয়ান, নামজারি, প্রতিষ্ঠানের স¤পত্তি ব্যবস্থাপনার নথিপত্র প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ করা করেন এলাকার মানুষ।
অভিযোগের বিষয়ে মাওলানা ওমর ফারুক জেহাদি (বাবর) আলীর সাথে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। শ্রীপুর ইউনিয়ন ভ‚মি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, ওমর ফারুক জেহাদির ছেলে মাহাদী হাসানের নামে জমি দলিল করে খারিজ খতিয়ানের জন্য আবেদন করেছে। সরেজমিনে তদন্তে গিয়ে মাদ্রাসা ও মসজিদের জমি হওয়ার কোন সিদ্ধান্ত দিতে পারছিনা। কর্তৃপক্ষের সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।







