মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর সম্ভাবনা ঘিরে সতর্ক থাকার আহ্বান রিক্রুটিং উদ্যোক্তা এমডি: সিফাত হোসাইন_
দীর্ঘ প্রায় ৪ বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় কর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তরুণ রিক্রুটিং উদ্যোক্তা এমডি সিফাত হোসাইন।
তিনি বলেন, শ্রমবাজার খোলার খবরে একটি চক্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে “দ্রুত মালয়েশিয়া পাঠানো হবে”, “কম খরচে ১০০% ভিসা” এমন চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ কর্মীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সচেতনতা।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মালয়েশিয়ার সুপারমার্কেট চেইন এনএসকে ট্রেড সিটির ২৮ জন কর্মীর চাহিদাপত্র বাংলাদেশ হাইকমিশন সত্যায়নের মধ্য দিয়ে নীরবে বাজারটি খুলেছে। এরপর ১৫ অক্টোবর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানায়, বোয়েসেলসহ মোট ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর সুযোগ দিতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া। এর মধ্যে ১০ হাজার কর্মীকে সম্পূর্ণ জিরো কস্টে বা বিনা খরচে নেওয়ার বিষয়েও নীতিগত সম্মতি দিয়েছে দেশটি।
এ বিষয়ে রিক্রুটিং উদ্যোক্তা এমডি সিফাত হোসাইন বলেন, “মালয়েশিয়ার বাজার আমাদের জন্য আশীর্বাদ। কিন্তু এই আশীর্বাদকে কিছু অসাধু দালাল ও সিন্ডিকেট অভিশাপে পরিণত করে। অতীতে আমরা দেখেছি সরকার নির্ধারিত ৭৮ হাজার টাকার জায়গায় কর্মীদের ৪-৫ লাখ টাকা পর্যন্ত গুনতে হয়েছে। এবার যেন তার পুনরাবৃত্তি না হয়। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপে বাজারটি খুলছে, সরকার স্বচ্ছতার কথা বলছে। তাই কর্মীদের প্রতি আমার অনুরোধ, কোনো অবস্থাতেই অনুমোদনহীন এজেন্সি বা ব্যক্তিকে টাকা দেবেন না।”
তিনি কর্মীদের জন্য ৫টি সতর্কতার কথা উল্লেখ করেন:
১. RL নম্বর যাচাই করুন: যে এজেন্সির মাধ্যমে যাবেন তার RL নম্বর আছে কিনা, সেটি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ৩৩৮টি এজেন্সির মধ্যে আছে কিনা তা BMET ওয়েবসাইটে গিয়ে যাচাই করুন।
২. অগ্রিম লেনদেন নয়: মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি ও কলিং ভিসা ইস্যু হওয়ার আগে কোনো ধরনের বুকিং মানি বা অগ্রিম টাকা দেবেন না।
৩. বোয়েসেলকে ফলো করুন: বিশেষ করে প্রথম ১০ হাজার জিরো কস্টের কর্মী যাবে সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের মাধ্যমে। বোয়েসেলের ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে নজর রাখুন।
৪. ফেসবুকের ভুয়া অফার এড়িয়ে চলুন: “৩ দিনে ফ্লাইট” “ই-ভিসা রেডি” এমন পোস্ট দেখলেই সতর্ক হোন।
৫. চুক্তিপত্র পড়ুন: বেতন, কাজের ধরন, আবাসন, কোম্পানির নাম স্পষ্টভাবে চুক্তিপত্রে উল্লেখ আছে কিনা দেখে নিন।
সিফাত হোসাইন আরও বলেন, এবার সরকার ৪টি ধাপে নিয়োগ প্রক্রিয়া সাজিয়েছে – জব অর্ডার সংগ্রহ, কর্মী নির্বাচন, কলিং ভিসা ও ই-ভিসা প্রসেসিং এবং বিএমইটি ছাড়পত্র। এই প্রক্রিয়ার বাইরে কেউ যদি “বাইপাস” বা “শর্টকাটে” মালয়েশিয়া পাঠানোর কথা বলে, বুঝতে হবে সেখানে প্রতারণা আছে।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকেও জানানো হয়েছে, অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও হয়রানি রোধে কঠোর নজরদারি থাকবে।
সবশেষে তিনি বলেন, “মালয়েশিয়া একটি সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার। একে টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব সরকার, এজেন্সি ও কর্মী সবার। লোভে পড়ে ভুল সিদ্ধান্ত নিলে শুধু টাকাই নয়, জীবনের ঝুঁকিও তৈরি হবে। তাই বৈধ পথে, জেনে-বুঝে বিদেশ যান।”








