কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছে জানতে পারেন, তার স্বপ্নের নারী বাস্তবের কেউ নন; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি একটি চরিত্র। শেষ পর্যন্ত অর্থহীন ও নিঃস্ব অবস্থায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহায়তা নিতে হয়েছে তাকে। ব্যতিক্রমী এই ঘটনাটি ঘটেছে ব্রাজিলে।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, এডিমার মার্তিনস নামের ওই ব্যক্তি ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মারানিয়াও প্রদেশের বাসিন্দা। পেশায় তিনি একজন রাজমিস্ত্রি। স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম টিভি মিরান্তেকে তিনি জানান, ২০২০ সালে প্রথম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেসিকা অলিভেইরা নামের এক নারীর অ্যাকাউন্ট তার নজরে আসে। ওই নারী ‘জেসিকা ফাজেন্দেইরা’ নামেও পরিচিত ছিলেন।
অ্যাকাউন্টটিতে তিন লাখের বেশি অনুসারী ছিল বলে জানা গেছে। সেখানে এক নারীকে খামারে সুন্দর ও শান্ত গ্রামীণ জীবনযাপন করতে দেখা যেত। তিনি পুরুষদের তার সঙ্গে এসে থাকার আমন্ত্রণ জানাতেন। পাশাপাশি থাকার জায়গা ও আর্থিক সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দিতেন।

মায়ের মৃত্যুর পর একাকিত্বে ভুগছিলেন মার্তিনস। তার বিশ্বাস ছিল, এই নারী তাকে নতুন করে জীবন শুরু করতে সাহায্য করতে পারবেন। অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ওই চরিত্রটি তাকে আর্থিক সহায়তা দেয়ার এবং নিজের খামারে থাকার জায়গা করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
একপর্যায়ে ওই নারীর সঙ্গে দেখা করার সিদ্ধান্ত নেন মার্তিনস। তার বিশ্বাস ছিল, শেষমেষ তিনি জীবনসঙ্গী খুঁজে পেয়েছেন। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৯ অক্টোবর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মিনাস জেরাইস প্রদেশের রাজধানী বেলো হরিজন্তে যাওয়ার খরচ জোগাতে নিজের জিনিসপত্র বিক্রি করেন তিনি। বাসে এক দিনেরও বেশি সময় ভ্রমণ করে ১১ অক্টোবর শহরটিতে পৌঁছান।
কিন্তু সেখানে গিয়ে তার আশা পরিণত হয় নিরাশায়। ওই নারীর ছবি সঙ্গে নিয়ে শহরের বিভিন্ন জায়গায় তাকে খুঁজতে থাকেন মার্তিনস। পথচারীদের ছবিটি দেখিয়ে জানতে চান, তারা ওই নারীকে চেনেন কি না। কিন্তু কেউই তাকে চিনতে পারেননি।
শেষ পর্যন্ত স্থানীয় একটি বেতারকেন্দ্রে যান তিনি। সেখানে তাকে জানানো হয়, ওই নারীর বাস্তবে কোনো অস্তিত্বই নেই এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টটি ভুয়া। তখনই মার্তিনস জানতে পারেন, যাকে তিনি বিয়ে করার স্বপ্ন দেখছিলেন, তিনি আসলে এআই দিয়ে তৈরি একটি চরিত্র।
মার্তিনস বলেন, ‘এতে শুধু দুঃখ, হতাশা আর বিষণ্নতাই আসে। অনেকেই একটা সম্পর্ক চান, তাই আমিও তাকে চেয়েছিলাম।’
পরে ওই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের পেছনে থাকা ব্যক্তি স্বীকার করেন, চরিত্রটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি। তবে মার্তিনসের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের কথা অস্বীকার করেন তিনি।

ওই কাল্পনিক নারী চরিত্রের পরিচয়ে দেয়া বক্তব্যে বলা হয়, ‘স্পষ্ট কথাটিই জানাতে এখানে এসেছি—আমি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি। এই প্রোফাইল ব্যবহার করে কারও সঙ্গে কখনো কথা বলিনি। উদ্দেশ্য ছিল অ্যাকাউন্টটির সম্পৃক্ততা বাড়িয়ে সেটি বিক্রির সুযোগ তৈরি করা। কারও সঙ্গে সরাসরি কথা বলিনি, কাউকে বেলো হরিজন্তেও নিয়ে আসিনি। এখানে যা ঘটছে, তা দেখে আমিও বিস্মিত।’
এদিকে ভ্রমণে নিজের সব টাকা খরচ করে ফেলায় শহরটিতে আটকা পড়েন মার্তিনস। পরে সহায়তার জন্য স্থানীয় পৌর কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হন তিনি। সমাজকর্মীরা তাকে খাবার, গোসলের সুযোগ এবং শহর ছেড়ে যাওয়ার জন্য বাসের টিকিটসহ বিভিন্ন সহায়তা দেন।
অবশ্য এত বড় হতাশার পরও জীবনসঙ্গী খোঁজার আশা ছাড়েননি মার্তিনস। বর্তমানে তিনি পরিবারের এক সদস্যের সঙ্গে থাকছেন। তবে স্থায়ীভাবে সংসার করার মতো কাউকে খুঁজে পাওয়ার আশায় আবারও বেলো হরিজন্তে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি।
মার্তিনস বলেন, ‘তাঁকে খুঁজে পাইনি। তবে অন্য কাউকে খুঁজে পাব। আমি যে জায়গায় গিয়েছিলাম, সেখানেই আবার যাব।’
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছয় মাসেরও কম সময়ের মধ্যে মার্তিনস ছিলেন তৃতীয় ব্যক্তি, যিনি বেলো হরিজন্তে গিয়েছেন এমন এক নারীর সঙ্গে দেখা করার আশায়, যিনি আসলে বাস্তবের কেউ নন।








