*চৌদ্দগ্রামে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে জোরপূর্বক সীমানা পিলার স্থাপন ও গর্ত খোঁড়ার অভিযোগ, আতঙ্কে ভুক্তভোগী পরিবার, স্থায়ী সমাধান চান এলাকাবাসী*
*চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:*
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গুনবতী ইউনিয়নের ফুলের নাওড়ী গ্রামে বাড়ির জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে জোরপূর্বক সীমানা পিলার স্থাপন ও গর্ত খোঁড়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত সোমবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে বিরোধপূর্ণ জায়গায় গর্ত করে সীমানা পিলার স্থাপন করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগ করেছে।
অভিযোগকারী রাসেল ইসলাম হৃদয়, পিতা মৃত নাছির উদ্দীন ছট্টু, পেশায় সিএনজি চালক। তিনি জানান, গুনবতী ইউনিয়নের ফুলের নাওড়ী গ্রামে তার বাড়ির সামনের জায়গা নিয়ে প্রতিবেশী কাজী আমিন উল্লাহর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। উভয় পক্ষই ওই জায়গাটি নিজেদের বলে দাবি করে আসছেন।
হৃদয়ের অভিযোগ, বিরোধ নিষ্পত্তি না করেই সোমবার সকালে কাজী আমিন উল্লাহর পক্ষ থেকে তার ঘরের সামনের বিরোধপূর্ণ জায়গায় গর্ত করে সীমানা পিলার স্থাপন করা হয়। এতে তার পরিবারের চলাচল ও দৈনন্দিন জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে।
এ ঘটনার বিষয়ে সরেজমিনে গেলে ফুলের নাওড়ী গ্রামের বাসিন্দা এনায়েত মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সিএনজি চালক হৃদয় ও আমিন উল্লাহ হৃদয়ের ঘরের সামনের জায়গাটি নিজেদের বলে দাবি করে আসছেন। তিনি বলেন, জায়গাটি যদি আমিন উল্লাহর হয়ে থাকে, তাহলে তিনি দলিলপত্র ও কাগজপত্র দেখিয়ে সমাজের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করতে পারেন। কাগজপত্র ছাড়া জোরপূর্বক পিলার স্থাপন গ্রহণযোগ্য নয়।
এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা জোবায়ের হোসেন পলাশ বলেন, এর আগে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে এবং আমিন দিয়ে মাপঝোঁক করে সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সেই সিদ্ধান্ত অমান্য করে পরবর্তীতে কাউকে না জানিয়ে হৃদয়ের ঘরের সামনে সীমানা পিলার স্থাপন করা হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন।
জোবায়ের হোসেন পলাশ আরও বলেন, আমিন উল্লাহর পরিবারের কাছে যদি সঠিক কাগজপত্র থাকে, তাহলে তা নিয়ে সমাজবাসীসহ বসে সমাধান করা উচিত। তিনি জানান, হৃদয় গ্রামবাসীর কাছে গেলে তারা বলেন, অপর পক্ষ তাদের কথা শুনছে না। এ অবস্থায় তিনি হৃদয়কে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করার পরামর্শ দিয়েছেন।
অন্যদিকে গুনবতী ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি লিটন জানান, তিনি কয়েকদিন আগে ওই জায়গায় গিয়ে হৃদয়ের ঘরের সামনে খোঁড়া গর্ত ভরাট করে দেওয়ার জন্য বলেছেন এবং উভয় পক্ষকে তাদের কাগজপত্র নিয়ে বসার জন্য বলে এসেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা এনায়েত উল্লাহ মিন্টু বলেন, আমরা দুই পক্ষকে বলেছি, দলিল দেখিয়ে বসে সামাজিকভাবে সমাধান করে দেওয়া হবে।
স্থানীয় কাজী ইসমাইল হোসেন বলেন, দুই পক্ষ মিলে সমাধান করলে দুই পক্ষই উপকৃত হবে। সামাজিক শান্তি বজায় রাখতে আলোচনার কোনো বিকল্প নেই।
ভুক্তভোগী হৃদয় বলেন, আমাদেরকে আমিন উল্লাহর ছেলে আনোয়ার অনেক ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে, আমরা ভয় ভীতি নিয়ে দিন কাটাচ্ছি। আমরা সমাজবাসী ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের কাছে এ বিষয়ে সুন্দর ও সুস্থ সমাধানের জোর দাবি জানাচ্ছি।
হৃদয়ের মা পেয়ারা বেগম বলেন, আমার স্বামী নাই, আমি নিরীহ। আমি আমার পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে আছি।
সমাজবাসী ও প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, সঠিক তদন্ত করে স্থায়ীভাবে সমাধান করা হোক।
এলাকাবাসীর দাবি, জায়গা-জমির এই বিরোধ দ্রুত কাগজপত্র যাচাই করে প্রশাসন ও সমাজের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে স্থায়ীভাবে নিষ্পত্তি করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আমিন উল্লাহর ছেলে আনোয়ার বলেন জায়গাটি আমাদের ক্রয়কৃত।







