চোখে ছিল আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন। পড়াশোনায়ও ছিলেন মেধাবী। কিন্তু সংসারের অভাব সেই স্বপ্নের পথে দেয়াল হয়ে দাঁড়ায়। এসএসসি পরীক্ষার পরই থেমে যায় ইমাম হাসানের পড়াশোনা। স্বপ্নের বই-খাতা তুলে রেখে ধরতে হয় জীবিকার পথ। কাপড়ের দোকানে কাজ করে শেখেন পোশাক বিক্রির কৌশল। এরপর পরিবারের কাছ থেকে ধারদেনা করে ৬০ হাজার টাকা জোগাড় করে কিনে নেন কিছু পোশাক। সেই পুঁজি নিয়েই ভ্যানে শুরু করেন ভ্রাম্যমাণ ব্যবসা। এখন প্রতিদিন বিকেলে বারইয়ারহাট পৌর বাজারে ভ্যান সাজিয়ে বসেন তিনি। রাত ১০টা পর্যন্ত চলে পোশাক বিক্রি। দিনে বিক্রি করেন দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকার পণ্য। মাস শেষে আয় হয় এক লাখ টাকারও বেশি।
২৩ বছর বয়সী ইমাম হাসান চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খিলমুরারী এলাকার ইউনুস মিয়া ও রোকসানা আক্তার দম্পতির বড় ছেলে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার বড় তিনি। বাবা ইউনুস পেশায় রাজমিস্ত্রি।
ছোটবেলা থেকেই বাবার কষ্ট দেখেছেন ইমাম। রাজমিস্ত্রির কাজ করে পাওয়া আয় দিয়ে চার সদস্যের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হতো। তবু পড়াশোনায় মনোযোগী ছিলেন তিনি। স্বপ্ন ছিল একদিন আইনজীবী হবেন। কিন্তু পরিবারের আর্থিক সংকট সেই স্বপ্নকে থামিয়ে দেয়।
২০২২ সালে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার পর আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি ইমাম। পরিবারের পাশে দাঁড়াতে কাজ নেন একটি কাপড়ের দোকানে। সেখানে দীর্ঘদিন কাজ করতে গিয়ে পোশাক বিক্রির কৌশল, ক্রেতার চাহিদা বোঝা এবং ব্যবসার নানা দিক শিখে নেন।
একপর্যায়ে অন্যের দোকানে কাজ না করে নিজেই কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন। পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের কাছ থেকে ধারদেনা করে জোগাড় করেন ৬০ হাজার টাকা। সেই টাকা দিয়ে শার্ট, প্যান্ট, টি-শার্টসহ বিভিন্ন ধরনের পোশাক কিনে ভ্যানে সাজিয়ে শুরু করেন নিজের ব্যবসা।
প্রতিদিন বিকেলে ভ্যান নিয়ে বারইয়ারহাট পৌর বাজারে বসেন ইমাম। ক্রেতা এলে হাসিমুখে পোশাক দেখান, দরদাম করেন। রাত ১০টা পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। ব্যবসা শেষে যা আয় হয়, তা দিয়েই চলে পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা।
ইমাম হাসান বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন ছিল। পড়াশোনাও ভালো লাগত। কিন্তু পরিবারের অভাবের কারণে এসএসসির পর আর পড়তে পারিনি। প্রথমে কাপড়ের দোকানে কাজ করেছি। সেখানে কাজ করতে করতেই ব্যবসা শিখেছি। পরে ধারদেনা করে নিজের ব্যবসা শুরু করি।’
তিনি বলেন, ‘এখন প্রতিদিন দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকার মতো পোশাক বিক্রি হয়। মাসে এক লাখ টাকারও বেশি আয় হয়। এই আয় থেকে পরিবারকে সহযোগিতা করতে পারছি—এটাই আমার সবচেয়ে বড় শান্তি।’









