-আগে তো আমরা পাকিস্তানী ছিলাম। জিন্নাহ পাকিস্তান না করলে কি বাংলাদেশ হতো?
-তারও আগে তো ইন্ডিয়ান ছিলি? এমনকি তোদের বাপ জিন্নাহও ইন্ডিয়ান ছিল!
-জিন্নাহকে আমার বাপ বললি কেন? মুখ সামলে কথা বল!
-আরে জিন্নাহ জাতির পিতা ছিল না পূর্ব পাকিস্তানে?
-তাহলে তো শেখ মুজিবও তোদের বাপ লাগে!
-তা বাপই তো! বাংলাদেশ স্বাধীন না হলে আজকে নিজেকে পাকিস্তানী পরিচয় দেয়া লাগতো এই গ্লাণি থেকে শেখ মুজিব বাঁচাইছে!
-শেখ মুজিব বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায় নাই! উনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন।
-তাহলে মানুষটার উপর তোদের এত রাগ কেন? তোরা তো পাকিস্তান জিন্নাহপন্থী। শেখ মুজিব পাকিস্তান ভাঙতে না চাইলে তো সে তোদেরই লোক!
-শেখ মুজিব গাদ্দার! ভারতের দালাল! ভারতের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে পাকিস্তানকে…. ইয়ে… যাক বাদ দিলাম!
-হে হে হে আচ্ছা বাদ দে!
-শোন, ঐ যে ইন্ডিয়ান পরিচয় বললি না, আমাদের এই পূর্ববঙ্গ কোনদিন দিল্লির শাসন মানে নাই। এখানে মুঘলরা বেশিদিন টিকতে পারে নাই। বাংলা চিরকাল কারোর শাসন মানে নাই। বাংলা চিরকাল স্বাধীনচেতা ছিল।
-কোনদিন কারোর শাসন মানে নাই? সিরাজদৌল্লা, আলিবর্দি খাঁ এরা কোন দেশের? এরা কি বাঙালি ছিল? এতই যদি স্বদেশী প্রেম তাহলে পাল রাজাদের ইতিহাসকে নিজেদের ইতিহাস বল! ওটাকে তো নিজেদের ইতিহাস বলিস না! সুলতানী আমলকে নিজেদের বাপের ইতিহাস কেন বলিস? আর পূর্ববঙ্গ মানে কতটুকু? তাহলে চট্টগ্রামটা জেড়ে দে! ওটা কোনকালে বাংলার সঙ্গে ছিল শুনি? ওটা তো আরাকানদের! আর সিলেট আসামের। কুমল্লিা ত্রিপুরার। এগুলো কবে বাংলা দেশের ছিল?
-তুই বিচ্ছিন্নতাবাদী! তুই বাংলাদেশ বিরোধী!
-তুই আর তোরা, জিন্নার পোলারা, একটা কথা শুনে রাখ, পাকিস্তান বলতে কোনকালে কিছু ছিল না। সেই গু যদি মানতে পারিস তাহলে হিন্দুস্থান বলতে যে ভূখন্ড ও সাংস্কৃতিক সভ্যতা তাকে অস্বীকার করতে পারিস না। বাংলা কোনকালেই হিন্দুস্থান বলতে যে সিদ্ধু সভ্যতাকে বুঝায় তার বাইরে ছিল না। ‘হিন্দুস্থান’ বলতে একটা সাংস্কৃতিক মহাদেশ রয়ে গেছে যা কোন রাষ্ট্রীয় সীমারেখা মানে না। এই বৈজ্ঞানিক সত্যের কাছে তোরা জিন্নার পোলারা চিরকাল পরাজিত হবি!
© সুষুপ্ত পাঠক









