মিয়াঁদাদের এই মন্তব্যের আগে ২২ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে চিঠি লিখে ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খানের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান।
ইমরানের শারীরিক অবস্থা ও কারাগারে তার চিকিৎসা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার মধ্যেই মিয়াঁদাদের এই মন্তব্য এলো। সম্প্রতি ইসলামাবাদে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। পরে তাকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
তবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা যেভাবে করা হয়েছে, তা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে ইমরানের দল। পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল, তাকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ব্যক্তিগত চিকিৎসকসহ চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
ন্যারেটিভ-ইউটিউব চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিয়াঁদাদ বলেন, ‘কেউ আমাকে এটা বুঝিয়ে বলুক, সে কি পাকিস্তানকে খেয়ে ফেলবে।’ – প্রশ্ন করেন মিয়াঁদাদ। এরপর বলেন. ‘সবাইকে বিষয়টি দেখতে ও বুঝতে হবে। আমরা সবাই পাকিস্তানি।’

ইমরানের সঙ্গে নিজের দীর্ঘ ক্রিকেটীয় সম্পর্কের কথাও স্মরণ করেন মিয়াঁদাদ। ইংল্যান্ডে একসঙ্গে কাউন্টি ক্রিকেট খেলার সময় এবং ইমরানের হাতে অধিনায়কত্ব তুলে দেওয়ার সময়ের স্মৃতিও তুলে ধরেন তিনি। ইমরানের নেতৃত্বেই ১৯৯২ সালে মেলবোর্নে ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জিতেছিল পাকিস্তান।
ক্ষমতাবানদের উদ্দেশে আবেগঘন আবেদন জানিয়ে মিয়াঁদাদ বলেন. ‘মানুষের একসঙ্গে বসে বিষয়টির সমাধান করা উচিত। যে সমস্যাই থাকুক, পাকিস্তানের এখন সেটাই প্রয়োজন। পরিস্থিতিটা অযথা দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে, এটা ঠিক নয়।’
এরপরই চোখে পানি চলে আসে তার, ‘সেও কারও সন্তান। প্রায়ই আমার মনে হয়-বেচারা কী অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে? আমরা খুব ঘনিষ্ঠ ছিলাম। একসঙ্গে কাউন্টি ক্রিকেট খেলেছি, সময় কাটিয়েছি, একে অন্যকে খুব ভালোভাবে বুঝতাম। একসঙ্গে আমরা পাকিস্তানকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছিলাম।’
এদিকে লর্ডসে ইংল্যান্ড-পাকিস্তান টেস্ট চলাকালে স্কাই স্পোর্টসের কাভারেজে সাবেক ইংলিশ ক্রিকেটার মাইকেল আথারটনের সঙ্গে সাক্ষাৎকার দেন ইমরানের দুই ছেলে সুলেমান ও কাসিম। সাক্ষাৎকারে তারা বাবার শারীরিক অবস্থা ও কারাগারের পরিবেশ নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের দাবি, ইমরানকে প্রতিদিন ২৩ ঘণ্টারও বেশি সময় একাকী রাখা হচ্ছে।
৬৯ বছর বয়সী মিয়াঁদাদ আরও বলেন, ইমরানের কিছু হলে পুরো পাকিস্তান কাঁদবে। তার বিশ্বাস, ‘ইমরান একজন সৎ মানুষ। যা হওয়ার হয়েছে। মানুষ ভুল করে। এবার বিষয়টির ইতি টানুন। তিনিও একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশকে সেবা করেছেন। তার বিরুদ্ধে চুরির কোনো অভিযোগ নেই, ওই ধরনের কোনো অভিযোগও নেই।’
ইমরানের কিছু হলে কী হতে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মিয়াঁদাদ বলেন, ‘আল্লাহ না করুন, তার যদি কিছু হয়ে যায়, তাহলে দেশে কী ঘটবে, তা কি আপনারা কল্পনা করতে পারেন? পুরো পাকিস্তান কাঁদবে। তিনি কিছু চুরি করেননি। পাকিস্তানের জন্য নিজের সময় ও সবকিছু দিয়েছেন। তিনি ক্রিকেটের একজন মহান কিংবদন্তি। বিষয়টির সমাধান করুন।’









