রংপুর ব্যুরো: উত্তরাঞ্চলের আট জেলায় আগাম জাতের আমন ধান কাটামাড়াই প্রায় শেষ হয়েছে। চলতি মৌসুমে আগাম জাতের আমন ধানের ফলন বাম্পার হয়েছে। ফলে মঙ্গার মাস নামে পরিচিত কার্তিক মাসেও আগাম জাতের ধান চাষি ও অনেক শ্রমিকের মুখে হাসি ফুটেছে। পাকা ধান কাটামাড়াই করতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছে এলাকার কৃষকেরা। কম সময়ে ধান ঘরে তোলা, রোগবালাই কম হওয়া ও ভালো ফললে লাভের মুখ দেখার আশা করছে কৃষকরা। ধান কাটার পর একই জমিতে রবিশস্য বা শীতকালীন ফসল চাষ করে বাড়তি আয়ের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন উত্তরাঞ্চলের কৃষকেরা। রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুর জেলায় আগাম জাতের আমন ধান কাটামাড়াই প্রায় শেষ হয়েছে।
কৃষকেরা বলেন, আগাম জাতের আমন ধানের ফলন আগের মতোই রয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় চলতি বছর বিঘাপ্রতি ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা উৎপাদন খরচ বেড়েছে। সার, ডিজেল ও কীটনাশকের দাম বৃদ্ধি এবং শ্রমিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আগাম জাতের আমন ধানের ফলন বিঘা প্রতি ২-৩ মণ কম হয়। প্রতি বিঘা জমিতে ধানের উৎপাদন হয় ১৬ থেকে ১৮ মণ। এ বছর প্রতি বিঘা জমিতে ধানের উৎপাদন খরচ হয়েছে ১৪ হাজার টাকা। কিন্তু আগের বছর খরচ হয়েছিল ১২ হাজার টাকা।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কৃষক আব্দুল মতিন বলেন, আগাম জাতের আমন ধান কাটার পর আমি জমিতে আগাম জাতের শীতকালীন সবজি ফুলকপি, গাজর, বেগুন ও ধনেপাতা চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছি। শীতকালীন সবজি তোলার পর ক্ষেতে বোরো ধান চাষ করবো। লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট গ্রামের কৃষক আদিলুর রহমান বলেন, আগাম জাতের আমন ধানের ফলন কিছুটা কম হলেও ধান কাটার পর তারা জমিতে আগাম জাতের শীতকালীন শাক-সবজি চাষ করা যায়। এতে তারা লাভবান হন। তিনি ৬ বিঘা জমিতে আগাম আমন ধানের চাষ করে ফলন পেয়েছেন ১০১ মণ।
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা গ্রামে কৃষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, এক সপ্তাহ আগে থেকে আগাম জাতের আমন কাটা শুরু হয়েছে। অনেক কৃষকই ধান কাটা পর জমিতে আগাম জাতের শীতকালীন ফসল চাষ করেন। চলতি বছর আগাম জাতের আমন ধানে তেমন রোগবালাই দেখা দেয়নি। ফলন পেয়েছি আশানুরূপ। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমন ধান চাষে লাভের অঙ্ক কমেছে। আমি ৪ বিঘা জমি থেকে ৬৯ মণ ধান পেয়েছি। এখন জমিতে আগাম জাতের ফুলকপি লাগাচ্ছি। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ব্রহ্মপুত্রের চর যাত্রাপুরের কৃষক রইছ আলী মÐল বলেন, এ বছর ব্রহ্মপুত্রপাড়ে কোনো বন্যা হয়নি। আগাম জাতের আমনের ক্ষতি হয়নি। সাধারণত আগাম জাতের ধান লাগাই, যাতে ধান কাটার পর শীতকালীন ফসল আগাম চাষ করতে পারি।
রংপুর জেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রংপুরে এবার এক লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে রংপুর সদর উপজেলায় ২০৫ হেক্টর, কাউনিয়া উপজেলায় ২২৫ হেক্টর, মিঠাপুকুর উপজেলায় ২ হেক্টর এবং মেট্রোপলিটন এলাকার ৩ হেক্টর জমিসহ মোট ৪৩৫ হেক্টর জমির আগাম জাতের আমন ধান কাটা হয়েছে।
রংপুর সদর উপজেলার হরিদেবপুর গ্রামের কৃষক রহমত আলী বলেন, আগাম ধান কাটতেছি। ধান কাটার পরে জমিটাতে আলু লাগাবো। আলুর পরে ভুট্টা লাগাবো। দোনপ্রতি ১২ থেকে ১৫ মণ ফলন হয়েছে।
কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মাহমুদা খাতুন বলেন, রংপুর জেলায় চলতি বছর এক লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৪৩৫ হেক্টর জমির আগাম জাতের আমন ধান কাটা হয়েছে। হেক্টরপ্রতি আগাম জাতের আমন ধানের ফলন হয়েছে ৩ দশমিক ১৫ টন। আগাম জাতের আমন ধান কাটার পরই রবিশস্য চাষ করবেন।
কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলা কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা ও নীলফামারীতে আমন ধানের চাষ হয়েছে ৬ লক্ষ ২১ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২০ লক্ষ ১ হাজার ৩৯১ টন চাল। আগাম জাতের আমন ধান চাষ হয়েছে ৩৩ হাজার হেক্টর জমিতে।
রংপুর আঞ্চলিক কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক আবু বকর সাইফুল ইসলাম বলেন, উঁচু জমিতে লাগানো আগাম জাতের আমন ধান কাটা শেষ হয়েছে। তবে নভেম্বরের শুরুতেই শুরু হবে মৌসুমের আমন ধান কাটা। এ বছর বন্যার প্রভাব কম থাকায় আগাম জাতের আমনের উৎপাদন আশানুরূপ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কৃষকেরা আগাম জাতের আমন ধান কাটার পর তারা ভুট্টা, আলুসহ নানা ধরনের শীতকালীন সবজি চাষ করেন।
সুন্দরগঞ্জের কঞ্চিবাড়ীতে জামায়াতের মতবিনিময় সভা
রংপুর ব্যুরো: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২১ অক্টোবর দিবাগত...









