মোঃ হাবিব ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প সংরক্ষণ, আধুনিক নকশার সঙ্গে স্থানীয় কারুশিল্পীদের পরিচিত করা, পণ্যের মানোন্নয়ন এবং দেশ-বিদেশের বাজারব্যবস্থার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে দিনব্যাপী মৃৎশিল্প বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁওয়ের লোকায়ন জীবনবৈচিত্র্য জাদুঘর প্রাঙ্গণে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) এবং ন্যাশনাল ক্রাফটস কাউন্সিল অব বাংলাদেশ (এনসিসিবি), ঢাকা-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকঁচা গ্রামের সমতল পাল সম্প্রদায়ের নির্বাচিত ৩০ জন মৃৎশিল্পী অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে ২৩ জন নারী ও ৭ জন পুরুষ মৃৎশিল্পী ছিলেন।
কর্মশালায় ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের সংরক্ষণ, আধুনিক নকশা ও নান্দনিকতা, পণ্যের মানোন্নয়ন, নতুন পণ্য তৈরি এবং আধুনিক বাজারব্যবস্থার সঙ্গে স্থানীয় কারুশিল্পীদের সম্পৃক্ত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশিক্ষণ ও আলোচনা করা হয়।
আয়োজকরা জানান, ঠাকুরগাঁওয়ের সমতল পাল সম্প্রদায়ের মৃৎশিল্পীদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আধুনিক সময়ের উপযোগী পণ্য তৈরি এবং বাজারজাতকরণের সুযোগ সৃষ্টি করাই এ কর্মশালার অন্যতম উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে স্থানীয় কারুশিল্পীদের দক্ষতা ও আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পকে নতুনভাবে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত থেকে কর্মশালার বাস্তবায়ন করেন,
কর্মশালার বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক ও ইএসডিওর নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ-উজ-জামান । এছাড়া উপদেষ্টা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চন্দনা ঘোষ ও সুজন খান, ইএসডিও।
কর্মশালার প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন আশিকুর রহমান (রিজভী) ও খোকন দাস, ইএসডিও। সহকারী সমন্বয়ক হিসেবে ছিলেন রফিকুল ইসলাম, এনসিসিবি।
রিসোর্স পারসন হিসেবে ছিলেন, ইএসডিও হেড অব ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স আইনুল হক, এনসিসিবি, চন্দ্রশেখর সাহা। সহকারী রিসোর্স পারসন ছিলেন আশরাফুল আলম (শাওন) কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।
দিনব্যাপী কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারী মৃৎশিল্পীদের হাতে তাঁদের অংশগ্রহণ ও কাজের স্বীকৃতি হিসেবে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।
এ সময় আয়োজকরা জানান, কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সকল কারুশিল্পীকে পরবর্তীতে ন্যাশনাল ক্রাফটস কাউন্সিল অব বাংলাদেশ (এনসিসিবি)-এর সদস্য করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
একই সঙ্গে ঢাকায় আয়োজিত বিভিন্ন কারুশিল্প প্রদর্শনীতে তাঁদের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।
কারুশিল্প সংরক্ষণে এনসিসিবি
আয়োজকরা জানান, বাংলাদেশ জাতীয় কারুশিল্প পরিষদ (এনসিসিবি) দীর্ঘ চার দশক ধরে দেশের কারুশিল্প ও কারুশিল্পীদের সংরক্ষণ, পুনর্জীবন ও বিকাশে কাজ করে আসছে। সংগঠনটি দেশীয় কারুশিল্পের প্রসার, দক্ষ কারুশিল্পীদের স্বীকৃতি প্রদান এবং নবীন কারুশিল্পীদের উৎসাহিত করতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে ঠাকুরগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পরিচিতি লাভ করবে।








