কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে চলা রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও ক্ষমতার সমীকরণ বদলে দেওয়ার নতুন এক উদ্যোগ সামনে এসেছে।
দেশটির প্রভাবশালী সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নেপথ্য ইশারায় পাকিস্তানের চারটি প্রদেশকে ভেঙে আরও ছোট প্রদেশে পরিণত করার পরিকল্পনা নিয়ে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। এই পরিবর্তন বাস্তবায়িত হলে পাঞ্জাব ও সিন্ধুর মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে ঐতিহ্যবাহী প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারগুলোর একাধিপত্য ও ক্ষমতা অনেকটাই কমে যেতে পারে।
ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ বা পিটিআইয়ের সমর্থকদের বিক্ষোভ দমনে সরকার কঠোর অবস্থান নিলেও এই রাজনৈতিক কোন্দলের আড়ালেই মূলত মূল কাঠামোগত পরিবর্তনের পরিকল্পনা এগোচ্ছে।
পাঞ্জাবের রাজনীতি দীর্ঘকাল ধরে শরীফ পরিবারের এবং সিন্ধুর রাজনীতি ভুট্টো পরিবারের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, প্রদেশ পুনর্গঠন হলে স্থানীয় রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হতে পারে। তবে বিরোধীদের আশঙ্কা, এর প্রকৃত উদ্দেশ্য কোনো প্রশাসনিক সংস্কার নয়, বরং নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিবারের প্রভাব খর্ব করা। ইতোমধ্যে সিন্ধু বিধানসভা এই প্রদেশ ভাগের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিরোধিতা করে একটি প্রস্তাবও পাস করেছে।
রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি পাকিস্তানের তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ও মুদ্রাস্ফীতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। গত সেপ্টেম্বরে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ দশমিক ৩ শতাংশ। এর বাইরেও গত দুই বছরে সংবিধানের বড় ধরনের পরিবর্তন এবং নতুন ফেডারেল কনস্টিটিউশনাল কোর্ট (এফসিসি) গঠনের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা ও প্রভাব আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে কারাগরে বন্দি থাকা সত্ত্বেও ইমরান খানের অটুট জনপ্রিয়তা এবং তার দলের আন্দোলন সেনাপ্রধানের এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পথে এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: দ্য ইকনোমিস্ট।









