গাড়িতে যেমন দুটি হেডলাইট থাকে, আমাদের নাকের ছিদ্রও দুটি থাকার কারণ অনেকটা একই। একটি বন্ধ হয়ে গেলে, আরেকটি ব্যাকআপ হিসেবে কাজ করে! এখনই পরীক্ষা করে দেখতে পারেন—নাকের একটি ছিদ্র আঙুল দিয়ে বন্ধ করুন, দেখবেন অন্যটি দিয়ে দিব্যি শ্বাস নেওয়া যাচ্ছে। 💀
এখন, নাকের দুটি ছিদ্রের বদলে যদি আমাদের মাঝখানে একটি বড় ছিদ্র থাকতো, তাহলে কী হতো? সর্দি বা অ্যালার্জির মৌসুমে যখন নাক বন্ধ হয়ে যায়, তখন সেই একটিমাত্র বড় ছিদ্র ব্লক হয়ে গেলে আমাদের শ্বাস নেওয়াই প্রায় অসম্ভব হয়ে যেতো!
এটি আমাদের মুখের ভেতরে থাকা ‘রিডানডেন্সি’ বা ব্যাকআপ সিস্টেম।
১.
অধিকাংশ মানুষই জানেন না যে, আমরা একই সাথে নাকের দুই ছিদ্র দিয়ে সমানভাবে শ্বাস নিই না! আমাদের নাক সারাদিন ধরে একটি রুটিন মেনে চলে যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘ন্যাসাল সাইকেল’ বলা হয়।
২.
যেকোনো নির্দিষ্ট সময়ে আমাদের নাকের একটি ছিদ্র দিয়ে প্রায় ৭৫% বাতাস আসা-যাওয়া করে। অন্য ছিদ্রটি তখন বিশ্রামে থাকে এবং শুকিয়ে যাওয়া রোধ করতে নিজেকে আর্দ্র রাখে। প্রতি কয়েক ঘণ্টা পর পর তারা নিজেদের ডিউটি পরিবর্তন করে!
৩.
দুটি ছিদ্র থাকার কারণেই আমরা এত নিখুঁতভাবে গন্ধ পাই। কিছু রাসায়নিক অণুর গন্ধ দ্রুত বাতাসের প্রবাহে ভালো ধরা পড়ে, আবার কিছু গন্ধ ধীর গতির বাতাসে। একটি ছিদ্র দিয়ে দ্রুত এবং আরেকটি দিয়ে ধীরে বাতাস প্রবেশ করার কারণেই আমাদের মস্তিষ্ক সব ধরনের গন্ধ আলাদা করতে পারে।
যদি একটি মাত্র বড় ছিদ্র থাকতো, তবে একটানা অতিরিক্ত বাতাসের চাপে নাক ভেতর থেকে পুরোপুরি শুকিয়ে যেতো। ফলে আমাদের ঘ্রাণশক্তি নষ্ট হতো এবং আমরা সহজেই ফুসফুসের ইনফেকশনে আক্রান্ত হতাম।
মেরুদণ্ডী প্রাণীদের শ্বাসতন্ত্রকে নিখুঁত করতে বিবর্তনের প্রায় ৫০ কোটি বছর সময় লেগেছে।
তাই, সর্দিতে নাক বন্ধ হয়ে গেলে বিরক্ত হবেন না, বরং ভাববেন শরীরের ব্যাকআপ জেনারেটর ঠিকঠাক কাজ করছে! 😊






