সিলেট জেলা প্রতিনিধি, আখলাক হুসাইন: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় বদরুল আলম (৩২) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় তাঁর সঙ্গে থাকা আরও এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। তাঁদের আটকে অভিযান চলছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে উপজেলার গোরাগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত বদরুল আলম উপজেলার হাদারপার গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মাওলানা মরহুম তজম্মুল আলীর ছেলে।
নিহতের বড় ভাই আখলাকুল আম্বিয়া জানান, শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে একটি ফোনকল পেয়ে একজনকে সঙ্গে নিয়ে পার্শ্ববর্তী গোরাগ্রামে যান বদরুল আলম। নিরাপত্তাজনিত কারণে তাঁর সঙ্গে যাওয়া ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গোরাগ্রামে যাওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টা পর, ভোর ৫টার দিকে বদরুলের সঙ্গে থাকা ওই ব্যক্তি ফোন করে জানান, তাঁদের ওপর ১০ থেকে ১৫ জন হামলা করেছেন। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হন।
পরে গোরাগ্রামের বন্দরবাড়ি মসজিদের পাশে সড়কে বদরুল আলম ও তাঁর সঙ্গীকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁদের উদ্ধার করে দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক বদরুল আলমকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর সঙ্গে থাকা আহত ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর অবস্থাও গুরুতর বলে জানা গেছে।
কী কারণে বদরুল আলম ও তাঁর সঙ্গীর ওপর হামলা চালানো হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পূর্বশত্রুতা, ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা অন্য কোনো কারণে এ ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। হামলার পেছনের কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশের তদন্তের অপেক্ষায় রয়েছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক বলেন, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ওই গ্রামের দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের আটকের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আটকের পাশাপাশি হামলার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে আটকের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।







