রাজশাহী প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর তানোর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ভবন আকন্ঠ দূর্নীতিতে নিমজ্জিত ও অনিয়ম-দূর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে বলে গুঞ্জন উঠেছে। উপজেলা জুড়ে এলজিইডি’র তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন প্রকল্পের উন্নয়ন কাজে নানামুখী অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছে সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী। অধিকাংশক্ষেত্রে বছর না পেরুতেই রাস্তার পিচ উঠা শুরু হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গ্রামগঞ্জের রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট ও স্কুলের ভবন নির্মাণ-সংস্কার কাজে এসব অনিয়ম করা হচ্ছে। সিডিউল মোতাবেক কোনো কাজ করা হচ্ছে না। ফলে ভাল মানের কাজ না হওয়ায় কিছুদিন পরপর রাস্তা সংস্কার করতে হচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রকৌশলীর নেপথ্যে মদদে মুল ঠিকাদারের কাছে থেকে কার্যাদেশ কিনে নিয়ে সাব-ঠিকাদারগণ কাজ করায় অনিয়ম-দুর্নীতির মাত্রা বেড়েছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
অসমর্থিত একটি সুত্র জানান, উপজেলা প্রকৌশলী সাইদুর রহমান যোগদানের পর পরেই (এলজিইডি) ভবন চত্ত্বরে গড়ে উঠা টেন পার্সেন্ট সিন্ডিকেট চক্রের কতিপয় সদস্যর মাধ্যমে প্রতিটি উন্নয়ন কাজের বরাদ্দ থেকে দশ পার্সেন্ট টাকা আর্থিক সুবিধা নেওয়া হয় বলেও ঠিকাদারদের মাঝে গুঞ্জন রয়েছে।
সুত্রে জানা গেছে, প্রকৌশলীর অনুগত কতিপয় কর্মকর্তা ও ঠিকদারের নেপথ্যে মদদে এলজিইডি ভবন ঘিরে গড়ে তুলেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট চক্র। ‘টেন পার্সেন্ট’ নামে পরিচিত সিন্ডিকেট চক্র নিয়ন্ত্রণ করছে পুরো এলজিইডি ভবন। স্থানীয় ঠিকাদার সুত্রগুলো বলছে, তানোর এলজিইডি ভবনে এখন স্বাভাবিক নিয়মে কোন কাজ হয় না। কাজে ক্রটি থাক বা নাই থাক কতিপয় কর্মকর্তাকে চাহিদামত
আর্থিক সুবিধা দিতেই হচ্ছে তা না হলে কথিত অভিযোগে ঠিকাদারদের বিল আটকে দেয়াসহ নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। আবার ‘টেন পার্সেন্ট’ সিন্ডিকেট চক্রের সঙ্গে যোগসাজশ করে তাদের অনুগত ঠিকাদারেরা নিম্নমানের কাজ, কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিল উত্তোলন, অর্থ ছাড়ে কমিশন আদায় সবমিলিয়ে এলজিইডি ভবনে এক অরাজকতা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে ঠিকাদারদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।
অসমর্থিত একটি সুত্র জানায়, ‘টেন পার্সেন্ট’ সিন্ডিকেট চক্র এলজিইডি’র প্রায় ৮০ভাগ উন্নয়ন কাজ নিয়ন্ত্রণ করছে। উপজেলায় সড়ক ব্রিজ-কালভ্রাট যাই টেন্ডার দেয়া হোক না কেনো টেন পার্সেন্ট সিন্ডিকেট চক্রের হাতেগোনা ঠিকাদার ব্যতিত সেই টেন্ডারের কার্যাদেশ পাবার অধিকার কারো নাই। এদিকে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প এলাকার বাসিন্দারা জানান, উপজেলার বাধাইড় ইউপির গোয়ালপাড়া প্রায় এক কিলোমিটার ও হরিশপুর প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণে নজিরবিহীন অনিয়ম করা হয়েছে। কলমা ইউপির ধঞ্জয়পুর প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণে অনিয়ম ও ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেই কার্পেটিং করা হয়েছে। সরনজাই ইউপির কাসাঁরদিঘী প্রায় ৮০০ মিটার রাস্তা নির্মাণের একদিন পরেই রাস্তা দেবে গেছে ও পিচ উঠা শুরু হয়েছে। হরিপুর গ্রামে প্রায় ৫০০ মিটার ও
মালবান্ধা-শংকরপুর প্রায় ৫০০ মিটার, বানিয়াল প্রায় ৬০০মিটার নতুন রাস্তা নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে।
মুন্ডুমালা-সাতপুকুরিয়া প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার কাজে সিডিউল মোতাবেক কোনো কাজ হয়নি,যা হয়েছে তা একেবারে নিম্নমাণের। চাঁন্দুড়িয়া ইউপির হাড়দহ প্রায এক কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণেও ভয়াবহ অনিয়মের চিত্র ফুটে উঠেছে।এছাড়াও কামারগাঁ-মালশিরা মাদরাসা মোড় প্রায় ৪ কিলোমিটার ও হাতিনান্দা-চন্দনকৌঠা প্রায় ৪ কিলোমিটার রাস্তার সংস্কার কাজে শুরু হয়েছে সেখানে পুরাতন ইট-খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়াও ডাঙাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চন্দনকৌঠা উচ্চ বিদ্যালয় ইত্যাদি কাজ নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে এলাকাবাসী। তারা আরো বলেন,
সরেজমিন তদন্ত করা হলে এসব অভিযোগের সত্যতা মিলবে। এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী সাইদুর রহমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একেবারে শতভাগ কাজ কোথাও হয় না। তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে একটু উনিশ-বিশ হতে পারে, নজরে আসলে সেটাও ঠিক করে নেয়া হয়, আর অনিয়ম বা দুর্নীতির কোনো সুযোগ নাই। তবে এসব প্রকল্পের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য তিনি জানাতে পারেননি। #
Views: 513
Related