তানোর এলজিইডি ভবন কার্যাদেশ বেচা-কেনার হাট !
রাজশাহী প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর তানোর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ভবন আকন্ঠ দূর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে অনিয়ম-দূর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয়দের অভিযোগ,এলজিইডি প্রকৌশলী ও হিসাব রক্ষকের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যাদেশ বেচাকেনা হচ্ছে। এসব কার্যাদেশ বেচাকেনায় প্রকৌশলী ও হিসাব রক্ষকের পকেট ভারী হচ্ছে।শতকরা ১২ থেকে ১৫ শতাংশ টাকা অগ্রিম দিয়ে কার্যাদেশ কিনে নিচ্ছেন রাজনৈতিক পরিচয়ের একশ্রেণীর প্রভাবশালী ।তারা নামমাত্র কাজ করে বরাদ্দের পুরো টাকা নয়ছয় করছেন।তাদের এসব কাজে সহযোগিতা করছে প্রকৌশলী ও হিসাব রক্ষক বলেও আলোচনা রয়েছে।
দসংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়,স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরেে (এলজিইডি)-কোনো উন্নয়ন প্রকল্প বা কাজের কার্যাদেশ (ওয়ার্ক অর্ডার) কেনাবেচা করা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। সরকারি পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন (পিপিএ-২০০৬) এবং বিধিমালা (পিপিআর-২০০৮) অনুযায়ী, ই-জিপির (ই-জিপি) মাধ্যমে যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লটারিতে বা যোগ্যতার ভিত্তিতে কার্যাদেশ পাবে, কাজ সম্পন্ন করার সম্পূর্ণ দায়বদ্ধতা কেবল তাদেরই। কিন্ত্ত তানোরে ঠিকাদারি ব্যবসায় কিছু অসাধু চক্রের মাধ্যমে এই অনৈতিক লেনদেন বা (কার্যাদেশ কেনাবেচার হাট) তৈরি হয়। মূল লাইসেন্সধারীকে একটি নির্দিষ্ট পার্সেন্টেজ বা কমিশন দিয়ে কার্যাদেশ কেনা হয়।কোনো ঠিকাদার ই-জিপিতে কাজ পাওয়ার পর সেই কাজের মোট মূল্যের একটি নির্দিষ্ট পার্সেন্টেজ (১০ থেকে ১৫ শতাংশ) লাভ রেখে পুরো কাজ অন্য কোনো সাব-ঠিকাদারের কাছে বিক্রি বা হস্তান্তর করে দেয়। অভিযোগ উঠেছে,একশ্রেণির হঠাৎ উড়ো ঠিকাদার (কাগজ সর্বস্ব) কিছু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান শুধুই রাজনৈতিক প্রভাব বা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে টেন্ডার ধরে। তাদের মাঠপর্যায়ে কাজ করার কোনো সদিচ্ছা বা অভিজ্ঞতা থাকে না। তারা কার্যাদেশ পাওয়া মাত্রই তা চড়া দামে প্রকৃত কাজের লোকেদের কাছে বিক্রি করে দেয়। সৎ এবং যোগ্য ঠিকাদাররা এই সিন্ডিকেটের কারণে কাজ পান না, যা পুরো সরকারি নির্মাণ খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অন্যদিকে কার্যাদেশ কয়েক হাত বদল হওয়ার কারণে মূল বাজেট থেকে একটি বড় অংশ মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে চলে যায়। ফলে মাঠপর্যায়ে যিনি মূল কাজটি করেন, তিনি কম বাজেটের কারণে অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী (যেমন বালু, নিম্নমানের ইট ও কম রড) ব্যবহার করেন। বারবার হাতবদল এবং আর্থিক সংকটের কারণে রাস্তাঘাট, ব্রিজ বা কালভার্ট নির্মাণ নির্ধারিত সময়ে শেষ হয় না, যা জনগণের দুর্ভোগ বাড়ায়।আবার যেগুলো হয় তার মান হয় নিম্নমাণের।
স্থানীয়রা এলজিইডির বাস্তবায়ন ও বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলো সরেজমিন তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ এবং
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদুক) জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। উপজেলা প্রকৌশলী নুর নাহার যোগদানের পর যেসব উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে ও বাস্তবায়নাধীন রয়েছে সে কাজগুলো সরেজমিন তদন্ত করা হলে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হবে বলেও একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।
অন্যদিকে উপজেলায় বাস্তবায়িত বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে নানামুখী অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ করেছে সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী। গ্রামগঞ্জের রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট ও স্কুলের ভবন নির্মাণ-সংস্কার কাজে এসব অনিয়ম হচ্ছে। ফলে ভাল মানের কাজ না হওয়ায় কিছুদিন পরপর সংস্কার করতে হচ্ছে। উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) ভবন চত্ত্বরে গড়ে উঠা টেন পার্সেন্ট সিন্ডিকেট চক্রের মাধ্যমে প্রতিটি উন্নয়ন কাজের বরাদ্দ থেকে দশ পার্সেন্ট টাকা আর্থিক সুবিধা নেওয়া হয় বলেও ঠিকাদারদের মাঝে আলোচনা রয়েছে।রাজশাহী শহরের কতিপয় ঠিকাদারের মদদে এলজিইডি ভবন ঘিরে গড়ে তুলেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট চক্র। ‘টেন পার্সেন্ট’ নামে পরিচিত সিন্ডিকেট চক্র নিয়ন্ত্রণ করছে পুরো এলজিইডি ভবন বলে আলোচনা রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঠিকাদার বলেন, তানোর এলজিইডি ভবনে এখন স্বাভাবিক নিয়মে কোন কাজ হয় না। কাজে ক্রটি থাক বা নাই থাক কতিপয় কর্মকর্তাকে চাহিদামত আর্থিক সুবিধা দিতেই হচ্ছে তা না হলে কথিত অভিযোগে ঠিকাদারদের বিল আটকে দেয়াসহ নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। আবার ‘টেন পার্সেন্ট’ সিন্ডিকেট চক্রের সঙ্গে যোগসাজশ করে তাদের অনুগত ঠিকাদারেরা নিম্নমানের কাজ, কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিল উত্তোলন, অর্থ ছাড়ে কমিশন আদায় সবমিলিয়ে এলজিইডি ভবনে এক অরাজকতা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে।
অসমর্থিত সুত্র জানায়, ‘টেন পার্সেন্ট’ সিন্ডিকেট চক্র এলজিইডি’র প্রায় ৮০ভাগ উন্নয়ন কাজ নিয়ন্ত্রণ করছে। উপজেলায় সড়ক ব্রিজ-কালভ্রাট যাই টেন্ডার দেয়া হোক না কেনো টেন পার্সেন্ট সিন্ডিকেট চক্র ব্যতিত কাজ করার কোনো সুযোগ নাই।সিন্ডিকেট চক্রের কাছে কাজের কার্যাদেশ বিক্রি করতে সাধারণ ঠিকাদারদের বাধ্য করা হচ্ছে।যার নেপথ্যে রয়েছে প্রকৌশলী নুর নাহার ও হিসাব রক্ষক মোর্তুজা।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এসও বলেন এসবের নেপথ্যের কারিগর হলেন মোর্তুজা সাহেব।
এদিকে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প এলাকার বাসিন্দারা জানান, উপজেলার কলমা ইউপির শংকরপুর-দরগাডাঙা,মালবান্ধ-রামনাথপুর, বাধাইড় ইউপির গাল্লা-শাহাপুর, তালন্দ ইউপির মোহর-কৃষ্ণপুর ও মোহর-আকচাসহ বিভিন্ন রাস্তার উন্নয়ন কাজে ব্যবহৃত মালামালের মান ও পরিমাণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলে অভিযোগের সত্যতা মিলবে।এসব রাস্তা সংস্কার কাজে সিডিউল মোতাবেক কোনো কাজ হচ্ছে না,যা হয়েছে তা একেবারে নিম্নমাণের। এছাড়াও রাজশাহী শহর থেকে অফিস করেন প্রকৌশলী যাতায়াত করেন সরকারি গাড়িতে, এতে অধিকাংশ সময় অফিস সময়ে অফিস আসতে পারেন না।আর হিসাব রক্ষক চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থেকে অফিস করেন।যাতায়াত করেন মোটরসাইকেলে এতে তিনিও অফিস সময় মানতে পারেন না।এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী নুর নাহার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একেবারে শতভাগ কাজ কোথাও হয় না। তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে একটু উনিশ-বিশ হতে পারে, নজরে আসলে সেটাও ঠিক করে নেয়া হয়, আর অনিয়ম বা দুর্নীতির কোনো সুযোগ নাই। তবে কার্যাদেশ বেচাকেনা এটা ঠিকাদারের বিষয়।কিন্ত্ত এসব প্রকল্পের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য তিনি জানাতে পারেননি।
এবিষয়ে হিসাব রক্ষক গোলাম মোর্তুজা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,তিনি তানোরে সবার আগে অফিসে আসেন।কার্যাদেশ বেচাকেনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নাই।
বদলগাছীতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে র্যালী ও আলোচনা সভা
বদলগাছীতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে র্যালী ও আলোচনা সভা আব্দুল কাদের, বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ নওগাঁর বদলগাছীতে আড়ম্বরপূর্ণ ভাবে...








