নরসিংদীতে আমেনা আক্তারের উপর যে পাশবিক নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা শুধু একটি হত্যার ঘটনা নয়—এটা আমাদের রাষ্ট্রব্যবস্থা, আমাদের সমাজব্যবস্থা, আমাদের বিবেকের চরম ব্যর্থতা।
একজন মেয়ে প্রথমে ধর্ষণের শিকার। তারপর সাহস করে বিচার চেয়েছে। আর সেই বিচার চাওয়াই তার জন্য মৃত্যুদণ্ড হয়ে গেল! বাবার কাছ থেকে তুলে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো! আমরা কোন দেশে বাস করছি?
প্রশাসন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে—এটা দায়িত্বের প্রথম ধাপ মাত্র। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—এরপর কী? আমরা কি আবার বছরের পর বছর মামলা ঝুলতে দেখবো? নাকি প্রভাবশালীদের চাপে বিচার ভেস্তে যাবে?
অনেকে বলছেন—শাস্তির নিয়ম পরিবর্তন করে জনসম্মুখে ক্রসফায়ার করা হোক। মানুষের এই ক্ষোভের কারণ আছে। যখন বিচার দেরি হয়, যখন অপরাধীরা পার পেয়ে যায়, তখনই জনমনে এমন দাবি জন্ম নেয়। কিন্তু রাষ্ট্র যদি আইনের পথ ছেড়ে প্রতিশোধের পথে হাঁটে, তাহলে আইন ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিই ভেঙে পড়বে।
আমরা প্রতিশোধের রাষ্ট্র চাই না। আমরা চাই ভয়ের রাষ্ট্র—অপরাধীদের জন্য।
আমরা চাই দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল, নিরপেক্ষ তদন্ত, এবং সর্বোচ্চ আইনানুগ শাস্তি।
আমরা চাই এমন দৃষ্টান্ত, যাতে ভবিষ্যতে কেউ ধর্ষণের সাহস না পায়, বিচার চাওয়া কোনো মেয়ের জীবন কেড়ে নেওয়ার দুঃসাহস না করে।
আর কত আমেনা হারালে আমাদের ঘুম ভাঙবে?
আর কত লাশ দেখলে আমাদের আইন সত্যিকারের কঠোর হবে?
নীরবতা মানেই সহায়তা।
আজ প্রতিবাদ করুন।
ন্যায়বিচারের দাবিতে সোচ্চার হোন।
Views: 220
Related