এম আনোয়ার হোসেন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম)
ভবনের অধিকাংশ স্থানের দেয়াল ও ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা, বেরিয়ে এসেছে জং ধরা ক্ষয়ে যাওয়া রড়। দেখা দিয়েছে ভবনের দেয়ালের বিভিন্ন অংশে ছোট বড় ফাটল। বৃষ্টি হলে ছাদ ছুঁেয় ছুঁেয় পানি পড়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভেতরে, স্যাঁতসেঁতে হয়ে যায় ছাদ, দেয়াল ও নিচের ফ্লোর। ভেঙ্গে পড়েছে দরজা ও জানালাগুলো। একতলা ছাদ বিশিষ্ট এই ভবনে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলছে চিকিৎসাসেবা। আর চিকিৎসকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়েই রোগীদেও কাঙ্খিত সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলা পঞ্চাশ বছরের পুরনো চিনকি আস্তানা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের এমন দশা। প্রতিনিয়তই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্মরত চিকিৎসক এবং সেবা নিতে আসা রোগীরা। ১৯৭৪ সালের দিকে নির্মিত এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেকোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
জানা যায়, চিনকি আস্তানা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি উপজেলার ২ নম্বর হিঙ্গুলী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জামালপুর গ্রামে অবস্থিত। এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবনটি সংস্কারের অভাবে এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ সময় সংস্কারের অভাবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি যেন পরিত্যক্ত ভবনে পরিণত হয়েছে। এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বর্তমানে ৫ টি পদের মধ্যে ২ জন কর্মরত রয়েছেন। এদের মধ্যে একজন মেডিকেল অফিসার, একজন উপ-সহকারি মেডিকেল অফিসার। শূন্য রয়েছে ফার্মাসিস্ট, এমএলএসএস ও আয়ার পদ। এমএলএসএস ও আয়ার পদ শূন্য থাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজও করতে হয় কর্মরত চিকিৎসকদের। প্রতিদিন এখানে আশপাশের অর্ধশতাধিক মানুষ সেবা নিতে আসেন। অতি দ্রুত ভবনটি সংস্কারের দাবি রোগী ও চিকিৎসকদের।
সেবা নিতে আসা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরিজীবি এখলাছ উদ্দিন বলেন, ‘এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রেটি অত্যান্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এখানে প্রতিনিয়ত অনেক রোগী আসে সেবা নেওয়ার জন্য। এখানকার পরিবেশ এতোটাই নাজুক যে এখানে চিকিৎসা নেওয়াও আতঙ্কের। সবসময় চিন্তায় থাকতে হয় কখন এটি ভেঙ্গে পড়ে। আমি এটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।’
নিয়মিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসা মিজানুর রহমান বলেন, ‘দরিদ্র মানুষের চিকিৎসার ভরসাস্থল এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র। চিকিৎসকরা স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া ও রোগীরা স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার মতো পরিবেশ নেই এখানে। সবাইকে আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। তাই সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের এই বিষয়ে জরুরিভিত্তিতে উদ্যোগ নেওয়া দরকার।’
সেবা নিতে আসা জুতা কারখানার শ্রমিক বিধান দাশ বলেন, ‘এখানে ওষুধ নেওয়ার জন্য প্রায়ই আসি। ভবনটা খুবই নড়বড়ে হয়ে গেছে। কখন যে ভেঙ্গে পড়ে ভয়ে থাকতে হয়। ভবনের এই অবস্থার জন্য ঔষধ নেওয়ার জন্য আসতে মন চায় না। দ্রুত এটি সংস্কার করা না করা হলে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছি।’
নুরুল আলম নামে এক রোগী বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি নতুনভাবে নির্মিত হলে রোগী আরো বাড়বে। বর্তমান যে অবস্থা যেকোন মুহুর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিদিন এখানে অসংখ্য রোগী চিকিৎসাসেবা নেয়।’
আবু সুফিয়ান নামে আরেক রোগী বলেন, ‘এখানকার স্বাস্থ্যসেবা প্রদান নিয়ে আমাদের কোন অভিযোগ নেই। আমিও মাঝে মাঝে আসি, ডাক্তাররাও ভালো, ঠিকমতো ঔষধও দেয়। এখানে সেবা নিতে আসা বেশিরভাগ রোগী সাধারন পরিবারের। তাদের কথা চিন্তা করে হলেও স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি দ্রুত সংস্কার করা হোক।’
চিনকি আস্তানা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের উপ-সহকারি মেডিকল অফিসার রীনা ঘোষ বলেন, ‘আমি এখানে ১০ বছর যাবত চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছি। এখানে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়ে থাকে। এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবনটি ৫০ বছরের পুরনো। ভবনটির অবস্থা খুবই নড়বড়ে। আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। ইদানিং পলেস্তারা খসে খসে পড়তেছে, দরজা-জানালাগুলো সব ভেঙ্গে পড়েছে। সেবা দিতে গিয়ে আমাদের জীবনটাই হুমকির মুখোমুখি হচ্ছে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মান করলে জনগনও উপকৃত হবে আমরাও উপকৃত হবো। ভবনের দুরাবস্থার পাশাপাশি এখানে লোকবলেরও সংকট রয়েছে।’
মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিন বলেন, ‘এফডিএমএনের আওতায় চিনকি আস্তানা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র নতুনভাবে ভবন নির্মাণ করা হবে। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে এটি পাশ হয়েছে। আমরা চলতি অর্থবছরে এটি হয়ে যাওয়ার আশ^াস পেয়েছি।’
জমি না দিয়েই মহাসড়কের অধিগ্রহণের টাকা উত্তোলনের অভিযোগ
বায়েজিদ পলাশবাড়ী গাইবান্ধা) : পলাশবাড়ীতে মুনছুর আলীর বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ, ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণ না হলেও প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে মুনছুর আলী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষতিগ্রস্ত জমির অংশীদাররা। অভিযোগ রয়েছে, পলাশবাড়ী পৌর শহরের নুনিয়াগাড়ী মৌজার সাবেক ৭৯/৮০ নম্বর দাগ এবং বর্তমান ৮৩১ নম্বর দাগের ০.০৯৪৮ একর জমির বিপরীতে ৫ কোটি ৫৬ লাখ ৪৩২ টাকা অধিগ্রহণের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, ওই পরিমাণ জমি বাস্তবে মহাসড়কের জন্য অধিগ্রহণ বা হস্তান্তর করা হয়নি। ভুক্তভোগী রেখা বেগমসহ অন্যান্য অংশীদারদের অভিযোগ, সাসেক প্রকল্প-২ সংশ্লিষ্টদের আপত্তি, অন্যান্য অংশীদারদের আপত্তি এবং এলএমসি কেস নং ২৭০/২০২৩-২০২৪ ও এলএ কেস নং ১১/২০১৯-২০২০-এর বিষয়গুলো নিষ্পত্তি না করেই মুনছুর আলীর নামে অধিগ্রহণের অর্থের চেক হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের দাবি, বিষয়টি যথাযথভাবে সরেজমিন যাচাই না করে কাগজপত্রের ভিত্তিতে অর্থ ছাড় করা হয়েছে। দলিলের হিসাবেও উঠছে প্রশ্ন অভিযোগকারীদের দেওয়া কাগজপত্রের তথ্য অনুযায়ী, নুনিয়াগাড়ী মৌজার এসএ খতিয়ান-১৬, আরএস খতিয়ান-২৫ এবং জেএল নম্বর-৬৯-এর সাবেক ৭৯/৮০ নম্বর দাগে মুনছুর আলীর বাবা মৃত মোফাজ্জল হোসেন ১৯৫৩ সালের ২১ জানুয়ারি ৪২৫ নম্বর দলিলের মাধ্যমে মোট ১২৭ শতাংশ জমির মালিকানা লাভ করেন। পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালের ১৯ নভেম্বর ০১/৬৯ নম্বর কেসের মাধ্যমে সড়ক বিভাগের কাছে ৩২ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করা হয় বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে এতে মোফাজ্জল হোসেনের নামে অবশিষ্ট থাকার কথা ৯৫ শতাংশ জমি। এরপর ২০০২ সালে বিভিন্ন দলিলের মাধ্যমে ওই জমির একটি অংশ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে হস্তান্তর করা হয় ২১৬৯ নম্বর দলিলে ছেলে আল মামুনকে ৩৯ শতাংশ, ২১৭০ নম্বর দলিলে স্ত্রী হালিমা বেগমকে ৩ শতাংশ এবং ২১৯৪ নম্বর দলিলে দুই মেয়ে রোকেয়া বেগম ও শাহিনা পারভীনকে পৃথকভাবে ৫ শতাংশ করে মোট ১০ শতাংশ জমি দেওয়া হয়।...






