”আমি যখন বিদেশে আসি… মূলতঃ আমরা গিলগিট-বালতিস্তানের বাসিন্দা, তাই চেহারা দেখে কেউ চিনতে পারে না যে আমরা পাকিস্তানি কি না, আমাদের বিদেশি মনে করে। কিন্তু যেমনই আমরা পাসপোর্ট হাতে তুলে দিই, আমাদের সবুজ পাসপোর্ট দেখা মাত্রই তাদের মুখের অভিব্যক্তি বদলে যায়। তারা আমাদের এতটা ঘৃণা করে!
অন্যান্য দেশের কথা বাদই দিন, যে ইসলামিক দেশগুলো রয়েছে, তারাও আমাদের ঘৃণা করে। আমরা কোনো দেশের ভিসা সহজে পাই না।
এমনকি হিসাব করে দেখুন, ভারতের মানুষ কত দেশে ভিসা ছাড়াই যেতে পারে! আপনারা কতগুলো দেশে ভিসা ছাড়া যেতে পারেন, বলতে পারবেন? নিজেদের দেশে বসে হালাল-হারাম বিবেচনা ছাড়া উপার্জন করে, নিম্নবিত্তদের নিচু চোখে দেখে, নিজেদের গুন্ডা মনে করে আর নিজেদের ফালতু স্বভাব নিয়ে আনন্দ পান আপনারা।
আপনাদের এই গুন্ডাগিরি আর ভাব ধরাকে তখনই মানবো, যখন দেশের বাইরে এসে এখানকার মানুষের সাথেও একই গুন্ডামি বা ভাব দেখাতে পারবেন। তাদের উপর টেক্কা দিয়ে দেখাতে পারলে বুঝবো আপনাদের কত দৌড়!
আমাদের মুদ্রার অবস্থা দেখুন, পাসপোর্টের র্যাঙ্কিং দেখুন—দেশের তো বারোটা বেজে গেছে! তাও আপনারা এই ফালতু সরকারকে সমর্থন করছেন, যারা কেবল নিজেদের পকেট ভরছে, সাধারণ মানুষের কথা ভাবেই না। বিদেশে আসার আগে এয়ারপোর্টে হাজার বার ভাবতে হয় যে ইমিগ্রেশনের লোকজন আমাদের সাথে কেমন ব্যবহার করবে।
আমি সম্প্রতি শ্রীলঙ্কা গিয়েছিলাম। সেখানে কেবল পাকিস্তানি পাসপোর্ট দেখার সাথে সাথেই আমাদের একপাশে সরিয়ে দেওয়া হলো এবং আলাদা করে প্রশ্ন করা হলো। ফেরার সময়ও একই অবস্থা, বয়স্কদের জ্যাকেট-মোজা পর্যন্ত খুলিয়ে চেকিং করা হয়েছে, কারণ আমাদের পাসপোর্ট পাকিস্তানি। এমন রুঢ় ব্যবহার করা হয়েছিল যে আমার মা প্রতিবাদও করেছিলেন।
নিজেদের কি ভাবেন আপনারা? বাইরের দেশের মানুষ আমাদের জুতার সমানও গণ্য করে না, আর আপনারা এই সস্তা সরকারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ! লজ্জা থাকলে নেপালের তরুণ প্রজন্মের থেকে শিখুন, কীভাবে তারা আন্দোলন করে পুরো দেশ আর সরকারকে বদলে দিল। আর আমাদের যুবসমাজ কী করছে? নেশা, পার্টি, আর ফালতু গল্প!
কমফোর্ট জোন থেকে বেরিয়ে অন্য দেশে গিয়ে কিছু করে দেখান, তখন বুঝবেন আপনাদের আসল যোগ্যতা কতটুকু। আমার ভিডিওতে এসে বাজে মন্তব্য করলে আমার কিচ্ছু যায়-আসে না। কিছু ছেলে আছে যাদের কাজই হলো মেয়েদের ইনবক্সে যেয়ে জ্বালাতন করা।
আগে নিজে কিছু লেখাপড়া করুন, দেশ থেকে বের হয়ে দুনিয়া দেখুন, দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টান।
-শিবাজী বাসু









