পুরুষ হয়ে জন্ম নিয়ে আপনার যেমন নারীদের সাথে সেক্স করতে ইচ্ছে করে,একই ইচ্ছে নারীদেরও ক্ষেত্রে হতে পারে। পুরুষ বিয়ের আগে সেক্স করলে ঠিক আছে, আর নারীর বেলায় সব বেঠিক! পুরুষের নিজের কুমারিত্বের ঠিক নাই, কিন্তু বিয়ের ক্ষেত্রে তাদের ঠিক কুমারী মেয়েই চাই। পুরুষের নিজের ভার্জিনিটি ঠিক নাই, কিন্তু তার ভার্জিন মেয়েই চাই। পুরুষ মানুষের নিজের চরিত্র ঠিক না থাকলেও তার চরিত্রবান নারী চাই। আধুনিক সমাজে পুরুষত্বের এসব ট্যাবু ভাঙতেই হবে।
ট্যাবু শব্দটি এসেছে টোঙ্গান টাপু ফিজিও টাপু থেকে, যার অর্থ হচ্ছে নিষিদ্ধ।১৭৭৭ সালে এক্সপ্লোরার জেমস কুক টোঙ্গা পরিদর্শন করেছিলেন এবং ট্যাবুর টোঙ্গান ব্যবহার নিষিদ্ধ ছিলো। সিগমুন্ড ফ্রয়েড এই সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন, ” একটা সময় সমাজে অজাচার ও পিতৃহত্যা দুটোই নিষিদ্ধ ছিল।’ এতকিছুর পরও মানুষ নরমাংশ ভক্ষণ করেছে, রোমান ও মিশর সমাজে ভাই ও বোনের বিয়ে হয়েছে। ধীরে ধীরে মানুষ পারিবারিক সম্পর্কের গুরুত্ব দিয়ে ভাই বোনের বিবাহ সমাজে নিষিদ্ধ হয়েছে।
বাংলাদেশের নারীরা প্রয়োজনের তাগিদে কর্ম করলে তাদের একশ্রেণীর পুরুষ বেশ্যা বলতো। একজন নারী একজন পুরুষের সাথে দাঁড়িয়ে কথা বললেও একশ্রেণীর মানুষ যৌনউত্তেজক হয়ে যৌনপশু হয়ে যেতো। নারীদের চরিত্রকে কলঙ্কিত করার জন্য এইভাবে যুগে যুগে বিভিন্ন মিথ্যা গল্পের অবতারণা করা হয়েছে। বেগম রোকেয়া নারী জাগরণের জন্য সংগ্রাম করেছিলেন বলে একটা নষ্ট প্রজন্ম তার ছবিতে কালি দিয়ে “মাগী” লিখেছে।এসব নারীদের প্রতি পুরুষের হিংসা ও বিদ্বেষ ছাড়া আর কি হতে পারে ?
যেই বয়সে পুরুষ একজন কিশোর, সেই বয়সেই একজন নারী ১১ থেকে ১৩ বছরেই যৌনতা প্রাপ্ত হয়।২০-৩০ বছরের মধ্যে নারীদের যৌন আকাঙ্ক্ষা বেশি থাকে। কিশোর বয়সে যৌন উন্মাদনায় পুরুষ যেই ভুল করে একই ভুল নারীদের ক্ষেত্রেও হওয়া স্বাভাবিক।আমার নিজের ছোট জীবনে আমি কিশোরী নর নারীদের সেক্স করতে দেখেছি।যৌনতা মানব শরীরের একটি স্বাভাবিক বিষয়। একজন পুরুষ ও নারী বৃদ্ধ বয়সেও যৌন তাড়িত হতে পারে।এসব দোষের কিছু নয়। দোষ হয় তখন, যখন আপনি কারো ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে যৌন সম্পর্কে বাধ্য করেন।
ভার্জিনিটি শুধু মেয়েদের নয় , ছেলেদেরও আছে। একজন ভার্জিন ছেলে একজন কুমারী মেয়ের সাথে সেক্স করতে লজ্জা পাবে। মেয়েদের সেক্সুয়াল উত্তেজিত না করে সে তার লিঙ্গ ও জেন্ডার নিয়ে বেশী ভাববে।তার খুব দ্রুত বীর্যপাত হতে পারে ।এমনকি শারীরিক সম্পর্ক শুরুর আগে সে মেয়েটির থেকে অনুমতি নিবে। অন্যদিকে যেসব পুরুষের শারীরিক সঙ্গম করার অভিজ্ঞতা আগে থেকেই আছে তাদের বেশীরভাগের ক্ষেত্রেই এমনটা হয় না।সেক্সের মত নারীও তাই তাদের কাছে খেলনা ছাড়া আর কিছুই নয়।
একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও পুরুষের যৌনমিলন কোন অপরাধ নয়।যৌনতাকে অপরাধ বানিয়ে একদল ধর্ষক পুরুষ ফায়দা হাসিল করতে চায়। মানুষের শরীর ও মনের তীব্র উত্তেজনা যেকোনো মুহূর্তে যৌনমিলনে পরিণত হতে পারে।এসবে আমি কোন অপরাধ দেখি না।
ফরাসি চিত্রশিল্পী উইলিয়াম এডলফ তার অনন্য সৃষ্টি ” ইয়ুথ” চিত্রকর্মে নারীদের সাদা রঙকে বিশুদ্ধতা, নির্দোষতা ও কুমারীত্বের প্রতীক হিসেবে দেখিয়েছেন।ধর্মে নারীদের কুমারীত্ব ও পর্দার কথা বলা হয়েছে। পুরুষের ভার্জিনিটি নিয়ে কেন কোন চিত্রকর্ম তৈরি হয় না? আপনি হয়তো বলতে পারেন দই আর দুধ এক বিষয় নয়।
কিন্তু মানুষ দই আর দুধ নয়। নারী ও পুরুষ দু’জনের মস্তিষ্ক আছে। তারা উভয়েই নিজেদের মতো চিন্তা করার ক্ষমতা রাখে। এজন্য মানুষ অন্য সব থেকে আলদা সত্ত্বা। নারীরা কোন চেয়ার , টেবিল অথবা জড় পদার্থ নয়।
নারীদেরও আবেগ অনুভূতি জাগে। মধ্যযুগ থেকে নারীর কুমারীত্ব নিয়ে পুরুষকে বেশ চিন্তিত থাকতে দেখা গিয়েছে। এজন্য নারীদের নিয়ে পুরুষ সমাজ অসংখ্য মিথ্যা গল্পের ফাঁদ তৈরি করেছে। পুরুষ নিজের স্বার্থের জন্য ৪ টা বিয়ে পর্যন্ত যায়েয করেছে।অথচ একই ইচ্ছে পৃথিবীর কোন নারী পোষণ করলে তাকে প্রোস্টিটিউট উপাধি পর্যন্ত দেয়া হচ্ছে।অথচ শত শত নারীর সাথে গোপন সেক্স করার পরও পুরুষ হয়ে যাচ্ছে সমাজে দরবেশ ও ফেরেশতা! তাদের কেউ পতিতা/ মাগী এসব বলে গাল দিচ্ছে না।
একজন পুরুষ যদি কুমারী নারী আশা করে তবে একজন নারীও তার জীবনে ভার্জিন পুরুষ আশা করতে পারে। বর্তমান সমাজে বিয়ের আগে কয়জন পুরুষ এখনও ভার্জিন, এই পরীক্ষা করলে দেখবেন ৯৯ শতাংশ পুরুষ বিয়ের আগে ভার্জিনিটি খুইয়ে নারীর কাছে দরবেশ ও ফেরেশতা সেজে তার ভার্জিনিটি টেস্ট করছে। নারীদের জন্য এসব বেশ বিরক্তিকর ও অস্বস্তিদায়ক।যুগে যুগে এভাবে পুরুষ নারীদের সাথে প্রতারণা করেছে।একই প্রতারণা নারীরা করলে তার চরিত্রে দোষ আছে! বলি চরিত্রের এই সংজ্ঞা কে নির্ধারণ করেছে?
২০০১ সালে ঢাকা নিউমার্কেটে ” গোল্ডেন বার” নামে একটি মদের দোকান ছিলো। বন্ধুদের সাথে একদিন সেখানে মদ খেতে গেলাম। চমৎকার পরিবেশে আমাদের সামনের সিটে এক নারীকেও প্যান্ট শার্ট পরা অবস্থায় মদ খেতে দেখলাম। আমার বন্ধুদের তখন ওখানেই প্যান্ট ভিজে গেছে। একজন নারী বারে গিয়ে মদ খাবে এটা তারা কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না।
নারীরা চা খেতে পারবে , ভাত খেতে পারবে , যৌনমিলন করতে পারবে, কিন্তু মদ খেলেই চরিত্রহীন হয়ে যাবে! ইদানিং তো একজন নারী বোরকা ছাড়া শাড়ি চুড়ি পরে রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলেও তাকে চরিত্রহীন আখ্যা দেয়া হচ্ছে। অথচ আমাদের মায়েরা চাচীরা ব্লাউজ ছাড়া শুধু শাড়িতেও গৃহস্থালির সকল কাজকর্ম করছে। মূলত একদল অসভ্য পুরুষদের চোখ ও মগজের সমস্যা। এরাই নারীদের সাথে পরকীয়া করবে , নারীদের পতিতালয়ে বিক্রি করবে , এক বউ থাকতে আরেক বউ ঘরে নিয়ে এসে দরবেশ ও ফেরেশতা সাজবে। নারীদের কেন পুরুষের সব অসভ্যতা অপকর্ম মুখবুজে সহ্য করতে হবে?
👉 পৃথিবীতে মানুষ হয়ে জন্ম পুরুষ নিজেকে মানুষ বলে দাবি করতে পারলে নারীরা কি মানুষ নয়?
👉 পুরুষের ইচ্ছা ও অনিচ্ছা থাকতে পারলে একই ইচ্ছা ও অনিচ্ছা কি নারীর থাকতে পারে না?
👉 পুরুষের কর্মের স্বাধীনতা থাকলে মানুষ হয়ে জন্ম নিয়ে সেই একই স্বাধীনতা নারীর কেন থাকবে না?
👉 পুরুষের যৌনতার অবাধ স্বাধীনতা থাকলে পৃথিবীতে মানুষ হয়ে জন্ম নিয়ে নারী কেন বঞ্চিত হবে?
👉 পুরুষের শরীরে যৌন উত্তেজনা হয় । কিন্তু একই উত্তেজনা নারীদের শরীরে হলেই তারা চরিত্রহীন ?
👉 পৃথিবীতে পুরুষের পোশাকের স্বাধীনতা থাকলে নারীর কেন সেই স্বাধীনতা থাকতে পারবে না ?
ক্যাকটাস – একটি বিদ্যালয়।
সত্য সবসময় সুন্দর
লুসিড ড্রিম








