প্রভাবশালী জামাত নেতার স্ত্রী যিনি সোশাল মিডিয়াতে উগ্র ভারত বিরোধী প্রচার করেন গতকাল তিনি ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সামনে তাকে দ্রুত মেডিক্যাল ভিসা দেয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন। ভিসা প্রসেসিং যেন আরো দ্রুত হয় এই রকম আর্জিও করেছেন।
ভদ্রমহিলা জামাত নেতার স্ত্রী এটিকে হাইলাইট করার আসলে কিছু নেই। এই চরিত্র বাংলাদেশের সকল শ্রেণী পেশার মানুষেরই। ক্রিকেট বিশ্বকাপের সময় দেখেছিলাম সুবর্ণা মুস্তফার মত অভিনেত্রী তীব্র ভারত বিরোধীতার অংশ হিসেবে মন্তব্য করেছিলেন, ভারতে চিকিত্সা কি আমরা বিনি পয়সায় নেই নাকি? টাকা দিয়েই নেই।
তাই জামাত ট্যাগ এক্ষেত্রে বড় কিছু নয়। ভারত বিরোধীতা বা ভারতকে নিয়ে হীনমন্যতায় ভোগা, বা ভারতকে আগ্রাসী বলে বিশ্বাস করা সবটাই হিন্দু বিদ্বেষ থেকে। এটা দ্বিজাতিতত্ত্ব থেকে আসা মোটা দাগে। কিন্তু এর শেকড় অনেক দূরে। মুহাম্মদ বিন কাশিম হচ্ছে এই শেকড়ের বীজ।
টাকা দিয়েই যখন চিকিত্সা নিবেন, টাকা দিয়ে যখন ভ্রমণ করবেন, শপিং করবেন তাহলে ভারতে কেন? দেড় হাজার মাইল দূরে একটা মুসলিম মিসকিন ভাই বসে আছে, যারা ভিক্ষুক রপ্তানি করে- সেই পাকিস্তানে যান! ভাইদের অর্থনীতিতে অবদান রাখুন! ভারতে যদি আমরা না যাই তাহলে ভারতের ব্যবসায়ীরা যদি না খেয়ে থাকবে, ভারতের ডাক্তাররা বেকার হয়ে যাবে- তাহলে সেটাই তো করার কথা তাই না? সেভেন সিস্টার দখল করার আগে ওদের ভাতে মারাই কি শ্রেয় নয়?
সমাজবিজ্ঞানীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। একইসঙ্গে সাইকোলজিস্টদের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। গতকাল ২৮ জুন ভারত টুরিস্ট ভিসা চালুর ঘোষণার পর বাংলাদেশে স্বস্তি উচ্ছ্বাসের বান দেখেছি। তারা ভারতে যাবে। এমন শত শত পোস্ট। কিন্তু তারাই বলে মোদির ভারতে মুসলিমদের জীবন বিপন্ন। মুসলিম নাম দেখে দেখে তারা হয়রানী করে। মুসলমান দেখলেই তারা সন্ত্রাসীর চোখে দেখে। মুসলমানদের গরুর মাংস খাওয়া দেখলে পিটিয়ে মারে। কালকেই একটা গ্রুপে দেখেছি দুই মুমিন আলাপ করছে ভারতে গিয়ে সস্তায় গরুর মাংস তিনবেলা টানা পনেরো দিন খেয়েছিল। আবার সেই সুযোগ আসছে!
মুসলমানদের জন্য এহেন নরকে যাবার সুযোগ খুলে যাবার খবরে মুসলমানদেরই এই উচ্ছ্বাস ফূর্তির কি মানে? বিশেষজ্ঞরা কি একটু জানাবেন? কারণ এরাই দাবী করে বাংলাদেশীরা না গেলে দাদারা না খেয়ে মরবে তাই ভিসা চালু করেছে। এরাই আবার ভিসা চালু হবার পর খালি আলহামদুল্লিাহ পড়ছে! এরা এক বেলা না খেয়ে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে বোমা বানাতে চায় আবার ভারত ভিসা বন্ধ রাখলে ভিসা সেন্টারে মিছিল করে ভিসার দাবীতে!
এরা কারা? কোথায় থাকে? কি খায়?
-সুষুপ্ত পাঠক









