অত্যন্ত ভুল পদক্ষেপ নিয়ে ফেললেন নেহা-বোরা,ঘোষণা করে বসলেন: ‘তাদের এই আন্দোলনের অনুপ্রেরণা বাংলাদেশের জেন-জি’!!!
মুশকিলটা হচ্ছে, বাংলাদেশের তথাকথিত ‘জুলাই-আন্দোলনকে’ যারা মেধা-আন্দোলন নাম দিয়ে সূচনা করেছিল, তা কিভাবে অ্যানার্কি তৈরির সোপান হয়েছিল,তা মোটামুটি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যাবহারকারীরা জানে। এটা যে Concocted— সেটা ভারতের মানুষ দ্রুতই বুঝে গেলো।
কমিউনিস্ট নেহা ইস্যুটা শুরু করেছিল ‘নীট’ কেলেঙ্কারি নিয়ে— যা যথার্থ। কিন্তু শুরুতেই দেখা গেলো ‘নাম রহেগা আল্লাহ’র মতো স্লোগান—মানুষ বুঝে ফেললো,তবুও ছাত্রছাত্রীদের ওপর সাধারণ জনগণের একটা আলাদা সমর্থন ছিল-তার ফায়দা নিতে সম্পূর্ণ ব্যার্থ হলো। ধর্মেন্দ্র প্রধানের অপসারণ সাফল্য নয়-একথা আমি আগেও লিখেছি,কেউ সমর্থন করেছেন কেউ করেননি-তাদের যুক্তি ছিল ‘অ্যাকাউন্টিবিলিটি’ নিয়ে পদত্যাগ করতে হবে।
আমার যুক্তি ছিল আগে সিস্টেমের গোড়া সংশোধন করার নীল-নকশা চাই: অন্যথায় ব্যাপারটা হবে:’যে যায় লঙ্কায়,সেই হয় রাবণ’।
ইস্যু বদলালো,কিন্তু ঘুন ধরা সিস্টেমের কোনো বড় সংশোধনী প্রকাশ্যে এলো না,আরশোলার-ও ‘নীট’ইস্যু নিভে এলো(কারণ প্রাইমারি উদ্দেশ্য সেটা ছিল না)। ইস্যু দাঁড়ালো: ‘গণতন্ত্র বিপন্ন’!!
পাশে দাঁড়ালো রাহুল গান্ধী,সিপিএম থেকে যত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাওয়া বিরোধীরা।
নেহা বোরা যে আদর্শকে মেনে চলেন,সেই আদর্শের মূলেই কিন্তু ‘গণতন্ত্র’নেই। কেউ যদি নেহার মতাদর্শগুলো একটু খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন তাহলেই দেখতে পাবেন তাদের গণতন্ত্রের আড়ালে থাকা ভণ্ডামি।
ডিফিউজড থিংকিং এখানেই প্রাসঙ্গিক হয়ে পরে। আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যাবস্থায় এর অভাব আমরা নিজেরাই ফেস করেছি। ধরুন,আপনার সারাদিনের কাজ,অর্থাৎ,গত ২৪ ঘন্টায় কি কি করেছেন তাকে যদি ৮ মিনিটে বলতে বলা হয় এবং আপনি যদি সেটা গুছিয়ে বলতে না পারেন,মোটামুটিভাবে ধরে নিতে পারেন আপনার ডিফিউজড থিংকিং বেশ দুর্বল। প্রব্লেম সল্ভিংয়ে এই থিংকিং প্র্যাকটিস করা খুব গুরুত্ত্বপূর্ণ।
নিজের স্বাধীন সত্তাকে বিকশিত করা খুব গুরুত্ত্বপূর্ণ। কামুর দর্শন বা নীৎসের অ্যাবসার্ডিজম/ একসিস্টেন্সিয়ালিজম,পজিটিভ নিহিলিজম এজন্যই পাঠের দরকার।
মাণ্ডুক্য উপনিষদ: অ্যাক্টিভ এবং অব্জারভিং মাইন্ড- ব্যাখ্যা দেয় আমাদের সত্তা বিচ্ছিন্ন করে কিভাবে তা দুঃখ এবং ডিপ্রেশনের কারণ হয়,আনন্দ বা ব্লিসফুল স্টেট্ কখন আসে।
লেনিনবাদের জ্ঞানগত একাধিকার মার্কসবাদকে সামাজিক বিশ্লেষণের শক্তি না ভেবে ইতিহাসের অব্যর্থ বিজ্ঞান এবং পার্টিকে তার অনুমোদিত ব্যাখ্যাকারী ধরলে বিরোধী তথ্য অজ্ঞতা বা ষড়যন্ত্র হয়!! বিজ্ঞান ভুল প্রমানের পথ খোলা রাখে,বিপরীতে ‘মতাদর্শিক’ বিজ্ঞান ফল আগে ঠিক করে প্রমান সাজায়!!
প্রতিনিধিত্ত্বের বদলের ধারাটি কিরকম? জনগণ>শ্রেণী>পার্টি>কেন্দ্রীয় নেতৃত্ত্ব: প্রতিটি ধাপে জবাবদিহি কমে,শেষে নেতা মানুষের বিরুদ্ধে মানুষকেই রক্ষার দাবি করতে পারেন। উদাহরণ : গণপরিষদ ভাঙা এবং ক্রন্সট্যাড দমন।
নৈতিক ব্যতিক্রম? সেখানেও ভ্রান্তি!! শ্রেণীসংগ্রামের সাফল্য যদি নৈতিকতার শেষ মাপকাঠি হয়,তবে নিরীহের অধিকার শর্তাধীন হয়ে পড়ে। নিজের দলের হত্যা প্রতিরোধ আর অন্য দলের প্রতিরোধ হত্যা— দ্বৈত অভিধানের জন্ম দেয়।
ভারতের মানুষকে বাংলাদেশের মানুষ ভাবাটাই চরম ভুল—এই স্টেটমেন্ট নেহাদের গ্রহণযোগ্যতা আরোই তলানিতে নিয়ে গেলো।









