মিরসরাই প্রতিনিধি
ভয়াবহ বন্যায় মিরসরাইয়ে তীব্র গো খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন খামারি ও প্রান্তিক কৃষকরা। উপজেলায় অন্তত ৫০ হাজার গবাদি পশুর খাদ্য সংকট রয়েছে খামারিদের দাবি। গত ২১ আগস্ট থেকে ফেনী নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় এই উপজেলার ১১ ইউনিয়ন প্লাবিত হয়। পানিবন্দী হয়ে পড়ে দুই লাখ মানুষ। বন্যায় গরু, মহিষ, ছাগলসহ শতাধিক পশু মারা গেছে। পচে গেছে ১০০ টন শুকনো ঘাস ও ৫০ একর জমিতে চাষ করা নেপিয়ার ঘাস। খাদ্যের অভাবে অনেক পশু অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে। গবাদি পশুর খাদ্য সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন খামারিরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বন্যায় উপজেলার করেরহাট, হিঙ্গুলী, জোরারগঞ্জ, ধুম, ওচমানপুর, ইছাখালী, কাটাছরা, দুর্গাপুর, মিঠানালাসহ ১১ ইউনিয়ন প্লাবিত হয়। এসব এলাকায় ১০ দিন ধরে গলা সমান পানি থাকায় শুকনো সব খড়ের গাদা পচে গেছে। এছাড়া বিভিন্ন খামারির চাষ করা প্রায় ৫০ একর জমির ঘাসও পচে গেছে।
খৈয়াছড়া ইউনিয়নের কৃষক ভুট্টু বলেন, এবারের বন্যায় পানি যেমন উঠছে তেমনি আবার পানি দীর্ঘদিন থাকায় গরুর ঘাস পচে গেছে। এখন প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের পাহাড়ী এলাকা থেকে ঘাস সংগ্রহ করে ঘাসের কিছুটা সংকট মিটাচ্ছি।
গরুর খামারী আনোয়ার ডেইরি এগ্রো ফার্মের সত্বাধিকারী আনোয়ার বলেন, আমার খামারে অর্ধশত গরু রয়েছে। এসব গরুর জন্য প্রায় দুই একর জমিতে ঘাসের চাষ করেছি। এবারের বন্যায় পানির নিচে সব ঘাস পচে গেছে। এখন গরুর খাদ্য নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছি।
উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের পশ্চিম জোয়ার এলাকার কৃষক জানে আলম বলেন, অভাবের সংসারে কষ্ট করে হলেও দুইটি গরু পালন করে আসছিলাম। জমিতে ঘাসের চাষও করেছিলাম। বন্যায় পুরো এলাকা প্লাবিত হয়ে সব ঘাস পচে গেছে। এখন আশপাশে ঘাস পাওয়া যাচ্ছে না, দুই কিলোমিটার দূরে থেকে গরুর জন্য ঘাস সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
হিঙ্গুলী ইউনিয়নের আজমনগর গ্রামের ইকবাল হোসেন জানান, বন্যার পানিতে বেশিরভাগ গো-চারণ ভূমি তলিয়ে গেছে। বন্যায় গো-চারণ ভূমি তলিয়ে যাওয়ায় বাজার থেকে চড়া মূল্যে শুকনো খাবার কিনে গবাদিপশু পালনের ক্ষমতা অনেকের নেই। সে কারণে প্রতিদিন নিজেদের খাবার না জুটলেও গবাদিপশুর খাদ্য জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষক শিপন বলেন, একটা গাভী ও একটা বাচুর লালনপালন করেছি। বন্যার কারণে সব শুকনো খাওয়ার নষ্ট হয়ে গেছে। কোনোমতে ভাতের মাড় ও অল্প কিছু ভুসি মিশিয়ে খাওয়াচ্ছি। কিন্তু ঘাস না থাকায় দিন দিন গরু শুকিয়ে যাচ্ছে।
মিরসরাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জাকিরুল ফরিদ জানান, আগস্ট মাসের বন্যায় উপজেলার ১১ ইউনিয়ন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ১০০ টন শুকনো খড় ও ৫০ একরের কাঁচা ঘাস নষ্ট হয়ে গেছে। উপজেলায় ৯৭ হাজার গবাদি পশু রয়েছে। এরমধ্যে ২৮ হাজার পশুর খাদ্য সংকট রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব ইউনিয়নের খামারি ও কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায় গবাদিপশুর বিভিন্ন ধরনের রোগবালাইয়ে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা রয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকার গবাদিপশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার গবাদিপশুর টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণপাড়ায় পারিবারিক কলহের জেরে শাশুড়িকে মারধরের অভিযোগ, আটক পুত্রবধূ
মোঃ আবদুল্লাহ বুড়িচং (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে ৬২ বছর বয়সী শাশুড়ি আরজিনা বেগমকে মারধর...





