মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে টেকসই পর্যটন উন্নয়নে পর্যটন বাস সার্ভিস চালু, যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন, নিরাপত্তা জোরদার, প্রবেশ ফি কমানো এবং পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অংশীজনরা। পাশাপাশি ঝরনাকেন্দ্রিক পর্যটনে উদ্ধারকর্মী বাড়ানো, শৌচাগার ও গোসলের ব্যবস্থা, আলোকসজ্জা এবং শিশু-কিশোরদের বিনোদন সুবিধা নিশ্চিত করার প্রস্তাবও তুলে ধরেন তাঁরা। বুধবার (১৪ অক্টোবর) মিরসরাই উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের আয়োজনে এবং মিরসরাই উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ‘দায়িত্বশীল ও টেকসই পর্যটন উন্নয়নে গণমাধ্যমকর্মী ও অংশীজনদের কর্মশালা’ অনুষ্ঠিত হয়। এতে পর্যটন খাতের সম্ভাবনা, সমস্যা ও উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সোমাইয়া আক্তারের সঞ্চালনায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কর্মশালার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) আবু সেলিম মাহমুদ-উল হাসান।
কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীরুল কাদের, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মহিউদ্দিন জিলানী, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ইসমাইল, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শাহ আলম, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফেরদৌস হোসেন, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরিফুর রহমান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাবরিনা রহমান লিনাসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা। এ ছাড়া স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
কর্মশালায় মিরসরাইয়ের খৈয়াছড়া, বাওয়াছড়া, রূপসী ও সহস্রধারা ঝরনাসহ সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্রগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পর্যটকদের যাতায়াত সহজ করতে নির্দিষ্ট রুটে পর্যটন বাস সার্ভিস চালু এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারের প্রস্তাব দেন অংশীজনরা। বিশেষ করে ঝরনাকেন্দ্রিক পর্যটনে দুর্ঘটনা মোকাবিলায় পর্যাপ্ত উদ্ধারকর্মী ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
অংশীজনরা বলেন, পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত শৌচাগার, গোসলের ব্যবস্থা, আলোকসজ্জা ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শিশু ও বড়দের বিনোদনের জন্য বিভিন্ন রাইড, ক্যাবলকার ও পিস মিউজিয়াম স্থাপনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়। পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য প্রবেশ ফি সহনীয় পর্যায়ে রাখা, নির্দেশনামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন এবং পর্যটনকেন্দ্রে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কর্মশালায় দায়িত্বশীল ও টেকসই পর্যটন বিকাশে গণমাধ্যমের ভূমিকা, স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, মিরসরাইয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঝরনা ও দর্শনীয় স্থানগুলোকে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতে পরিকল্পিত প্রচারণা প্রয়োজন।
তাঁরা আরও বলেন, পর্যটনশিল্পের বিকাশের পাশাপাশি প্রাকৃতিক পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও প্রতিবেশব্যবস্থা সংরক্ষণ করতে হবে। অপরিকল্পিত পর্যটন কার্যক্রম যাতে প্রকৃতির ক্ষতির কারণ না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, পরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপদ যাতায়াত, পর্যাপ্ত পর্যটকসেবা এবং পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে মিরসরাইয়ের পর্যটন খাত আরও সমৃদ্ধ হবে। এতে স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।









