রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি: পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে হাজারো মানুষের ভিড়ে মুখরিত রংপুর টাউন হল চত্ত্বর। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কয়েক শত শিক্ষার্থী হাজির হন টাউন হলে। বাদ যায়নি সাহিত্য-সংস্কৃতি অনুরাগীসহ সচেতন মহলের পদচারণা। সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের ঢল নামে সেখানে। সকাল ৯টার দিকে রোভার স্কাউটের কয়েকজন শিক্ষার্থী হাতে হাত রেখে ঐক্যের বন্ধনে সৃষ্টি বিস্ময়কর স্থাপনা পদ্মা সেতু নিয়ে হাজির হন। তখন সবার নজর পড়ে পদ্মা সেতুর প্রতীকী অবকাঠামোর দিকে। যেন মুহূর্তের মধ্যে অন্যরকম অনুভূতিতে মন ভরে যায়। রংপুর টাউন হল চত্ত্বর থেকে সকাল ৯টা দশ মিনিটে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে বের করা হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। বিভিন্ন রঙের টি শার্ট, ঘোড়ার গাড়ি, ঢাক-ঢোল আর সানাইয়ের সুরে শোভাযাত্রার উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে নগরজুড়ে। শোভাযাত্রার সামনে ছিল প্রতীকী পদ্মা সেতুর অবকাঠামো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রদর্শন করা হয় ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড। শোভাযাত্রাটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জিলা স্কুল মাঠে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার আবদুল ওয়াহাব ভূঞা, বাংলাদেশ পুলিশের রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য্য, রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসান, রংপুর জেলা পুলিশ সুপার ফেরদৌস আলী চৌধুরী, মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মেহেদুল করিম, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র মাহমুদুর রহমান টিটু, রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহম্মেদ, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিউর রহমান সফি প্রমুখ। জেলা প্রশাসনের শোভাযাত্রা ছাড়াও দুপুরে র্যালি করেছে সিটি করপোরেশন, জেলা পুলিশ, মেট্রোপলিটন পুলিশ, টুরিস্ট পুলিশ, পিবিআই, জেলা ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সংগঠন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় একই মাঠে আতশবাজি ফুটিয়ে আনন্দ-উল্লাস আর রংপুর অঞ্চলের খ্যাতনামা শিল্পীদের পরিবেশনায় স্মরণীয় করে রাখে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী দিনটি। পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী আমেজে রংপুরকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়।
জমি না দিয়েই মহাসড়কের অধিগ্রহণের টাকা উত্তোলনের অভিযোগ
বায়েজিদ পলাশবাড়ী গাইবান্ধা) : পলাশবাড়ীতে মুনছুর আলীর বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ, ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণ না হলেও প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে মুনছুর আলী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষতিগ্রস্ত জমির অংশীদাররা। অভিযোগ রয়েছে, পলাশবাড়ী পৌর শহরের নুনিয়াগাড়ী মৌজার সাবেক ৭৯/৮০ নম্বর দাগ এবং বর্তমান ৮৩১ নম্বর দাগের ০.০৯৪৮ একর জমির বিপরীতে ৫ কোটি ৫৬ লাখ ৪৩২ টাকা অধিগ্রহণের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, ওই পরিমাণ জমি বাস্তবে মহাসড়কের জন্য অধিগ্রহণ বা হস্তান্তর করা হয়নি। ভুক্তভোগী রেখা বেগমসহ অন্যান্য অংশীদারদের অভিযোগ, সাসেক প্রকল্প-২ সংশ্লিষ্টদের আপত্তি, অন্যান্য অংশীদারদের আপত্তি এবং এলএমসি কেস নং ২৭০/২০২৩-২০২৪ ও এলএ কেস নং ১১/২০১৯-২০২০-এর বিষয়গুলো নিষ্পত্তি না করেই মুনছুর আলীর নামে অধিগ্রহণের অর্থের চেক হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের দাবি, বিষয়টি যথাযথভাবে সরেজমিন যাচাই না করে কাগজপত্রের ভিত্তিতে অর্থ ছাড় করা হয়েছে। দলিলের হিসাবেও উঠছে প্রশ্ন অভিযোগকারীদের দেওয়া কাগজপত্রের তথ্য অনুযায়ী, নুনিয়াগাড়ী মৌজার এসএ খতিয়ান-১৬, আরএস খতিয়ান-২৫ এবং জেএল নম্বর-৬৯-এর সাবেক ৭৯/৮০ নম্বর দাগে মুনছুর আলীর বাবা মৃত মোফাজ্জল হোসেন ১৯৫৩ সালের ২১ জানুয়ারি ৪২৫ নম্বর দলিলের মাধ্যমে মোট ১২৭ শতাংশ জমির মালিকানা লাভ করেন। পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালের ১৯ নভেম্বর ০১/৬৯ নম্বর কেসের মাধ্যমে সড়ক বিভাগের কাছে ৩২ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করা হয় বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে এতে মোফাজ্জল হোসেনের নামে অবশিষ্ট থাকার কথা ৯৫ শতাংশ জমি। এরপর ২০০২ সালে বিভিন্ন দলিলের মাধ্যমে ওই জমির একটি অংশ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে হস্তান্তর করা হয় ২১৬৯ নম্বর দলিলে ছেলে আল মামুনকে ৩৯ শতাংশ, ২১৭০ নম্বর দলিলে স্ত্রী হালিমা বেগমকে ৩ শতাংশ এবং ২১৯৪ নম্বর দলিলে দুই মেয়ে রোকেয়া বেগম ও শাহিনা পারভীনকে পৃথকভাবে ৫ শতাংশ করে মোট ১০ শতাংশ জমি দেওয়া হয়।...







