————————————————————————
ডাঃ মতিউর রহমান,সরিষাবাড়িঃ
দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সংকটে বন্ধ থাকা যমুনা সার কারখানা ও বেকারত্বে জর্জরিত সরিষাবাড়ীকে বাঁচাতে ৮ দফা সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রস্তাব করেছেন লেখক, কলামিস্ট ও গবেষক আল আমীন মিলু।
প্রস্তাবটি শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী বরাবর পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।
কি আছে ৮ দফা প্রস্তাবে?
প্রস্তাবনায় সরিষাবাড়ীকে শুধু সার কারখানা নির্ভর না রেখে একটি কৃষিভিত্তিক শিল্প, কর্মসংস্থান ও টেকসই অর্থনৈতিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর জন্য ৮ টি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে:
১. কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প পার্ক
২. ভুট্টা ও কৃষিপণ্যভিত্তিক শিল্প কমপ্লেক্স
৩. যমুনা নদীকেন্দ্রিক পর্যটন প্রকল্প
৪. যুব দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান কেন্দ্র
৫. নারী উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র শিল্প ক্লাস্টার
৬. সৌরশক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প
৭. কৃষিযন্ত্র সেবা, মেরামত ও যন্ত্রাংশ কেন্দ্র
৮. সমন্বিত বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট ও জৈব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প
কিভাবে বাস্তবায়ন হবে?
প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বাস্তবায়নের আগে পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হবে। এতে জমি, কাঁচামাল, বাজার, অবকাঠামো, পরিবেশগত প্রভাব ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা যাচাই করা হবে।
প্রথম বছরে সমীক্ষা ও প্রশিক্ষণ, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বছরে অবকাঠামো নির্মাণ, শিল্প ও বায়োগ্যাস প্রকল্প চালু, নারী উদ্যোক্তা ক্লাস্টার গঠন এবং চতুর্থ ও পঞ্চম বছরে সফল প্রকল্প সম্প্রসারণ ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রস্তাবনায় শিল্প, কৃষি, যুব উন্নয়ন, নারী উন্নয়ন, পর্যটন, বিদ্যুৎ, পরিবেশ, স্থানীয় সরকার, বিসিক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ, কারিগরি সহায়তা ও বাজার সংযোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে আল আমীন মিলু বলেন, “সরিষাবাড়ীর মাটি ও মানুষের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। যমুনা সার কারখানার ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে স্থানীয় কৃষি, নদীসম্পদ ও মানবসম্পদকে কাজে লাগাতে পারলে সরিষাবাড়ী জ্বালানি ও টেকসই অর্থনীতির একটি আঞ্চলিক কেন্দ্রে রূপান্তরিত হবে। এজন্য একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সম্ভাব্যতা সমীক্ষা কমিটি গঠন করা জরুরি।”
স্থানীয় সচেতন মহল এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।







