আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহী-১ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাংসদ আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরীকে রাজনীতিতে কোনঠাসা করতে গিয়ে রাজশাহী মহানগরীর এক প্রভাবশালী নেতা নিজেই কোনঠাসা হয়ে পড়েছে। ফারুক চৌধূরীর লেজ কাটতে গিয়ে তার নিজের লেজেই পা পড়েছে। এতে তার রণেভঙ্গ ও ক্যারামতির অবসান ঘটেছে। অথচ যেখানে বসে তিনি ফারুকবিরোধী ষড়যন্ত্র করছেন, ফারুক চৌধুরীই তাকে সেখানে বসিয়েছেন। একটা সময় তিনি ছিলেন নিঃস্ব ফারুক চৌধুরী গাঁটের পয়সা খরচ করে তাকে এখানে বসিয়েছেন। এদিকে তার উদ্দেশ্যে ছিল যেকোনো ভাবে ফারুক চৌধুরীকে সরাতে পারলে, সেখানে তার পরিবারের কাউকে বসাতে পারবেন। যে কারণে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফারুক চৌধুরীর পরাজয় নিশ্চিত করতে তিনি বিপুল অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন বলে আলোচনা রয়েছে। কিন্ত্ত ফারুক চৌধুরীর বিজয়ের মধ্যে দিয়ে তার ক্যারামতির অবসান ঘটেছে। ফারুক চৌধুরী সম্পর্কে তার কোনো ধারণা ছিলো না। ফারুক চৌধুরী উড়ে এসে জুড়ে বসা নেতৃত্ব নয়, তার শেকড় কত গভিরে সেটা তিনি এবার টের পেয়েছেন। অথচ তার নেতৃত্বে এমপি ফারুকবিরোধীরা নানা ষড়যন্ত্র, অপতৎপরতা ও সংগঠনবিরোধী নানা কর্মকান্ড করেও ফারুক চৌধুরীর জনসমর্থনের কাছে আবারো পরাজিত হয়েছেন। এবার সে রণেভঙ্গ দিয়ে লেজ গুটিয়েছে। তার নেতৃত্বে গড়ে উঠা ফারুক বিরোধী শিবিরে নেমে এসেছে অমবশ্যার ঘোর অন্ধকার চোখেমূখে ফুটে উঠেছে হতাশার চিত্র। আগামিতে ফারুক চৌধুরীর আর্শীবাদ ব্যতিত তার পক্ষে তার জায়গা ধরে রাখায় দুরুহ। এটা উপলব্ধি পর সেই চিন্তায় তার রাতের ঘুম হারাম হয়েছে। ফারুক চৌধুরী কত বড় রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবার সেটা সে হাড়ে হাড়ে টের পাবে।
স্থানীয়রা জানান, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ও
বিগত জেলা পরিষদ নির্বাচনে এই নেতা নৌকাবিরোধীতা করে পরাজিত হয়েছেন। রাজশাহীর সিংহভাগ সাংসদ, দল এবং জোটের শরীকদের পাশাপাশি আদর্শিক পরিক্ষিত ও সিনিয়র নেতাকর্মীরা তাকে ত্যাগ করেছে, একই সঙ্গে তৃণমুলের নেতাকর্মীরাও তার ওপর থেকে মূখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে। তার পরিবারের বিরুদ্ধে জামায়াত-শিবির প্রীতির অভিযোগ উঠেছে। যা নিয়ে রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গনে রীতিমতো তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম সংকটে পড়েছে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার। এবার নিজের জায়গা ধরে রাখতে গিয়ে বুঝবে কত ধানে, কত-চাল। বুঝতে পারবে ফারুক চৌধুরী কোন পর্যায়ের নেতৃত্ব।
জানা গেছে, ফারুক চৌধুরী এমপি শহীদ পরিবারের সন্তান, বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী ও অপ্রতিদন্দী নেতৃত্ব। দলের ভিতর এবং বাইরের নানা ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার, প্রতিহিংসা ও গুজবের বহু অন্ধকার গলিতেও তিনি পথ হারাননি এবং গতানুগতিক রাজনীতির স্রোতে গা ভাসিয়ে দেননি।নিজস্ব, স্বকীয়তা ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন অমায়িক ব্যবহার ও প্রচণ্ড সাহসী নেতৃত্বের লৌহমানব এই মানুষটি ছাত্র রাজনীতির সীমানা অতিক্রম করে ধীরে ধীরে গণমানুষের আকাঙ্ক্ষার পুরুষে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার প্রতি সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসার যে বহিঃপ্রকাশ তাতে তিনি না চাইলেও তানোর-গোদাগাড়ীর মানুষ তাকেই তাদের নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এখানে তার কোনো বিকল্প নাই। কারণ সাধারণ মানুষের নিখাদ ভালবাসার চেয়ে বড় কোন শক্তি নাই। যে কারণেে এমপি ফারুক চৌধূরীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং জনমত গড়তে গিয়ে তারা বার বার ব্যর্থ হয়েছেন। এদিকে রাজনীতিতে এই নেতা তার টলমল অবস্থার কথা বুঝতে পেরে আবারো এমপি ফারুক চৌধুরীর সঙ্গে দোস্তী করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।
জানা গেছে, রাজশাহী অঞ্চলে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরী এমপির কোনো বিকল্প নাই, যাকে সবাই রাজনৈতিক অঙ্গনের বিগ বস্ হিসেবেই চেনেন। রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হবার অনেক আগেই তিনি অর্জন করেন সিআইপি মর্যাদা, সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী, এছাড়াও জেলার সভাপতি ও সম্পাদক, রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ও সর্বোচ্চ স্বচ্ছ আয়কর দাতা হয়েছেন এবং বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী। এমপি ফারুকের রয়েছে নিজস্ব স্বকীয়তা, সামাজিক ও পারিবারিক ঐতিহ্য, মর্যাদা এবং পরিচয়। তিনি অনেক আগেই আদর্শিক, কর্মী-জনবান্ধব, সৎ রাজনৈতিকের প্রতিকৃতি ও গণমানুষের নেতার উপাধীও অর্জন করেছেন।#